ছবি: সংগৃহীত
ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতি সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি ‘আরামকো’র স্থাপনা লক্ষ্য করে নতুন করে হামলা চালিয়েছে। একই সাথে আগামী দিনগুলোতে সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দর ও জ্বালানি স্থাপনায় আরও সামরিক অভিযান চালানোর হুমকি দিয়েছে ইরান-সমর্থিত এই গোষ্ঠীটি।
হুতিদের সামরিক মুখপাত্র তাদের সামরিক বাহিনীর বরাত দিয়ে জানান, ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে সৌদি আরবের ধাহরানে অবস্থিত আরামকোর সদর দফতর, রিয়াদ বিমানবন্দর এবং একটি তেল শোধনাগার লক্ষ্য করে নিখুঁত হামলা চালানো হয়েছে।
আরামকো সদর দফতর: ধাহরানে আরামকোর পরিচালনাকেন্দ্র অবস্থিত বিশাল ভবনে আঘাত হানায় সেখানে সীমিত অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। সূত্রমতে, সদর দফতরের একটি টাওয়ারের ওপরের তিনটি তলা মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
রিয়াদ বিমানবন্দর: ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে রিয়াদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে লক্ষ্য করে পুনরায় হামলা চালিয়েছে হুতিরা।
সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, রাজধানী রিয়াদ লক্ষ্য করে নিক্ষিপ্ত একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই ধ্বংস ও প্রতিহত করা হয়েছে। ঘটনার সময় রাজধানীতে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় এবং সৌদি নাগরিকদের ফোনে ‘আকাশপথের হুমকি’র সতর্কবার্তা পাঠিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
সাম্প্রতিক সময়ে হামলার মাত্রা শহরের কেন্দ্রের কাছাকাছি চলে আসায় রিয়াদ জুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। যানজট কমাতে এবং নিরাপত্তার স্বার্থে রিয়াদের সব স্কুলে অনলাইন ক্লাস ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে 'হোম অফিস' চালু করা হয়েছে। এছাড়া নিরাপত্তা শঙ্কায় ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর দল আল নাসরের ম্যাচসহ তিনটি ফুটবল খেলা এবং ‘সিক্স কিংস স্ল্যাম’ টেনিস টুর্নামেন্ট স্থগিত করা হয়েছে।
হুতিদের এই ধারাবাহিক হামলার জবাবে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ইয়েমেনের রাজধানী সানায় হুতিদের শক্ত ঘাঁটি এবং পশ্চিমাঞ্চলীয় জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে বিমান হামলা চালিয়েছে। এর ফলে ইয়েমেনের সাধারণ মানুষের মধ্যে জ্বালানি সংকটের তীব্র আশঙ্কা দেখা দিয়েছে এবং সাধারণ মানুষ পেট্রল পাম্পগুলোতে ভিড় জমাচ্ছে।
গত শনিবার রিয়াদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভয়াবহ এক হামলায় ১৩ জন নিহত হন, যা ২০১৫ সালের পর সৌদি ভূখণ্ডে সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা। এর পর থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধের তীব্রতা বৃদ্ধি পায়। সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, দেশের নিরাপত্তা এবং লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা রক্ষা করতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত থাকা সত্ত্বেও চলতি মাসের শেষে রিয়াদে নির্ধারিত আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ সম্মেলন (‘মরুভূমির দাভোস’) আয়োজনের প্রস্তুতি অব্যাহত রেখেছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।
বাংলাবার্তা/এমএইচ
.png)
.png)
.png)



