ছবি: সংগৃহীত
দেশের সরকারি চাকরিজীবীদের বহুল কাঙ্ক্ষিত নবম জাতীয় বেতন স্কেলের আওতায় নতুন মূল বেতন ফিক্সেশন বা 'পে ফিক্সেশন' পর্ব শেষ হয়েছে। টানা দুই সপ্তাহ ধরে চলা এ পে ফিক্সেশন কার্যক্রম গত ৫ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়ে মঙ্গলবার রাতে সমাপ্ত হয়। এ কার্যক্রমের সফল সমাপ্তির ফলে লক্ষাধিক সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর নতুন স্কেলের মূল বেতন সমন্বয়, বকেয়া অর্থ এবং সার্বিক বেতন-ভাতার খতিয়ান নির্ধারিত হলো।
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অর্থ বিভাগের প্রত্যক্ষ নজরদারিতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম iBAS++ (আইবাস প্লাস প্লাস) ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিটি পদের বেতন স্কেল পুনর্বিন্যাস বা ফিক্সেশন শেষ করা হয়।
তবে সমন্বয় বিধিমালার অংশ হিসেবে অর্থ বিভাগ বেশ কিছু পূর্বশর্ত নির্ধারণ করে দিয়েছিল। নিয়ম অনুযায়ী, কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারী যদি জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫ এর অধীনে ২০২৬ সালের জুন মাসের বেতন উত্তোলন না করেন এবং চলতি জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর সময়কালের বেতন-ভাতা সিস্টেমে জমা বা সাবমিট না করেন, তবে তিনি জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ অনুযায়ী নতুন বেতন ফিক্সেশন করতে পারেননি। এই ধাপটি সম্পন্ন হওয়ার পর কর্মচারীর চাকরিভিত্তিক পদবি, পূর্বতন মূল বেতন এবং স্কেলের ওপর নির্ভর করে যার যার বকেয়ার হিসাব আলাদাভাবে চূড়ান্ত করা হয়েছে।
আইনি কাঠামো অনুযায়ী, চলতি ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে নতুন এই পে স্কেলটি ভূতের ভূয়োদর্শী (Retroactive) প্রভাবে কার্যকর করা হয়েছে। সেই সূত্র ধরে, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা চলতি অক্টোবর মাসের নিয়মিত বেতনের সাথে বিগত জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর—এই টানা তিন মাসের এরিয়ার বা বকেয়া অর্থ একসঙ্গে উত্তোলন করতে পারবেন।
তবে দেশের সকল খাতের সিভিল কর্মচারীদের বেতন নির্ধারণ শেষ হলেও সামরিক বাহিনী বা প্রতিরক্ষা খাত এবং জুডিশিয়াল সার্ভিস তথা বিচার বিভাগে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পে ফিক্সেশন কার্যক্রম এখনো চলমান রয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক চ্যানেলগুলোতে চূড়ান্ত অনুমোদনের পর তাদেরও আইবাস সিস্টেমে অন্তর্ভুক্তি শেষ হবে।
নতুন পে স্কেলের এই দীর্ঘ যাত্রায় রূপরেখা তৈরি হয় গত ৩১ আগস্ট। সেদিন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে নবম জাতীয় বেতন স্কেলের প্রস্তাবনায় চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। পরবর্তীতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ গত ১৯ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে ‘চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ ২০২৬’ নামে গেজেট প্রকাশ করে, যেখানে ১ জুলাই থেকেই এই স্কেল কার্যকর করার ঘোষণা বিদ্যমান।
এদিকে, বেতন সংশোধনের পাশাপাশি ভাতাসমূহের হিসাব নিয়ে বিভ্রান্তি দূর করতে গত ১৯ অক্টোবর অর্থ বিভাগ থেকে একটি দিকনির্দেশনামূলক বিশেষ প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, পরবর্তী নির্দেশনা জারি না হওয়া পর্যন্ত প্রচলিত যেসব ভাতা মূল বেতনের নির্দিষ্ট শতাংশ হিসেবে প্রদান করা হয়ে আসছিল, সেগুলো কর্মচারীর ২০২৬ সালের ৩০ জুন তারিখে থাকা পুরোনো মূল বেতনের হারেই হিসাব করে বিতরণ করতে হবে।
বাংলাবার্তা/এমএইচ
.png)
.png)
.png)



