ছবি: সংগৃহীত
ঢালিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী পরীমনি পর্দায় অভিনয় দিয়ে ভক্তদের মন জয় করলেও ব্যক্তিগত জীবনের নানা ঝড়-ঝাপটা ও বিতর্ক নিয়ে প্রায়শই চর্চায় থাকেন। সম্প্রতি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) প্রযুক্তির অপব্যবহার করে তৈরি একটি আপত্তিকর ভুয়া ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর নতুন করে আলোচনায় এসেছেন এই অভিনেত্রী। এআই-এর সহায়তায় প্রযুক্তিভিত্তিক এই মারাত্মক সাইবার হয়রানির ঘটনায় নীরব না থেকে অপরাধীদের বিরুদ্ধে সোচ্চার প্রতিবাদ জানিয়েছেন তিনি।
এআই দিয়ে তৈরি বিভ্রান্তিকর ও আপত্তিকর ভিডিওটি অন্তর্জালে ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার ঝড় ওঠে। ঘটনার প্রাথমিক ধাপে পরীমনি তার অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে লাইভে এসে এই জঘন্য অপরাধের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং সরব ভূমিকা পালন করেন। পরীমনির এই আপসহীন ও প্রতিবাদী অবস্থান সামাজিক মাধ্যমে সাধারণ নেটিজেনদের প্রশংসায় ভেসেছে। গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে অভিনেত্রী জানান, ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের এই সমর্থন ও সম্মান তাকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করার বাড়তি অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছে।
পরীমনি বলেন, "সবাই যখন আমার এই সাহসকে সম্মান জানায়, তখন ভেতর থেকে আরও সাহস পাই। তখন মনে হয়, আমি সঠিক পথেই আছি এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে ভুল কিছু করিনি।"
গত সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাজধানী ঢাকায় একটি বাণিজ্যিক শোরুম উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে যোগ দেন পরীমনি। সেখানে উপস্থিত সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নিজের জীবনে বারবার নানা জটিলতা ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঝামেলা সৃষ্টি হওয়া প্রসঙ্গে জীবনের এক গভীর বাস্তবতা তুলে ধরেন এই তারকা। বিষাদভরা কণ্ঠে আক্ষেপের সুরে অথচ হাসিমুখে পরীমনি বলেন, "আমার কপালে মনে হয় এটাই লেখা, সারা জীবন ঝামেলা হবে, আর সেই ঝামেলা নিয়েই আমাকে এগিয়ে যেতে হবে। এটা আমি পুরোপুরি মেনে নিয়েছি। এখন আর এসব নিয়ে ভাবি না, এক প্রকার উপভোগই করি।"
তবে নিজের জীবনের জটিলতা মেনে নিলেও প্রযুক্তির অপব্যবহারের মাধ্যমে নারীদের মানহানি ও সাইবার হয়রানির বিষয়ে চরম উদ্বেগ ও হুঁশিয়ারি ব্যক্ত করেছেন পরীমনি। তিনি জানান, প্রযুক্তির এই অশুভ ব্যবহার অত্যন্ত সংবেদনশীল এক বিষয়। শুরুতে তিনি বিষয়টি গায়ে না মাখলেও পরিস্থিতি যখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, তখন সামাজিক দায়ের জায়গা থেকে কথা বলার সিদ্ধান্ত নেন।
এ বিষয়ে পরীমনির বক্তব্য, "বিষয়টা অনেক সেনসিটিভ। সত্যি বলতে, আমার মতো অভিজ্ঞ মানুষের কাছে এসব গায়েই লাগানোর কথা না। প্রথম তিন-চার দিন তো আমি বিষয়টিকে একদম পাত্তাই দিইনি। কিন্তু যখন দেখলাম এটা আর কোনোভাবেই এড়ানো বা এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না, তখন বাধ্য হয়েই কথা বললাম। কারণ আজ এটা আমার সাথে হয়েছে, কিন্তু একই ঘটনা যদি সমাজের কোনো সাধারণ মেয়ের ক্ষেত্রে ঘটে, তবে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে অনেকেই হয়তো আত্মহত্যা করার মতো চরম পথ বেছে নিত। অতীতে এমন নানা ঘটনা নিয়ে অহরহ নিউজ হয়েছে। সুতরাং এ ধরনের সাইবার অপরাধের বিরুদ্ধে সবার সোচ্চার হওয়া এখন সময়ের দাবি।"
প্রযুক্তির অপব্যবহার করে নারীদের সম্মানহানি ও ভুয়া কনটেন্ট ছড়ানোর বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে কঠোর জবাবদিহির মুখোমুখি করার জরুরি প্রয়োজনীয়তার কথা পরীমনির এই মন্তব্যের মাধ্যমে আবারও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
বাংলাবার্তা/এমএইচ
.png)
.png)
.png)



