ছবি: সংগৃহীত
ভারতের অগ্রগতি ব্যাহত করতে এবং দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করে সরকার ফেলে দেওয়ার আন্তর্জাতিক চক্রান্ত চলছে বলে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) প্রধান মোহন ভাগবত। মঙ্গলবার পৃথক দুটি বড় মঞ্চ থেকে দেশের অখণ্ডতা রক্ষা এবং দেশের শত্রুদের একযোগে প্রতিহত করার কঠোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
দিল্লির ইন্দ্রপ্রস্থ রামলীলা ময়দানে শুভ দশেরা উপলক্ষে আয়োজিত মহাসমাবেশে ভাষণ দেওয়ার সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জাতীয় সংহতির ওপর জোর দেন। তিনি উপস্থিত জনতাকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, "আমাদের মাতৃভূমিকে বিভক্ত ও খণ্ড-বিখণ্ড করার যেসব নীলকণক তৈরি হচ্ছে, তা যে কোনো মূল্যে ব্যর্থ করে দিতে হবে। দেশের শত্রুদের বিরুদ্ধে আমাদের সবাইকে একসঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই চালিয়ে যেতে হবে।"
মোদি আরও যোগ করেন, যারা সমাজকে ধর্মীয় বা সামাজিক দিক থেকে বিভক্ত করতে চায়, দেশের স্থিতিশীলতার ক্ষতি করে এবং ভারতের মূল সাংস্কৃতিক মূল্যবোধকে ঘৃণা করে—তারা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি।
অন্যদিকে, একই দিনে মহারাষ্ট্রের নাগপুরে আরএসএস-এর সদর দপ্তরে ঐতিহ্যবাহী বিজয়া দশমী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে সংগঠনটির প্রধান মোহন ভাগবত অভিযোগের তীর আরও তীক্ষ্ণ করেন। আনন্দবাজার অনলাইনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভাগবত দাবি করেন যে একশ্রেণির দেশি-বিদেশি ‘অশুভ শক্তি’ কৌশলে ভারতের বর্তমান নির্বাচিত সরকার পতনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
মোহন ভাগবত বলেন, বিগত কয়েক দশক ধরে ভারত বিশ্বের বুক যেভাবে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে এবং সুনির্দিষ্ট নীতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করছে, কোনো বহিরাগত শক্তি সরাসরি তার গতি থামাতে পারছে না। সরাসরি পরাস্ত করতে ব্যর্থ হয়ে তারা এখন ভারতের ঐক্য ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ফাটল ধরানোর ষড়যন্ত্রে নেমেছে। তাদের মূল উদ্দেশ্য হলো ভারত রাষ্ট্রকে বিভক্ত করা এবং সংঘের প্রভাব ধূলিসাৎ করা।
ভারতে বিশৃঙ্খলা তৈরির পেছনে বিদেশি অনুঘটকদের ইন্ধন রয়েছে বলে দাবি করেন আরএসএস প্রধান। তিনি এই প্রসঙ্গে বর্তমান বিশ্বের বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও আন্দোলনের উদাহরণ টানেন। ইউরোপের ফ্রান্স এবং দক্ষিণ এশিয়ার নেপাল ও বাংলাদেশে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া তীব্র সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ও রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ঘটনা উল্লেখ করে ভাগবত সতর্ক বার্তা দেন।
তিনি মন্তব্য করেন, "পাশ্চাত্য বা পশ্চিমের দিক থেকে এক ধ্বংসাত্মক রাজনৈতিক ঝড় ধেয়ে আসছে, যা মূলত মানুষের হাজার বছরের ঐতিহ্য, শান্তিময় সমাজ ব্যবস্থা ও জাতীয় নিরাপত্তাকে অস্বীকার করে।" আরএসএস প্রধান স্পষ্ট করে বলেন, একটি শক্তিশালী ও আত্মনির্ভর ভারত বিশ্বের অনেক কায়েমি স্বার্থান্বেষী শক্তির কাম্য নয়। নিজেদের ভূ-রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল করতে ও বৈশ্বিক নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতেই তারা বিভিন্ন সার্বভৌম রাষ্ট্রে অরাজকতা সৃষ্টি করছে। তাই ভারতের জনগণ ও প্রশাসনকে এই ধরনের ধ্বংসাত্মক তৎপরতার বিরুদ্ধে সার্বক্ষণিক সজাগ থাকার তাগিদ দেন দুই শীর্ষ নেতাই।
বাংলাবার্তা/এমএইচ
.png)
.png)
.png)



