ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশে রাজস্ব আদায়ের হার বিশ্বে সর্বনিম্নের তালিকায় ঠেকেছে বলে মন্তব্য করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। এই প্রেক্ষাপটে সংস্থাটির কাছ থেকে প্রস্তাবিত ৪৫০ থেকে ৫০০ কোটি ডলারের নতুন ঋণ কর্মসূচি নিশ্চিতে দুটি বিষয়কে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে—অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আয় উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো এবং আর্থিক খাতের নানামুখী সংকট সমাধানে সংস্কার সাধন।
বৃহস্পতিবার এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কিত এক অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে আইএমএফের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিভাগের ডেপুটি ডিরেক্টর সোনালী জৈন-চন্দ্র বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সংস্কার ও প্রস্তাবিত ঋণ কর্মসূচির বর্তমান অবস্থা তুলে ধরেন।
কর-জিডিপি অনুপাত মাত্র ৭ শতাংশ: আইএমএফের উদ্বেগ
সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সোনালী জৈন-চন্দ্র জানান, বাংলাদেশের রাজস্ব-জিডিপি অনুপাত কমতে কমতে ৭ শতাংশে নেমে এসেছে। বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে যা অন্যতম সর্বনিম্ন।
আইএমএফ মনে করে, মাত্র ৭ শতাংশ কর-জিডিপি অনুপাত নিয়ে কোনো দেশের পক্ষে দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক টেকসই রূপরেখা তৈরি করা অত্যন্ত কঠিন। দেশের প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং জনগণের মৌলিক সেবায় অর্থায়নের মূল উৎস হওয়া উচিত অভ্যন্তরীণ রাজস্ব। এই হার না বাড়ালে রাষ্ট্রীয় বাজেটের ঘটতি সামাল দেওয়া দিন দিন চ্যালেঞ্জিং হয়ে পড়বে। তাই নতুন ঋণ কর্মসূচির আওতায় রাজস্ব প্রশাসন ও কর ব্যবস্থায় সংস্কার আনাকে মৌলিক শর্ত হিসেবে বিবেচনা করছে সংস্থাটি।
মূল্যস্ফীতি ও ব্যাংকিং খাতের সংকট মোকাবিলায় পরামর্শ
ডেপুটি ডিরেক্টর সোনালী জৈন-চন্দ্র দেশের সার্বিক আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে বেশ কিছু কৌশলগত তাগিদ দিয়েছেন:
১. কঠিন মুদ্রানীতির ধারাবাহিকতা: বাজারে টাকার প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ এবং অনিয়ন্ত্রিত মূল্যস্ফীতি কমিয়ে আনাই এখন অর্থনীতির অন্যতম অগ্রাধিকার। যতক্ষণ না মূল্যস্ফীতি কাঙ্ক্ষিত ও সহনীয় মাত্রায় আসছে, ততক্ষণ সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি কঠোরভাবে বজায় রাখতে হবে।
২. আর্থিক খাতের গভীর সংস্কার: ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বড় বড় সংকটগুলো সামাল দিতে দ্রুত ও কার্যকর কৌশল বাস্তবায়ন করতে হবে।
৩. সময়মতো সংস্কার বাস্তবায়ন: ঋণের কিস্তি ও সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে যে নীতিগত ও কাঠামোগত শর্তসমূহ রয়েছে, তা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই সুসম্পন্ন করতে হবে।
আলোচনার ভিত্তিতে যৌথ কর্মপরিকল্পনা
বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে আইএমএফের যৌথ আলোচনার বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে গিয়ে সোনালী জৈন-চন্দ্র বলেন, নতুন ঋণের মেয়াদ ও শর্তাবলী নির্ধারণের জন্য সংস্কারের অগ্রগতির ওপর ধারাবাহিক নজরদারি চালানো হচ্ছে। সংস্কারের যে লক্ষ্যমাত্রাগুলো ঠিক করা হচ্ছে, তার বাস্তবায়ন চিত্র আইএমএফের প্রতিনিধিদল নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছে।
আইএমএফের মতে, সঠিক অর্থনৈতিক নীতি গ্রহণ ও আর্থিক খাতের কাঠামোগত দুর্বলতা দূর করা সম্ভব হলে বাংলাদেশ খুব দ্রুতই মূল্যস্ফীতির চাপ সামলে টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ধারায় ফিরতে পারবে।
বাংলাবার্তা/এমএইচ
.png)
.png)
.png)



