ছবি: সংগৃহীত
ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুবাই থেকে আসা দুই নারী যাত্রীর কাছ থেকে ১২ কেজি সোনার পেস্ট জব্দ করেছে ঢাকা কাস্টমস হাউস। জব্দ করা সোনার আনুমানিক বাজারমূল্য ২৪ কোটি টাকা।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেল সোয়া ৫টার দিকে দুবাই থেকে আসা একটি ফ্লাইটের ওই দুই যাত্রীকে আটক করা হয়। বুধবার রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় ঢাকা কাস্টমস হাউস।
কাস্টমস হাউসের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, আজ বিকেল ০৫:১৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুবাই থেকে আগত ফ্লাইট নম্বর ‘ইউকে৫৮৬’-এর মাধ্যমে একটি বড়ো ধরনের স্বর্ণ চোরাচালান হতে পারে—এমন একটি গোপন সংবাদ আসে প্রিভেনটিভ টিমের কাছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে বিমানবন্দরের বিভিন্ন কৌশলগত পয়েন্টে আগে থেকেই সতর্ক অবস্থান নেন শুল্ক গোয়েন্দা ও কাস্টমস কর্মকর্তারা।
নজরদারির একপর্যায়ে সন্দেহভাজন দুই যাত্রীকে শনাক্ত করে প্রিভেনটিভ টিম। অভিযুক্ত যাত্রীরা হলেন—চেন লিয়াং (পাসপোর্ট নম্বর- ইএফ৭৪৪০৭৭৮) এবং মো ঝাওংডং (পাসপোর্ট নম্বর- ইএফ৩৮১০২৭২)।
নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করার পর ওই দুই যাত্রী যখন ব্যাগেজ বেল্ট-০২ এলাকায় উপস্থিত হন, তখন প্রিভেনটিভ টিমের সদস্যরা তাদের থামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তাদের আচরণ সন্দেহজনক হওয়ায় আইনগত বিধান মেনে তাদের শরীর তল্লাশি করা হয়।
তল্লাশির সময় যা বেরিয়ে আসে তা রীতিমতো হতবাক করার মতো। দুই যাত্রীর পরিহিত জিন্স প্যান্ট এবং অন্তর্বাসের ভেতরে বিশেষ কায়দায় কাপড় দিয়ে পকেট বানিয়ে সেখানে সুঁই-সুতো দিয়ে সেলাই করে লুকানো অবস্থায় ছিল নরম হলুদ রঙের স্বর্ণের পেস্ট।
উদ্ধারকৃত পেস্টগুলো জব্দ করার পর সেগুলোর ওজন পরিমাপ করা হয়। ভেজা অবস্থায় পেস্ট আকারে থাকা এই স্বর্ণের মোট ওজন প্রায় ১২ কেজি। পরবর্তীতে প্রাথমিক পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া যায় যে, উদ্ধারকৃত এই স্বর্ণ সম্পূর্ণ ২৪ ক্যারেটের অত্যন্ত খাঁটি সোনা। আন্তর্জাতিক বাজারমূল্য ও বর্তমান দেশীয় হার বিবেচনায় এই ১২ কেজি স্বর্ণের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২৪ কোটি (২৪,০০,০০,০০০) টাকা।
বিমানবন্দরে নিয়োজিত কাস্টমস কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, দেশের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা বিঘ্নিত করতে এবং অবৈধ উপায়ে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে এই বিশাল পরিমাণ স্বর্ণের চালান দেশে প্রবেশ করানো হচ্ছিল। আটককৃত দুই বিদেশি নাগরিককে এবং তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা ১২ কেজি স্বর্ণ বর্তমানে কাস্টমস হাউস, ঢাকার হেফাজতে রয়েছে।
এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কাস্টমস হাউস, ঢাকার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, আটককৃত স্বর্ণ ও অভিযুক্ত যাত্রীদের বিরুদ্ধে ‘কাস্টমস আইন, ২০২৩’ এবং প্রচলিত ‘ফৌজদারি আইন’ অনুযায়ী মামলা দায়ের করার কার্যক্রম ইতোমধ্যে চলমান রয়েছে। একই সাথে এই চোরাচালান সিন্ডিকেটের সাথে দেশীয় বা আন্তর্জাতিক অন্য কোনো চক্র জড়িত রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখতে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ব্যাপক অনুসন্ধান শুরু করেছে।
বাংলাবার্তা/এসজে
.png)
.png)
.png)



