ছবি: সংগৃহীত
সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানকে নিয়ে সদ্য গঠিত উদীয়মান প্রতিরক্ষা জোটে যোগ দেওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে সিরিয়া। বাহরাইনে অনুষ্ঠিত মর্যাদাপূর্ণ ‘মানামা সংলাপ’ সম্মেলনে দেওয়া এক বক্তব্যে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদ আল-শাইবানি এই সম্ভাবনার কথা জানান। মধ্যপ্রাচ্যের দ্রুত পরিবর্তিত ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণে এই সম্ভাব্য সংযুক্তি নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
বাহরাইনের রাজধানী মানামায় আয়োজিত আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিষয়ক শীর্ষ সম্মেলন ‘মানামা সংলাপ’-এর সাইডলাইনে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হন সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদ আল-শাইবানি। শনিবার (৩১ অক্টোবর) এই সম্মেলনে তিনি স্পষ্ট করে জানান যে, কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘মক্কা জোটে’ সিরিয়ার অন্তর্ভুক্ত হওয়ার বিষয়ে বর্তমানে নানা মাত্রিক আলোচনা ও মূল্যায়ন চলছে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের গত আগস্ট মাসে সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কায় ঐতিহাসিক এক পদক্ষেপে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানকে নিয়ে এই নতুন ত্রিদেশীয় প্রতিরক্ষা জোট গঠিত হয়। ওই চুক্তির অন্যতম প্রধান ও মৌলিক শর্ত হলো—জোটভুক্ত কোনো একটি সদস্য দেশ যদি বাইরের কোনো আগ্রাসন বা আক্রমণের শিকার হয়, তবে সেটিকে সম্মিলিতভাবে সব সদস্য দেশের ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য করা হবে এবং সবাই মিলে তার উপযুক্ত জবাব দেবে।
সাম্প্রতিক সময়ে ইয়েমেনের ইরানসমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক ও তীব্র সামরিক হামলার মুখে পড়ে আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদার করতে বাধ্য হয়েছে সৌদি আরব। দেশটির কৌশলগত অবকাঠামো এবং আকাশসীমা সুরক্ষায় রিয়াদ এখন কূনৈতিক ও সামরিক মিত্রদের নিয়ে একটি শক্তিশালী প্রতিরোধ বলয় গড়ে তোলার চেষ্টা করছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি মাসেই হুথিদের চালানো একটি বড় ধরনের শক্তিশালী ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে পড়ে রিয়াদের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। নিরাপত্তার স্বার্থে টানা দুই সপ্তাহ বিমানবন্দরটির কার্যক্রম বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছিল কর্তৃপক্ষ। এমনকি শুক্রবার সৌদি নেতৃত্বাধীন ইয়েমেনবিরোধী সামরিক জোট দাবি করে যে, পবিত্র মক্কা ও মদিনা অঞ্চলের আকাশসীমায় হুথিদের পাঠানো বেশ কিছু ঘাতক ড্রোন সফলভাবে আকাশে ধ্বংস বা প্রতিহত করা হয়েছে। যদিও এই হামলার সঙ্গে নিজেদের সরাসরি সম্পৃক্ততার অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে হুথি বিদ্রোহীরা।
হুথিদের ক্রমবর্ধমান হুমকি ও হামলা সফলভাবে মোকাবিলা করতে সৌদি আরবকে সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করছে পশ্চিমা বিশ্বসহ আঞ্চলিক মিত্ররা। বৈশ্বিক এই নিরাপত্তা সংকট নিরসনে রিয়াদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে একাধিক পরাশক্তি।
চলতি মাসের শুরুর দিকে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই আকস্মিক সফরে রিয়াদে উপস্থিত হন। সেই সফরে তিনি ঘোষণা দেন যে, সৌদি আরবের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর তেল স্থাপনাকে হুথিদের ধ্বংসাত্মক হামলা থেকে রক্ষা করতে ফরাসি সেনা ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করা হয়েছে।
এর আগে গত অক্টোবরে যুক্তরাজ্য সরকারও ঘোষণা দেয় যে, সৌদির আকাশসীমা ও ভূখণ্ড সুরক্ষায় হুথিদের আক্রমণ প্রতিহত করতে তারা রিয়াদের কাছে বিশেষ যুদ্ধবিমান পাঠাবে। মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাতময় পরিস্থিতিতে পশ্চিমা সামরিক সহায়তার পাশাপাশি সিরিয়ার মতো দেশের এই প্রতিরক্ষা জোটে যুক্ত হওয়ার গুঞ্জন সমগ্র অঞ্চলের রাজনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তথ্যসূত্র: মিডল ইস্ট আই
বাংলাবার্তা/এমএইচ
.png)
.png)
.png)



