ছবি: সংগৃহীত
ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের ২ নম্বর দলের সঙ্গে ৬৪ নম্বর দলের লড়াই, কেপ ভার্দের বিপক্ষে বিশ্বকাপ নকআউটের এই ম্যাচে কাগজে-কলমে যোজন যোজন এগিয়ে ছিল আর্জেন্টিনা। যেভাবে গ্রুপ পর্বের ৩ ম্যাচ খেলেছে আর্জেন্টিনা, তাতে কেপ ভার্দের মতো দলের বিপক্ষে লিওনেল মেসিদের তেমন চ্যালেঞ্জ দেখছিলেন না বিশ্লেষকরা। তবে সব ধরনের পরিসংখ্যানকে পেছনে ফেলে বুক চিতিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে লড়েছে কেপ ভার্দে।
নির্ধারিত সময় এবং অতিরিক্ত সময়ে দুইবার পিছিয়ে পড়ার পরেও দুইবারই সমতায় ফিরেছে কেপ ভার্দে। অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্সে রীতিমতো বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের ঘাম ছুটিয়েছে প্রথমবার বিশ্বকাপে আসা দলটি। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। ১১১ মিনিটে ক্রিশ্চিয়ান রোমেরোর গোলে ইতি ঘটে কেপ ভার্দে রূপকথার।
মায়ামিতে কেপ ভার্দেকে ৩-২ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ১৬-তে জায়গা করে নিয়েছে আর্জেন্টিনা।
আজ (৪ জুন) অবশ্য মাঠে নেমেই বিশ্বকাপ ইতিহাসে নতুন এক মাইলফলক গড়েছেন মেসি। এই ম্যাচটি বিশ্বকাপে তার ৩০তম ম্যাচ, যা এই প্রতিযোগিতার ইতিহাসে কোনো ফুটবলারের সর্বোচ্চ। শুধু এটাই নয়, এটি বিশ্বকাপে তার ২৭তম ম্যাচে শুরুর একাদশে খেলার রেকর্ড, যে রেকর্ডও আর কোনো ফুটবলারের নেই।
রেকর্ডময় ম্যাচে ২৯ মিনিটে কেপ ভার্দের দেয়ালও ভাঙেন মেসিই। মাঝমাঠ থেকে লিসান্দ্রো মার্টিনেজের বাড়ানো বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে গোলকিপারের মাথার ওপর দিয়ে জালে জড়ান। এটি বিশ্বকাপে সব মিলিয়ে তার ২০তম গোল। এই বিশ্বকাপে সব মিলিয়ে সপ্তম এবং সর্বোচ্চ। ৬ গোল নিয়ে তার পেছনে আছেন ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে।
এদিকে, র্যাঙ্কিং এবং শক্তির দিক থেকে অনেকটা পিছিয়ে থাকলেও মায়ামিতে এদিন শুরু থেকেই ইতিবাচক ফুটবল খেলেছে আর্জেন্টিনা। নিজেদের গুটিয়ে না রেখে চেষ্টা করছে আক্রমণে যাওয়ার। তবে প্রথমার্ধে নিশ্চিত গোলের কোনো সুযোগ তৈরি করতে পারেনি বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। লিড নিয়ে বিরতিতে যায় বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
দ্বিতীয়ার্ধের ৫৯তম মিনিটে সমতা ফেরায় কেপ ভার্দে। রায়ান মেন্ডেসের ডান দিক থেকে বল বাড়ানো বল যায় ডেরয় দুয়ার্তের কাছে। আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগের নজর এড়িয়ে ফাঁকা জায়গায় বল পান। তাকে ঠেকাতে দ্রুত এগিয়ে আসেন লিসান্দ্রো মার্টিনেজ। কিন্তু দুয়ার্তে দুর্দান্ত এক শটে বল পাঠিয়ে দেন মার্টিনেজের দুই পায়ের ফাঁক দিয়ে।
৬৩ মিনিটে লিওনেল মেসির দারুণ শট ফিরিয়ে দেন ভোজিনহা। ৭৩ মিনিটে আবারও মেসির গোলমুখ থেকে নেয়া ফ্রি কিক ফিরিয়ে দেন ভোজিনহা। ম্যাচের বাকিটা আর্জেন্টিনা একাধিকবার চেষ্টা করলেও কেপ ভার্দের দেয়াল ভাঙতে পারেনি। ফলে খেলা গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।
অতিরিক্ত সময়ের তৃতীয় মিনিটেই আবার লিড নেয় আর্জেন্টিনা। কর্ণার থেকে বাড়ান বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে লিসান্দ্রো এমন ভঙ্গি করেন যেন দূরের কোণে শট নেবেন। কিন্তু সবাইকে চমকে দিয়ে বলটি জোরালো বাঁকানো শটে নিজের দিকের ওপরের কোণেই পাঠিয়ে দেন।
এই গোলকেই যখন ম্যাচ নির্ধারণী গোল ভাবা হচ্ছিল, তখনই আবার চমক নিয়ে আসে কেপ ভার্দের সিডনি কাবরাল।র বাঁ প্রান্তে বল পেয়ে সিডনি কাবরাল ভেতরের দিকে কাট করেন। এরপর ডান পায়ে দুর্দান্ত এক বাঁকানো শট নেন, আর বল গিয়ে জড়ায় দূরের ওপরের পোস্টে।
নাটকীয় ম্যাচে আর্জেন্টিনার হয়ে শেষ পেরেকটা ঠুকেন ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো। ১১১ মিনিটে কর্ণার থেকে মেসির পাঠানো বল সবার ওপরে উঠে শক্তিশালী হেড করেন রোমেরো, বল জড়িয়ে যায় জালে। কষ্টার্জিত জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।
.png)
.png)
.png)



