ছবি: সংগৃহীত
আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গন এখন চরম উত্তপ্ত। কানসাস অঙ্গরাজ্যে রিপাবলিকান সিনেটর রজার মার্শালের প্রচারণায় অংশ নিয়ে সাবেক ও বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ডেমোক্র্যাটদের তীব্র সমালোচনা করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কানসাসের উইচিটার কাছে পার্ক সিটিতে মহাসড়কের পাশে আয়োজিত বিশাল সমাবেশে ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, রিপাবলিকানরা পরাজিত হলে ফ্রান্সের মতো দাঙ্গা, অগ্নিসংযোগ ও অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়তে পারে পুরো যুক্তরাষ্ট্রে।
সমাবেশে দেওয়া বক্তব্যে ট্রাম্প ফ্রান্সের সাম্প্রতিক গণবিক্ষোভ, জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধি ও সরকারি সেবার ঘাটতির কথা তুলে ধরেন। ফ্রান্সের গির্জায় আগুন লাগার কাল্পনিক রূপক টেনে ট্রাম্প দাবি করেন, কট্টরপন্থী ডেমোক্র্যাটরা বিজয়ী হলে আমেরিকাকেও একই ধরনের ধ্বংসাত্মক পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দেবে। যদিও এই দাবির সপক্ষে ট্রাম্প কোনো বস্তুনিষ্ঠ প্রমাণ দিতে পারেননি। সমাবেশ থেকে তিনি অভিবাসী ও মুসলিম সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করেও নেতিবাচক বক্তব্য প্রদান করেন, যার তীব্র সমালোচনা করেছে দেশের মানবাধিকার সংস্থাগুলো।
কানসাসের এই আসনটি গত ৯৪ বছর ধরে রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে বিবেচিত হলেও এবার সেখানে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী অ্যাডাম হ্যামিলটনের জোরালো উত্থান ঘটেছে। হ্যামিলটন ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্কনীতির কারণে স্থানীয় কৃষক ও গ্রামীণ হাসপাতালগুলোর ক্ষয়ক্ষতির কথা তুলে ধরেছেন। এর জবাবে রিপাবলিকান সিনেটর রজার মার্শাল ও ট্রাম্প উভয়েই হ্যামিলটনকে ‘অতিরিক্ত উদারপন্থী’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে আক্রমণ করেন।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে সাধারণ মানুষ জীবনযাত্রার উচ্চ ব্যয় এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ে চরম চিন্তিত। সমাবেশে যোগ দিতে আসা সাধারণ মানুষদের মাঝেও মূল্যস্ফীতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ দেখা গেছে। কানসাসে জ্বালানি তেলের মূল্য আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৪৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। এএএ-এর তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সাইনবোর্ডে প্রতি গ্যালন পেট্রল ৩ ডলার ৯৮ সেন্ট এবং ডিজেল ৫ ডলার ৭৮ সেন্টে বিক্রি হতে দেখা গেছে। ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সমর্থক ও প্রতিবন্ধী ভাতাভোগী সাধারণ কর্মজীবী মানুষরাও জানিয়েছেন যে বাজার থেকে নিত্যপণ্য কেনা এখন চরম কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। এমনকি স্থানীয় কৃষকরাও ট্রাম্পের শুল্কনীতির কারণে কৃষিপণ্যের বাজার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং বিদেশ থেকে গবাদিপশু আমদানির সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেছেন।
এই সামাজিক ও অর্থনৈতিক টানাপোড়েনের মাঝেই প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে রিপাবলিকান পার্টিকে কঠিন লড়াই করতে হচ্ছে। প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে ডেমোক্র্যাটদের প্রয়োজন অতিরিক্ত ৪টি আসন, অন্যদিকে সিনেটেও হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলছে। সম্প্রতি জনমত জরিপে ট্রাম্পের জনসমর্থন ৩১ শতাংশে নেমে এসেছে, যা তার মেয়াদের সর্বনিম্ন। এই পরিস্থিতির কারণে ট্রাম্প টানা ৩২ দিন ধরে গ্রামীণ ও রক্ষণশীল এলাকাগুলোতে তীব্র নির্বাচনী প্রচার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন।
বাংলাবার্তা/এমএইচ
.png)
.png)
.png)



