ছবি: সংগৃহীত
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ব্যবহারের উদ্দেশ্যে নির্ধারিত প্রতীকগুলোর তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) কমিশন এক গেজেট প্রকাশ করে জানায়, এবার মোট ১১৫টি প্রতীক সংরক্ষণ করা হয়েছে, যার মধ্যে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতীকও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ইসির প্রকাশিত গেজেট ঘেঁটে দেখা গেছে, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) যে শাপলা প্রতীক দাবি করেছিল, তা এবার প্রতীক তালিকায় রাখা হয়নি। একই সঙ্গে, একসময় দেশের সবচেয়ে পরিচিত ও আলোচিত প্রতীক আওয়ামী লীগের নৌকা-ও তালিকা থেকে বাদ গেছে। নৌকা প্রতীকটি বর্তমানে স্থগিত রাখা হয়েছে, কারণ রাজনৈতিক কার্যক্রমে নিষিদ্ধ ঘোষিত হওয়ায় আওয়ামী লীগ আর আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না।
নির্বাচন কমিশনের একজন কর্মকর্তা বলেন, “আমরা নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালার আলোকে প্রতীক তালিকা প্রকাশ করেছি। যেসব দল আইনগত বা প্রশাসনিক কারণে অংশ নিতে পারছে না, তাদের প্রতীক গেজেটে রাখা হয়নি।”
নতুন গেজেট অনুযায়ী, মোট ৫১টি প্রতীক সংরক্ষিত হয়েছে ৫১টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের জন্য। প্রতিটি নিবন্ধিত দল তাদের স্থায়ীভাবে নির্ধারিত প্রতীকেই নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে। বাকি ৬৪টি প্রতীক রাখা হয়েছে নতুন নিবন্ধন পাওয়া দল কিংবা স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য। এসব প্রতীক থেকেই নতুন রাজনৈতিক দল বা স্বতন্ত্র প্রার্থীদের নিজেদের প্রতীক বেছে নিতে হবে।
ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন দল বা স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে কেউ যদি প্রতীকের জন্য আবেদন করে, তবে তারা নিবন্ধিত দলের প্রতীক চাইতে পারবে না। তাদের জন্য রাখা হয়েছে আলাদা প্রতীক তালিকা। এতে যেমন রয়েছে—কোদাল, হাতুড়ি, লণ্ঠন, চেয়ার, সাইকেল, আলমারি, মই, কুলা, তালগাছ, পাখি ইত্যাদি।
একজন সিনিয়র কর্মকর্তা বলেন, “আমাদের প্রতীক তালিকায় বৈচিত্র্য রাখা হয়েছে, যাতে নতুন প্রার্থী বা ছোট দলগুলো সহজে তাদের প্রতীক পেতে পারে। প্রতীক বরাদ্দের সময় প্রার্থীর আবেদন, এলাকার প্রেক্ষাপট এবং ভোটারের বুঝতে সুবিধা হবে কি না—এসব বিষয় বিবেচনায় রাখা হবে।”
নৌকা প্রতীক বাদ যাওয়ার খবরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। আওয়ামী লীগ দীর্ঘদিন ধরে এই প্রতীক নিয়ে ভোটে লড়েছে। ১৯৭০ সালের নির্বাচন থেকে শুরু করে স্বাধীনতার পর প্রতিটি সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকই ছিল দলের পরিচিতি। প্রতীকটি বাদ পড়ায় অনেকেই একে বাংলাদেশের রাজনীতির বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন।
অন্যদিকে, জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতারা দাবি করেছেন যে, তাদের দলীয় প্রতীক হিসেবে শাপলা থাকা উচিত ছিল। তবে কমিশনের গেজেটে প্রতীকটি রাখা হয়নি। এনসিপির এক নেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “শাপলা আমাদের রাজনৈতিক দর্শনের প্রতীক। অথচ কমিশন তা উপেক্ষা করল। আমরা আইনগতভাবে বিষয়টি চ্যালেঞ্জ করার কথা ভাবছি।”
বাংলাদেশের ভোটের সংস্কৃতিতে প্রতীকের গুরুত্ব সব সময়ই বিশেষ। অনেক ভোটার সরাসরি প্রতীক দেখে প্রার্থীকে চেনেন। এ কারণে রাজনৈতিক দলগুলো তাদের কাঙ্ক্ষিত প্রতীক ধরে রাখার জন্য লড়াই চালিয়ে যায়। বিশেষ করে গ্রামীণ ও প্রান্তিক ভোটারদের কাছে প্রতীকের গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এবারের প্রতীকের তালিকা নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় নতুন এক অধ্যায় যুক্ত করবে। বিশেষ করে নৌকা প্রতীক ছাড়া নির্বাচন কেমন হয়, ভোটাররা কীভাবে তা গ্রহণ করে—এটি এখন সবার নজরে থাকবে।
প্রতীক তালিকা প্রকাশ নির্বাচন প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। সাধারণত গেজেট প্রকাশের পর রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীরা আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রস্তুতি শুরু করে। এবারও কমিশন জানিয়েছে, প্রতীক বরাদ্দ সংক্রান্ত পরবর্তী নির্দেশনা প্রার্থীদের জানিয়ে দেওয়া হবে।
ইসির কর্মকর্তারা বলছেন, এই গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে নির্বাচন প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক স্পষ্ট হয়েছে। এখন দল ও প্রার্থীরা নিশ্চিতভাবে জানতে পারছেন, তারা কোন প্রতীক নিয়ে মাঠে নামতে পারবেন।
বাংলাবার্তা/এমএইচ
.png)
.png)
.png)



