ছবি: সংগৃহীত
সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম ২৩ দিনেই প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স প্রবাহ নতুন গতি পেয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১ সেপ্টেম্বর থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ে দেশে এসেছে মোট ২১৬ কোটি ৪০ লাখ মার্কিন ডলার। গড়ে প্রতিদিন প্রায় ৯ কোটি ৪১ লাখ ডলার করে এসেছে দেশে, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে যেমন স্বস্তি দিচ্ছে, তেমনি পরিবার-পরিজনদের জন্য নির্ভরযোগ্য ভরসা হয়ে উঠছে প্রবাসী আয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) গণমাধ্যমকে জানান, চলতি মাসের প্রথম ২৩ দিনে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ২১৬ কোটি ৪০ লাখ ডলার। গত বছরের একই সময়ে রেমিট্যান্স এসেছিল ১৮৪ কোটি ডলার। অর্থাৎ, বছর ব্যবধানে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে প্রায় ১৭ দশমিক ৬০ শতাংশ।
তিনি আরো জানান, শুধু ২৩ সেপ্টেম্বর একদিনেই দেশে এসেছে ৭ কোটি মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। এটি চলতি মাসের প্রবাহে বড় অবদান রেখেছে।
চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাই থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন মোট ৭০৬ কোটি ৪০ লাখ মার্কিন ডলার। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রবাহ বেড়েছে ১৮ দশমিক ২০ শতাংশ। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি প্রমাণ করছে যে প্রবাসীরা ব্যাংকিং চ্যানেল ব্যবহার করে রেমিট্যান্স পাঠাতে এখন আরও বেশি উৎসাহিত হচ্ছেন।
গত আগস্টে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ২৪২ কোটি ১৮ লাখ ৯০ হাজার মার্কিন ডলার। এর আগে জুলাইয়ে এসেছিল ২৪৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার। যদিও জুলাইয়ের তুলনায় আগস্টে প্রবাহ সামান্য কমেছিল, তবুও সেপ্টেম্বরে প্রবৃদ্ধির ধারা আবারো ইতিবাচক হয়েছে।
এর আগে পুরো ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছিলেন ৩০ দশমিক ৩২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বা ৩ হাজার ৩২ কোটি ৮০ লাখ ডলার। এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে কোনো নির্দিষ্ট অর্থবছরে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স আয়ের রেকর্ড। অর্থনীতিবিদদের মতে, এই অর্জন বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়াতে, বাজেট ঘাটতি মোকাবিলা করতে এবং আমদানি ব্যয় মেটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
রেমিট্যান্স বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি। দেশে বৈদেশিক মুদ্রার সবচেয়ে বড় উৎস হচ্ছে প্রবাসীদের পাঠানো এই আয়। আমদানি ব্যয় ও রিজার্ভ সংকটের চাপের সময়ে রেমিট্যান্স প্রবাহকে অনেকটা ‘অক্সিজেন’ হিসেবে বিবেচনা করছেন অর্থনীতিবিদরা।
তারা বলছেন, রেমিট্যান্স বৃদ্ধির পেছনে রয়েছে সরকারের নানা উদ্যোগ—যেমন বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠালে প্রণোদনা, হুন্ডি প্রতিরোধে কঠোর নজরদারি এবং ব্যাংক ও মানি এক্সচেঞ্জ কোম্পানিগুলোর মাধ্যমে দ্রুত সেবা নিশ্চিতকরণ।
বাংলাদেশ ব্যাংক আশা করছে, আসন্ন উৎসব মৌসুমে (ঈদে মিলাদুন্নবী ও বড়দিন ঘিরে) রেমিট্যান্স প্রবাহ আরও বাড়বে। একইসঙ্গে মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পেলে বছরের শেষ দিকে রেমিট্যান্স আরও ইতিবাচক ধারা বজায় রাখবে।
বাংলাবার্তা/এমএইচ
.png)
.png)
.png)



