ছবি: সংগৃহীত
চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য খালাস প্রক্রিয়ায় জালিয়াতি ও অর্থ ফাঁকি সম্পূর্ণ বন্ধ করতে অনলাইন ই-চালান ব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রযুক্তিগত পরিবর্তন এনেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (চপা)। এখন থেকে ই-চালানের ভেতরেই সরাসরি কাস্টমসের শুল্ক-কর এবং বন্দরের সার্ভিস চার্জ পরিশোধের সততা প্রমাণের জন্য দুটি বিশেষ নম্বর থাকবে। এর মাধ্যমে পণ্য খালাসের সময় কাস্টমস ও বন্দর ফি পরিশোধের তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হবে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব (অতিরিক্ত দায়িত্ব) সৈয়দ রেফায়েত হামিম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই নতুন নির্দেশনার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়। বন্দর কর্তৃপক্ষের মতে, নতুন নিরাপত্তা কোড বা নম্বর যুক্ত হওয়ার ফলে বন্দর এলাকা থেকে পণ্যবাহী গাড়ি চূড়ান্তভাবে বের হওয়ার প্রক্রিয়া আগের চেয়ে অনেক বেশি নিরাপদ, স্বচ্ছ ও সময়বান্ধব হবে।
কী এই নতুন ই-চালান ব্যবস্থা ও দুটি নতুন নম্বর?
চট্টগ্রাম বন্দর থেকে পণ্য খালাস ও গাড়ি চূড়ান্তভাবে বের করার ক্ষেত্রে ই-চালান একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ আইনি ও প্রশাসনিক দলিল হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। পূর্বে বন্দর ও কাস্টমসের বিভিন্ন ফি আলাদাভাবে যাচাই করতে গিয়ে গেটে দীর্ঘ জটলা ও কাগজপত্রের সততা নিয়ে জটিলতা তৈরি হতো। কিন্তু নতুন অনলাইন আপগ্রেডের মাধ্যমে ই-চালানে সরাসরি দুটি প্রধান তথ্য যুক্ত করা হয়েছে:
১. বিল অব এন্ট্রির ‘আর নম্বর’ (R-Number): এটি কাস্টমসের যাবতীয় নির্ধারিত শুল্ক, কর ও ভ্যাট সঠিকভাবে ব্যাংকে পরিশোধ করা হয়েছে কিনা তা প্রমাণের নিশ্চয়তা হিসেবে কাজ করবে।
২. সিপি নম্বর (CP Number): এটি চট্টগ্রাম বন্দরের নিজস্ব যাবতীয় মাশুল, হ্যান্ডলিং চার্জ ও পোর্ট ফি পরিশোধের নিশ্চয়তা প্রদান করবে।
কেন এই উদ্যোগ এবং কীভাবে রোধ হবে জালিয়াতি?
বন্দর ও কাস্টমস সূত্রে জানা যায়, ইতিপূর্বে অসাধু কিছু চক্র ও ভুয়া সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট জাল কাগজপত্র বা ভুয়া চালান তৈরি করে বন্দর থেকে পণ্য বের করে নেওয়ার পাঁয়তারা করত। অনেক সময় কাস্টমস কিংবা বন্দরের ফি পুরোপুরি পরিশোধ না করেই মিথ্যা তথ্য দিয়ে গাড়ি নিয়ে বের হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
নতুন এই ডিজিটাল ব্যবস্থার ফলে গেটে অবস্থানরত সিকিউরিটি ও কাস্টমস কর্মকর্তারা ই-চালানে থাকা ‘আর নম্বর’ ও ‘সিপি নম্বর’ সেন্ট্রাল ডাটাবেজের সাথে মিলিয়ে খুব সহজেই নিশ্চিত হতে পারবেন যে সব ধরনের সরকারি রাজস্ব ও বন্দরের সার্ভিস ফি প্রদান করা হয়েছে। ফলে কোনো ধরনের ভুয়া কাগজ বা জাল চালানের মাধ্যমে পণ্য খালাসের বিন্দুমাত্র সুযোগ থাকবে না।
বন্দর ব্যবহারকারী ও সেবা প্রার্থীদের সুবিধাসমূহ
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করেছে যে, টার্মিনাল ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমকে আধুনিকায়ন ও ডিজিটাল করার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে কাস্টমস, চট্টগ্রাম বন্দর এবং সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের কাজের সংযোগ আরও জোরদার হবে।
-
সময় সাশ্রয়: আগে গেটে আলাদা আলাদা রসিদ ও রাজস্ব জমা দেওয়ার কাগজ যাচাই করতে যে সময় লাগত, তা এখন কয়েক সেকেন্ডে নেমে আসবে।
-
যানজট নিরসন: কাস্টমস ও পোর্টের ডিজিটাল ডাটাবেজে তথ্য দ্রুত মিলিয়ে নিতে পারায় বন্দর থেকে ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও ট্রেইলার বের হওয়ার গতি বাড়বে। ফলে বন্দরের অভ্যন্তরীণ সড়ক ও গেটগুলোতে দীর্ঘ গাড়ি জট কমে আসবে।
-
সহজ সেবা গ্রহণ: বন্দর ব্যবহারকারী আমদানিকারক ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টরা অনলাইনের মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্নভাবে চালানের স্থিতি দেখতে পাবেন।
বিজ্ঞপ্তিতে সৈয়দ রেফায়েত হামিম বন্দর ব্যবহারকারী সকল ব্যবসায়ী, আমদানিকারক, রপ্তানিকারক ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদেরকে নতুন এই অনলাইন ই-চালান প্রযুক্তি ব্যবহার করে স্বাচ্ছন্দ্যে ও নিরাপদে সেবা গ্রহণের অনুরোধ জানান।
বাংলাবার্তা/এমএইচ
.png)
.png)
.png)



