ছবি: সংগৃহীত
কাস্টমস প্রশাসনে বড় ধরনের রদবদল করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। নতুন প্রজ্ঞাপনে একসঙ্গে ৪৮৫ জন রাজস্ব কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) এনবিআরের শুল্ক ও ভ্যাট প্রশাসন-১ শাখা থেকে এই প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এনবিআরের ইতিহাসে এটি অন্যতম বড় ধরনের পদায়ন ও স্থানান্তর হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, কাস্টমস হাউজ ও বন্ড কমিশনারেটসহ বিভিন্ন দপ্তরে বদলি হওয়া কর্মকর্তাদের নতুন পদায়ন অবিলম্বে কার্যকর হবে। তবে যারা অন্যান্য দপ্তর থেকে বদলি হয়েছেন, তাদের আগামী ৬ অক্টোবরের মধ্যে নিজ নিজ কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত হতে হবে। অবমুক্তি ও নতুন কর্মস্থলে যোগদানের অনুলিপি দ্রুত এনবিআরের শুল্ক ও ভ্যাট প্রশাসন-১ শাখায় পাঠাতে হবে বলেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এটি হঠাৎ কোনো সিদ্ধান্ত নয়। এর আগে তিন দফায় মোট ৭৩৭ জন সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় এবার রাজস্ব কর্মকর্তা পর্যায়ে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হলো। এনবিআরের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মতে, প্রশাসনকে আরও গতিশীল, জবাবদিহিমূলক ও স্বচ্ছ করার জন্যই এই রদবদল।
বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্য ও আমদানি-রপ্তানির রাজস্ব আহরণের বড় অংশ আসে কাস্টমস হাউজগুলো থেকে। শুল্ক গোচর, মূল্যায়ন, আমদানি-রপ্তানির শুল্ক ছাড়পত্র প্রক্রিয়ায় রাজস্ব কর্মকর্তাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে এ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বদলিকে গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। অনেকের মতে, দীর্ঘদিন একই জায়গায় অবস্থান করলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে এক ধরনের ‘কমফোর্ট জোন’ তৈরি হয়, যা রাজস্ব আদায়ে স্বচ্ছতা ও দক্ষতার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাই সময় সময় রদবদল জরুরি হয়ে পড়ে।
এনবিআর সূত্র জানিয়েছে, বর্তমান অর্থবছরের রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা পূরণে প্রশাসনিক কাঠামোতে পরিবর্তন আনা হচ্ছে। রাজস্ব ঘাটতি কমাতে এবং শুল্ক-কর ফাঁকি রোধে নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে কর্মকর্তাদের নতুন দায়িত্বে পাঠানো হয়েছে। কাস্টমস হাউজ, এয়ারফ্রেইট ইউনিট, চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় নতুন কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।
বদলি হওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ মনে করছেন, নতুন কর্মস্থল তাদের জন্য চ্যালেঞ্জ ও অভিজ্ঞতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করবে। আবার অনেকের মতে, হঠাৎ বদলি হওয়ায় পারিবারিক ও ব্যক্তিগত জীবনে কিছুটা অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। তবে বেশিরভাগ কর্মকর্তাই এটিকে প্রশাসনিক স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হিসেবেই দেখছেন।
অর্থনীতিবিদ ও প্রশাসন বিশ্লেষকরা মনে করছেন, কাস্টমস প্রশাসনে নিয়মিত রদবদল প্রয়োজন। এতে রাজস্ব আদায়ে অনিয়ম ও দুর্নীতি কমে আসে এবং কর্মকর্তারা কর্মক্ষমতা ধরে রাখতে বাধ্য হন। তবে একই সঙ্গে তারা সতর্ক করে বলেছেন, কেবল বদলি নয়—ডিজিটাল মনিটরিং, স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং শুল্ক প্রক্রিয়াকে আধুনিক করাও জরুরি।
এনবিআরের এই পদক্ষেপকে অনেকেই আসন্ন অর্থবছরের রাজস্ব ব্যবস্থাপনা কৌশলের অংশ বলে মনে করছেন। চলতি অর্থবছরে রাজস্ব ঘাটতি বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই কাস্টমস ও ভ্যাট ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে প্রশাসনিক কাঠামোতে আরও পরিবর্তন আনা হতে পারে।
সবশেষে বলা যায়, একসঙ্গে ৪৮৫ জন রাজস্ব কর্মকর্তার বদলি কেবল একটি প্রশাসনিক প্রক্রিয়া নয়, বরং এটি এনবিআরের অভ্যন্তরীণ সংস্কার, রাজস্ব আহরণে স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বাড়ানোর একটি বড় পদক্ষেপ। এর ফলাফল কতটা ইতিবাচক হবে, তা সময়ই বলে দেবে।
বাংলাবার্তা/এসজে
.png)
.png)
.png)



