ছবি: সংগৃহীত
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশে তৎপরতা শুরু করেছে বিভিন্ন পশ্চিমা দেশ ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান। নির্বাচনের প্রস্তুতি, রাজনৈতিক পরিবেশ ও সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ পর্যালোচনা করতে ঢাকায় অবস্থান করছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রাক-নির্বাচন পর্যবেক্ষক টিম। এ সময় তারা নির্বাচন কমিশন (ইসি) ও নির্বাচনের সঙ্গে যুক্ত উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠকে অংশ নিয়েছেন।
সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি ঢাকায় আসেন ইউরোপীয় পার্লামেন্টের চার সদস্যের প্রতিনিধি দল। দলটি মানবাধিকার বিষয়ক উপকমিটির চেয়ারম্যান মৌনির সাতুরির নেতৃত্বে আসে। ঢাকায় আসার প্রথম দিনেই তারা বিএনপি ও জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন। বৈঠকে বাংলাদেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়া, গণতান্ত্রিক মানদণ্ড, নির্বাচনের পরিবেশ ও রাজনৈতিক দলগুলোর প্রস্তুতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সফরের সময় তারা সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন, যাদের মধ্যে ছিলেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ। পাঁচ দিনের সফরের শেষে শুক্রবার প্রতিনিধি দল ঢাকা ত্যাগ করে। সফরের প্রধান মৌনির সাতুরি এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “আগামী ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন সুষ্ঠু ও স্বচ্ছভাবে হওয়া উচিত। নির্বাচনের ফলাফলের প্রতি সবার শ্রদ্ধাশীল থাকা জরুরি। ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রগতি ও উত্তরণে সমর্থন অব্যাহত রাখবে।”
ইউরোপীয় ইউনিয়নের ‘ইলেকশন এক্সপ্লোরেটরি মিশন’ নামে আট সদস্যের প্রাক-নির্বাচন পর্যবেক্ষক টিম সোমবার ইসির সঙ্গে বৈঠক করে। বৈঠকে নির্বাচনের আগে দেশে রাজনৈতিক পরিবেশ, নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি এবং ইইউ পর্যবেক্ষক টিম পাঠানোর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা হয়।
একই সময় মার্কিন দূতাবাসের চার্জ দি অ্যাফেয়ার্স ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র নির্বাচনের শুরুর দিকে সরকার ও ইসিকে সমর্থন করবে যাতে নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হয়।
নির্বাচনের প্রাক্কালে ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক বিএনপি ও জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেপ্টেম্বরের মধ্যভাগে জামায়াতের সঙ্গে বৈঠক করেন অন্তত ছয়জন শীর্ষ কূটনীতিক, যাদের মধ্যে ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক, ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার, চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন, রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার জি. খোজিন, পাকিস্তানের হাইকমিশনার ও সিঙ্গাপুরের হাইকমিশনার রয়েছেন। বৈঠকে নির্বাচনের পরিবেশ, রাজনৈতিক উত্তেজনা ও দলগুলোর প্রস্তুতি বিষয়ে আলোচনা হয়।
নির্বাচনের অগ্রগতি জানতে বরিশাল বিভাগের নির্বাচন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কয়েকটি দেশের রাষ্ট্রদূতও মতবিনিময় সভায় অংশ নেন। সভায় উপস্থিত ছিলেন ব্রিটিশ হাইকমিশনার এম এস সারাহ কুক, ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার, সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইকস, নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হাকন আরাল্ড গুলব্র্যান্ডসেন, ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি স্টিফান লিলার, অস্ট্রেলিয়ার দূতাবাসের সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার আসিফ কাশেম, ইউএনডিপির সহকারী আবাসিক প্রতিনিধি আনোয়ারুল হক।
নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত সচিব কে এম আলী নেওয়াজ ও বরিশাল আঞ্চলিক নির্বাচন কমিশনার মো. ফরিদুল ইসলামসহ ছয় জেলার সব উপজেলার নির্বাচন কর্মকর্তারা সভায় উপস্থিত ছিলেন। সভায় তারা নির্বাচনের প্রস্তুতি, ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া ও নিরাপত্তা বিষয়ক বিশদ তথ্য তুলে ধরেন।
কূটনীতিকরা বলেন, তাদের উপস্থিতি শুধুমাত্র নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য, কোন প্রার্থী বা রাজনৈতিক দলের পক্ষে নয়। তবে তারা নিশ্চিত করতে চাইছেন যে, নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা, ভোটার নিরাপত্তা, রাজনৈতিক পরিবেশ ও গণতান্ত্রিক মানদণ্ড বজায় রাখাই তাদের মূল লক্ষ্য।
নির্বাচনের জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তা ও সমর্থন অব্যাহত থাকবে। ইউএনডিপি নির্বাচন প্রক্রিয়া শক্তিশালী করতে নির্দিষ্ট প্রকল্প হাতে নিয়েছে। পশ্চিমা রাষ্ট্রদূতরা নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছেন যাতে নির্বাচনের অগ্রগতি নিয়মিতভাবে পর্যবেক্ষণ করা যায় এবং কোনো ধরনের সমস্যা সময়মতো সমাধান করা যায়।
সারসংক্ষেপে বলা যায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ, কূটনৈতিক নজরদারি ও প্রস্তুতি পর্যায়ক্রমে তৎপর হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য দেশ বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও সুষ্ঠু পরিচালনা নিশ্চিত করতে অব্যাহতভাবে তদারকি ও সহযোগিতা করছে।
বাংলাবার্তা/এমএইচ
.png)
.png)
.png)



