ছবি: সংগৃহীত
জোটগত সমঝোতা নিয়ে সন্তুষ্ট থাকলেও স্বতন্ত্র ও বিদ্রোহী প্রার্থীদের কারণে আসন্ন সংসদ নির্বাচনে চাপে পড়েছে বিএনপি। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে বহু নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় বিভিন্ন আসনে বহুমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক ও ধারাবাহিক আলোচনার পর বেশ কয়েকজন প্রার্থী নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিলেও এখনো প্রায় ৫০টির মতো আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মাঠে রয়েছেন বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।
বিএনপি সূত্র জানায়, শুরুতে ৫২টি আসনে দলের ৯১ জন নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেন। তাঁদের মধ্যে দলীয় পদধারী ও সাবেক নেতারাও রয়েছেন। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ইতোমধ্যে ১১ জনকে বহিষ্কার করা হয়েছে। অন্য বিদ্রোহীদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে এবং গুলশান কার্যালয়ে ডেকে আলোচনা করা হচ্ছে। তপশিল অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘দলের সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে বিদ্রোহী প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হয়েছে। অনেকেই ইতোমধ্যে প্রত্যাহার করেছেন, অনেকে করবেন বলে জানিয়েছেন। নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হবে বলে আমরা আশা করছি।’
ইতোমধ্যে যাঁরা সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন— ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনে বিএনপির চেয়ারপারসনের সাবেক উপদেষ্টা ও সাবেক এমপি একরামুজ্জামান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনের সাবেক এমপি ও জেলা বিএনপির উপদেষ্টা এম এ খালেক, সুনামগঞ্জ-৫ আসনে কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য মো. মিজানুর রহমান চৌধুরী, বরিশাল-৩ আসনে আ. সত্তার খান, ভোলা-১ আসনে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম নবী আলমগীর, রাজশাহী-৬ আসনে যুবদলের সাবেক সভাপতি আনোয়ার হোসেন উজ্জ্বল ও যুবদলের আহ্বায়ক মাসুদুর রহমান।
দলীয় সূত্র আরও জানায়, বেশ কয়েকটি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও দল-মনোনীত প্রার্থীর মধ্যে সমঝোতা হয়েছে। বিএনপির চেয়ারম্যান ব্যক্তিগতভাবে অনেক বিদ্রোহীর সঙ্গে কথা বলছেন এবং রাজনৈতিক মূল্যায়নের আশ্বাস দিচ্ছেন। শেষ মুহূর্তে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রার্থী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করবেন— এমন প্রত্যাশা রয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সংখ্যা শূন্যে নামিয়ে আনার সিদ্ধান্তও রয়েছে।
ঢাকা-১২ আসনে বিএনপি সমমনা দল বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হককে সমর্থন দিয়েছে। এখানে আগে মনোনয়ন পাওয়া যুবদলের সাবেক সভাপতি সাইফুল আলম নীরব স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় তাঁকে বহিষ্কার করা হয়। চট্টগ্রাম-১৬ আসনে প্রার্থী হয়েছেন মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী; এখানে স্বতন্ত্র প্রার্থী দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক লেয়াকত আলী। চট্টগ্রাম-১৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী জসিম উদ্দিন আহমেদ; স্বতন্ত্র হিসেবে রয়েছেন শফিকুল ইসলাম রাহী।
সিলেট-৫ আসনে শরিক দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সভাপতি উবায়দুল্লাহ ফারুককে সমর্থন দিয়েছে বিএনপি; এখানে স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা বিএনপির সহসভাপতি মামুনুর রশীদ (চাকসু মামুন), যাঁকে বহিষ্কার করা হয়েছে। নাটোর-১ আসনে বিএনপি মনোনীত ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুলের বিপরীতে স্বতন্ত্র হিসেবে দাঁড়িয়েছেন তাঁর ভাই ডা. ইয়াসিন আরশাদ রাজন ও কেন্দ্রীয় সহদপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ ও ২ আসনসহ দেশের নানা এলাকায় একাধিক স্বতন্ত্র প্রার্থী মাঠে রয়েছেন। ময়মনসিংহ জেলার ১১টি আসনের মধ্যে সাতটিতে বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় দলটি বাড়তি চাপে পড়েছে। জেলা বিএনপি নেতারা জানান, ময়মনসিংহ-৬ ও ৭ আসনে বিদ্রোহের সুযোগে অপেক্ষাকৃত দুর্বল প্রার্থীদের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
কিশোরগঞ্জ-৫, চাঁদপুর-৪, জয়পুরহাট-২, রাজবাড়ী-২, মাদারীপুর-১ ও ২, হবিগঞ্জ-১, পটুয়াখালী-৩, ঝিনাইদহ-৪, নারায়ণগঞ্জের একাধিক আসন, গোপালগঞ্জ-২, বাগেরহাট-১ ও ২সহ বহু আসনে দল-মনোনীত প্রার্থীর বিপরীতে স্বতন্ত্র প্রার্থী থাকায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা জটিল হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে বিদ্রোহীদের বহিষ্কার করা হলেও মাঠের বাস্তবতায় ভোটের সমীকরণে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
চাঁদপুর-২, টাঙ্গাইল-১ ও ৩সহ আরও কয়েকটি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপি নেতারা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রত্যাহার সম্পন্ন হলে জোটগত সন্তুষ্টির পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে শৃঙ্খলা ফিরবে— এমনটাই আশা দলটির।
বাংলাবার্তা/এমএইচ
.png)
.png)
.png)



