ছবি: সংগৃহীত
স্বাভাবিক ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের নির্ধারিত সময়সীমায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনে ‘মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬’ জারি করেছে সরকার। রাষ্ট্রপতির বিশেষ অধ্যাদেশের মাধ্যমে মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২-এর ৬৪ নম্বর ধারা প্রতিস্থাপন করে নতুন এই নিয়ম কার্যকর করা হয়েছে। সংবিধানের ৯৩(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জাতীয় সংসদ অধিবেশন চালু না থাকায় এবং জনস্বার্থে জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণের বাধ্যবাধকতা তৈরি হওয়ায় রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গত ১৩ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে আনুষ্ঠানিকভাবে এই অধ্যাদেশে স্বাক্ষর করেন। এরপর ১৪ অক্টোবর বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় এটি সরকারিভাবে প্রকাশ করা হয়। নতুন আইনটি আইনগতভাবে চলতি বছরের ১ অক্টোবর থেকে কার্যকর হয়েছে বলে গণ্য করা হবে।
সাধারণ ও বিশেষ শ্রেণিতে রিটার্ন জমা দেওয়ার ভিন্ন সময়সীমা: নতুন প্রতিস্থাপিত ৬৪ ধারা অনুযায়ী, রিটার্ন দাখিলকারীদের প্রধানত দুটি শ্রেণিতে ভাগ করে ভিন্ন ভিন্ন মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে:
-
সাধারণ শ্রেণি (১৫ দিন): সাধারণ নিবন্ধিত, তালিকাভুক্ত, কিংবা নিবন্ধন ও তালিকাভুক্তির আওতায় পড়ে এমন যেকোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে কর মেয়াদ (ট্যাক্স পিরিয়ড) সমাপ্ত হওয়ার পরবর্তী ১৫ দিনের মধ্যে অবশ্যই ভ্যাট রিটার্ন জমা দিতে হবে।
-
বিশেষ শ্রেণি ও ব্যাংক-বিমা প্রতিষ্ঠান (২০ দিন): রাষ্ট্রীয়, স্বায়ত্তশাসিত ও আর্থিক খাতের জন্য বিশেষ সুবিধা রাখা হয়েছে। সরকারি সংস্থা, আধা-সরকারি সংস্থা, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, সকল তফসিলি ও সরকারি-বেসরকারি ব্যাংক, বিমা প্রতিষ্ঠান এবং যেসব ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট কর মেয়াদে কোনো লেনদেন হয়নি অর্থাৎ ‘শূন্য (Zero) রিটার্ন’ দাখিল করবেন—তারা কর মেয়াদ শেষ হওয়ার পরবর্তী ২০ দিন পর্যন্ত রিটার্ন জমা দেওয়ার সুযোগ পাবেন।
সরকারি ছুটি ও সময়সীমা বৃদ্ধির সুযোগ: রিটার্ন দাখিলের শেষ দিন অর্থাৎ ১৫তম বা ২০তম দিনে যদি কোনো সরকারি সাধারণ ছুটি বা সাপ্তাহিক ছুটি থাকে, তবে সময়সীমা স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরবর্তী প্রথম কার্যদিবস পর্যন্ত সম্প্রসারিত হবে। এর ফলে করদাতারা অযথা জরিমানা এড়ানোর সুযোগ পাবেন। তাছাড়া জনস্বার্থ ও বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বিশেষ আদেশের মাধ্যমে সুদ ও জরিমানা সম্পূর্ণ মওকুফ রেখে রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা বাড়ানোর এখতিয়ার রাখবে।
সম্পূরক শুল্ক ও অনলাইন রিটার্ন দাখিল: অধ্যাদেশে স্পষ্ট বলা হয়েছে, মূসক বা ভ্যাট রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় এতে প্রযোজ্য সম্পূরক শুল্ক পরিশোধের যাব তীয় সঠিক তথ্য অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। একই সঙ্গে ডিজিটালাইজেশন ত্বরান্বিত করতে এনবিআর যেকোনো নিবন্ধিত বা তালিকাভুক্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের জন্য অনলাইন বা ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে (ই-রিটার্ন) ভ্যাট রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করার আদেশ জারি করতে পারবে।
বাংলাবার্তা/এসজে
.png)
.png)
.png)



