ছবি: সংগৃহীত
নগদ টাকার বদলে ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে দেশ বছরে প্রায় দেড় লাখ কোটি টাকারও বেশি সাশ্রয় করতে পারে। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক তুলনামূলক গবেষণা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ডিজিটাল পেমেন্টের তুলনায় নগদ লেনদেনে সার্বিক খরচ প্রায় ২৮ গুণ বেশি। যেখানে নগদনির্ভর অর্থনীতির বার্ষিক খরচ জিডিপির ৩.২৪ শতাংশ, সেখানে ডিজিটাল লেনদেনের বার্ষিক ব্যয় মাত্র ৫ হাজার ৯৬৪ কোটি টাকা—যা জিডিপির মাত্র ০.১১ শতাংশ।
নগদ টাকার ব্যবহার কমাই যে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যতের মূল চাবিকাঠি, তা পুনর্ব্যক্ত করেছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ২০২৮ সালের মধ্যে দেশের মোট লেনদেনের অন্তত ৫০ শতাংশ ‘ক্যাশলেস’ বা নগদবিহীন করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে তারা কাজ করছে। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে ‘বাংলা কিউআর’ (Bangla QR) ব্যবস্থার ওপর।
ক্ষুদ্র, প্রান্তিক ব্যবসায়ী এবং সেবাদাতারা যাতে সহজে ডিজিটাল পেমেন্ট গ্রহণে উদ্বুদ্ধ হন, সে জন্য ইতোমধ্যে প্রণোদনা কাঠামো চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে চায়ের দোকান থেকে শুরু করে প্রান্তিক বাজারগুলোতেও ডিজিটাল লেনদেনের প্রসার ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তবে গবেষণায় ডিজিটাল লেনদেন দ্রুত প্রসার না পাওয়ার পেছনে কিছু সুনির্দিষ্ট চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—
উচ্চ লেনদেন ফি ও ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত খরচ
পেমেন্ট সেটেলমেন্ট বা অর্থ নিষ্পত্তিতে বিলম্ব
সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে ডিজিটাল ও প্রযুক্তিগত দক্ষতার ঘাটতি
অর্থনীতিবিদ ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গবেষকদের মতে, নগদবিহীন সমাজ গড়তে হলে ডিজিটাল পেমেন্টকে আরও সাশ্রয়ী ও সহজলভ্য করতে হবে। পাশাপাশি কর তদারকি জোরদার করা এবং ছোট-বড় সব ব্যবসার লেনদেনের ডিজিটাল হিসাব সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক করা প্রয়োজন, যাতে অনানুষ্ঠানিক খাত থেকে রাজস্ব আদায় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।
বাংলাবার্তা/এমএইচ
.png)
.png)
.png)



