ছবি: সংগৃহীত
সীমান্ত এলাকায় মাদক ও কৃষিপণ্যের অদলবদল নিয়ে নতুন এক চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছেন কৃষি ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি জানিয়েছেন, আরাকান আর্মি সরাসরি ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত এবং তাদের কাছ থেকে ইয়াবা নিয়ে বিনিময়ে বাংলাদেশ থেকে সার, ওষুধ, এমনকি চাল পাচার করা হচ্ছে। এ ধরনের কার্যক্রম কেবল মাদক নিয়ন্ত্রণ নয়, বরং দেশের কৃষি উৎপাদন ও খাদ্য নিরাপত্তার জন্যও বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের এক বছরের অর্জন ও সার্বিক অগ্রগতি তুলে ধরতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে কৃষি খাতের সামগ্রিক সাফল্যের পাশাপাশি সার, আলু, বীজ ও কৃষিপণ্যের বাজার ব্যবস্থাপনা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেন তিনি।
উপদেষ্টা জানান, সার ব্যবস্থাপনা নিয়ে একটি নীতিমালা ইতোমধ্যে তৈরি করা হয়েছে। এখন তা জাতীয় কমিটির অনুমোদনের অপেক্ষায়। কমিটির প্রধান শিল্প উপদেষ্টা বর্তমানে বিদেশে রয়েছেন। তিনি দেশে ফিরলেই আগামী সপ্তাহে নীতিমালা অনুমোদন করা হবে। এতে সারের ডিলারদের ক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হচ্ছে।
তিনি বলেন, “প্রয়োজনের বেশি সার দিলেই তা পাচার হয়ে যায়। এ কারণে কোথাও অতিরিক্ত সার দেওয়া হবে না। আমি যতদিন দায়িত্বে থাকব, ততদিন সারের দাম বাড়বে না।”
নীতিমালায় অনিয়মে জড়িত ডিলারদের বিরুদ্ধে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। পাশাপাশি কৃষকদের প্রয়োজন অনুযায়ী সার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, “সারের দাম বৃদ্ধির কোনো প্রশ্নই আসে না। পাচার রোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, পেট্রোবাংলা গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে। তবে গ্যাসের দাম বাড়লেও উৎপাদন খরচের চাপ কৃষকদের ওপর বর্তাবে না। অন্তত তিনি দায়িত্বে থাকা অবস্থায় সার দাম বাড়ানো হবে না বলে আশ্বস্ত করেন।
কৃষি উপদেষ্টা জানান, গত এক বছরে দেশে রেকর্ড পরিমাণ আলু উৎপাদন হয়েছে—১১৫.৭৩৬ মেট্রিক টন। উৎপাদন বেশি হওয়ায় আলুর দাম পড়ে গেছে এবং কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না।
তিনি বলেন, “কোল্ড স্টোরেজে এখন বিপুল পরিমাণ আলু মজুত রয়েছে। এ অবস্থায় কৃষকদের ক্ষতি যাতে না হয়, সেজন্য সরকার ৫০ হাজার মেট্রিক টন আলু কিনে নেবে।”
এছাড়া প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ থেকে চীনে আলু রপ্তানি করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, “দেশি আলু দিয়ে মানসম্মত চিপস তৈরি হয় না। কারণ আমাদের আলুতে পানির পরিমাণ বেশি। তাই বিদেশ থেকে নতুন আলুর বীজ আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে প্রসেসড ফুড শিল্পে দেশীয় আলুর ব্যবহার বাড়ে।”
সবচেয়ে আলোচিত অংশ ছিল ইয়াবা পাচার ও কৃষিপণ্যের বিনিময়। তিনি বলেন, “আরাকান আর্মিরা ইয়াবার ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তাদের কাছ থেকে ইয়াবা এনে বিনিময়ে সার, ওষুধ, চাল পাচার হচ্ছে। এটি শুধু কৃষিক্ষেত্রের ক্ষতি করছে না, বরং দেশের নিরাপত্তার জন্যও বড় হুমকি।”
তিনি জোর দিয়ে বলেন, সার পাচার রোধে সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে কঠোর ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
কৃষি উপদেষ্টা জানান, বাংলাদেশের কৃষকরা গত এক বছরে রেকর্ড উৎপাদন করেছে। তবে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা এবং পাচার বন্ধ করা। এজন্য নীতিমালা প্রণয়ন, ডিলার পরিবর্তন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারি এবং আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণে জোর দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, “আমরা যদি সঠিকভাবে উৎপাদন নিয়ন্ত্রণ ও বাজার ব্যবস্থাপনা করতে পারি, তাহলে কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হবে না, বরং রপ্তানি বাজারে বাংলাদেশ বড় সাফল্য পাবে।”
বাংলাবার্তা/এমএইচ
.png)
.png)
.png)



