ছবি: সংগৃহীত
বড় ধরনের সাইবার হামলার আশঙ্কায় দেশের নাগরিকদের অতি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডি (NID) সার্ভারের কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত বা বন্ধ রেখেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বুধবার (২৮ অক্টোবর) নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের এনআইডি শাখা থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। হঠাৎ করে এই সেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সাধারণ নাগরিক ও বিভিন্ন আর্থিক বা সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠান সাময়িক ভোগান্তির মুখে পড়লেও, মূলত রাষ্ট্রীয় ডাটাবেজ ও নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই এই সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সার্ভার বন্ধ রাখার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে এনআইডি অনুবিভাগের সিস্টেম ম্যানেজার মুহাম্মদ আশরাফ হোসেন গণমাধ্যমকে জানান, সম্ভাব্য সাইবার ঝুঁকি ও কারিগরি ত্রুটি এড়াতে বর্তমানে আমাদের ডেডিকেটেড কারিগরি টিম অত্যন্ত সতর্কতার সাথে কাজ করছে। সিস্টেমের নিরাপত্তা পুরোপুরি নিশ্চিত করার পরই এটি পুনরায় চালুর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। কাজ শেষ হলে দ্রুতই সার্ভার স্বাভাবিক হয়ে যাবে বলে আশ্বস্ত করেন তিনি।
নির্বাচন কমিশনের এই পদক্ষেপে বড় ধরনের ভূমিকা রেখেছে সরকারের বিশেষায়িত সংস্থা। এর আগে দেশের সামগ্রিক ডিজিটাল ও তথ্যভান্ডারের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকারের সাইবার নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট বিশেষায়িত সংস্থা ‘বিজিডি ই-গভ সার্ট’ (BGD e-GOV CIRT) থেকে একটি কঠোর সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছিল। মূলত ওই সতর্কবার্তার পরই নড়েচড়ে বসে নীতিনির্ধারক ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা।
তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আইটি অবকাঠামো ও সার্ভারে সাইবার হামলার প্রবণতা মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে যেকোনো ধরনের বড় বিপর্যয় বা তথ্য চুরির ঘটনা এড়াতে আগাম সতর্কতা হিসেবে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এনআইডি সার্ভার বন্ধের এই ঘটনার পেছনে সম্প্রতি দেশের ব্যাংক খাতে ঘটে যাওয়া সাইবার নিরাপত্তার ঘটনাও ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এর আগে জনপ্রিয় পিএইচপি (PHP) প্রোগ্রামিং ভাষার দুটি অত্যন্ত গুরুতর ও জটিল নিরাপত্তা ত্রুটি (Vulnerability) আন্তর্জাতিকভাবে শনাক্ত করা হয়। এই ত্রুটির সুযোগ নিয়ে হ্যাকাররা যেকোনো বড় সিস্টেমে অননুমোদিত প্রবেশ বা হামলা চালাতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ দেশের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ব্যাংক তাদের ওয়েবসাইট ও অনলাইন সেবামূলক কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছিল।
তবে সাইবার সিকিউরিটি টিমের নিরলস কাজ এবং প্রয়োজনীয় প্যাচ বা আপডেট ইনস্টল করার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। পরবর্তীতে গত রবিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের বন্ধ থাকা সার্ভার ও ওয়েবসাইট পুনরায় সচল করা হয়।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা পরিষ্কার করে জানিয়েছেন যে, এই সমস্যাটি কেবল এককভাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব কোনো কারিগরি ত্রুটি ছিল না। এটি মূলত বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া একটি সাইবার ঝুঁকির অংশ হিসেবে এবং আন্তর্জাতিক প্রটোকল মেনে সুরক্ষামূলক পদক্ষেপ হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছিল।
জাতীয় পরিচয়পত্র সার্ভার সাময়িকভাবে বন্ধ থাকায় মোবাইল সিম নিবন্ধন, ব্যাংকিং সেবা, পাসপোর্ট তৈরি, টিআইএন (TIN) সার্টিফিকেট প্রাপ্তি এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের অনলাইন যাচাইকরণ কাজ সাময়িকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। তবে সাইবার সিকিউরিটি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দীর্ঘমেয়াদী বড় কোনো ডিজিটাল বিপর্যয় বা নাগরিকদের সংবেদনশীল তথ্য হ্যাকারদের কবলে পড়ার চেয়ে এই সাময়িক অসুবিধা অনেক বেশি নিরাপদ। নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট আইসিটি বিশেষজ্ঞরা আশা করছেন, খুব দ্রুতই সম্পূর্ণ সুরক্ষিত ও আধুনিক ফায়ারওয়ালের মাধ্যমে এনআইডি সার্ভার পুনরায় চালু করা সম্ভব হবে।
বাংলাবার্তা/এমএইচ
.png)
.png)
.png)



