ছবি: সংগৃহীত
শারজাহর চেনা মাঠে আরও একটি হতাশাজনক পারফরম্যান্সের গল্প লিখল বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল। ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালের সমীকরণ মেলাতে যেখানে আফগানিস্তানকে ১১৯ রানের মধ্যে অলআউট করার মতো কঠিন কিন্তু অলৌকিক পারফরম্যান্সের প্রয়োজন ছিল, সেখানে ন্যূনতম প্রতিরোধটুকুও গড়তে পারেনি টাইগাররা। ব্যাটিং ও বোলিং—দুই বিভাগেই চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়ে ৭ উইকেটের বড় ব্যবধানে হেরে টুর্নামেন্টের গ্রুপ পর্ব থেকেই লজ্জাজনক বিদায় নিল বাংলাদেশ। টানা দ্বিতীয় জয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করা আফগানিস্তান আগামী ২৩ অক্টোবর শিরোপার লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে জিম্বাবুয়ের।
ব্যাটিং বিপর্যয় ও একলা পারভেজ ইমন: শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। তবে সিদ্ধান্তটি সঠিক প্রমাণ করতে ব্যর্থ হন ব্যাটাররা। শারজাহর উইকেটে শুরু থেকেই আফগান বোলারদের স্পিন ও পেসের সামনে চরম ব্যাকফুটে চলে যায় টাইগারদের মিডল ও লোয়ার অর্ডার।
-
ইমনের লড়াই: একপ্রান্তে উইকেট পতনের মিছিলের মাঝে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল ওপেনার পারভেজ হোসেন ইমন। লড়াকু ব্যাটিং করে তিনি দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৭০ রানের একটি চমৎকার ইনিংস খেলেন।
-
অন্যদের ব্যর্থতা: তৌহিদ হৃদয় কিংবা দলের অভিজ্ঞ ও তরুণ ব্যাটারদের কেউই তাকে যোগ্য সঙ্গ দিতে পারেননি।
-
রশিদ খানের তোপ: বিশ্বসেরা লেগ-স্পিনার রশিদ খানের ঘূর্ণিতে একের পর এক ব্যাটার পরাস্ত হন। রশিদ একাই চার উইকেট তুলে নিয়ে বাংলাদেশের বড় সংগ্রহের আশা গুড়িয়ে দেন। ফলে পুরো ৫০ ওভার খেলতে না পেরে মাত্র ১৬০ রানেই গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ।
বোলিং সূচনা ও রহমত শাহর প্রতিরোধ: ১৬১ রানের স্বল্প পুঁজি নিয়ে অলৌকিক কিছু ঘটাতে হলে আফগানিস্তানকে ১১৯ রানের আগে গুটিয়ে দিতে হতো। লক্ষ্য তাড়া করতে নামা আফগান শিবিরে শুরুতেই আঘাত হানেন পেসার তাসকিন আহমেদ। বিপজ্জনক ওপেনার রহমানউল্লাহ গুরবাজকে বোল্ড করার পর বিপজ্জনক সেদিকউল্লাহ আতালকেও দ্রুত প্যাভিলিয়নে ফেরত পাঠান তিনি।
পরবর্তীতে কাটার মাস্টার মুস্তাফিজুর রহমান ৪৮ বলে ৩৪ রান করা ইব্রাহিম জাদরানকে বিদায় করলে কিছুটা আশা জাগে বাংলাদেশ শিবিরে। তবে সেই সম্ভাবনায় পানি ঢেলে দেন অভিজ্ঞ আফগান ব্যাটার রহমত শাহ। একপ্রান্ত আগলে রেখে দারুণ দায়িত্বশীলতার সাথে ৬৬ বলে ফিফটি তুলে নেন তিনি।
আফগানদের সহজ জয় ও ফাইনালের সমীকরণ: রহমত শাহর নিখুঁত ব্যাটিংয়ে ২৭.১ ওভারেই আফগানিস্তানের দলীয় স্কোর ১২১ রান অতিক্রম করে ফেলে, আর তাতেই প্রাতিষ্ঠানিক ও গাণিতিকভাবে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায়ঘণ্টা বেজে যায় বাংলাদেশের। জয়ের বাকি আনুষ্ঠানিকতা সারতে আফগানদের কোনো বেগ পেতে হয়নি। ৮৭ বল এবং ৭ উইকেট হাতে রেখেই সহজেই ১৬১ রানের লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলে তারা। এ জয়ের মাধ্যমে ফাইনালের টিকিট কাটল আফগানিস্তান, যেখানে আগামী শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) শিরোপা জয়ের লড়াইয়ে তাদের মুখোমুখি হতে হবে জিম্বাবুয়ের।
বাংলাবার্তা/এমএইচ
.png)
.png)
.png)



