ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনার সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের আকাশপথে। ইরান–যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার জেরে অঞ্চলটির কয়েকটি দেশ সাময়িকভাবে তাদের আকাশসীমা বন্ধ ঘোষণা করে। এর ফলে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে আজ বুধবার (৩ মার্চ) পর্যন্ত ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মোট ১৭৩টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। শুধুমাত্র আজই বাতিল হয়েছে ২৫টি ফ্লাইট।
বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথ অচল হয়ে পড়ায় সংশ্লিষ্ট রুটের ফ্লাইটগুলো পরিচালনা সম্ভব হয়নি। এতে করে হঠাৎ করেই বিপাকে পড়েন হাজারো যাত্রী, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যগামী প্রবাসী কর্মীরা। অনেকে টিকিট কনফার্ম থাকা সত্ত্বেও নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে যেতে পারেননি। কেউ কেউ বিমানবন্দরে এসে ফ্লাইট বাতিলের খবর পেয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েন।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)-এর জনসংযোগ বিভাগের কর্মকর্তা কাওছার মাহমুদ গণমাধ্যমকে জানান, আকাশসীমা বন্ধের কারণে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে ফ্লাইট চলাচল সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ধাপে ধাপে ফ্লাইট পরিচালনা পুনরায় শুরু হবে।
বেবিচক সূত্রে আরও জানা যায়, ২৮ ফেব্রুয়ারি বাতিল করা হয় ২৩টি ফ্লাইট। পহেলা মার্চ বাতিল হয় ৪০টি ফ্লাইট। ২ মার্চ বাতিল করা হয় ৪৬টি ফ্লাইট এবং ৩ মার্চ বাতিল হয় ৩৯টি ফ্লাইট। সর্বশেষ আজ ২৫টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। পাঁচ দিনের এই হিসাবে মোট বাতিলের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭৩।
আজ বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে রয়েছে Qatar Airways ও US-Bangla Airlines-এর চারটি করে ফ্লাইট। এছাড়া Kuwait Airways ও Jazeera Airways-এর দু’টি করে ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। Air Arabia-এর আটটি এবং Emirates-এর পাঁচটি ফ্লাইটও বাতিলের তালিকায় রয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডান তাদের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করে। নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি এড়াতে নেওয়া এই সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়ে আন্তর্জাতিক রুটে। যেসব ফ্লাইটকে এসব দেশের আকাশসীমা অতিক্রম করতে হয়, সেগুলো বাতিল বা স্থগিত রাখতে বাধ্য হয় সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সগুলো।
বিমানবন্দর সংশ্লিষ্টরা জানান, হঠাৎ করে এত বিপুল সংখ্যক ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় যাত্রী ব্যবস্থাপনায় বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। টিকিট রি-শিডিউল, রিফান্ড এবং বিকল্প রুটে যাত্রার ব্যবস্থা নিয়ে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ করছেন যাত্রীরা। অনেকেই কর্মস্থলে যোগদান বা ভিসার মেয়াদ নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন।
বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের জন্য পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। ছুটি কাটিয়ে দেশে আসা অনেক কর্মী নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে ফিরতে না পারায় চাকরি নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। আবার নতুন ভিসা পাওয়া যাত্রীরাও ফ্লাইট অনিশ্চয়তায় দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।
বেবিচক জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলো আকাশসীমা খুলে দিলে এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি অনুকূলে এলে ফ্লাইট চলাচল স্বাভাবিক করা হবে। ততদিন যাত্রীদের ধৈর্য ধারণ এবং নিজ নিজ এয়ারলাইন্সের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক উত্তেজনা শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তা নয়, বৈশ্বিক বিমান চলাচলেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। ঢাকার প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে টানা পাঁচ দিনে ১৭৩টি ফ্লাইট বাতিল হওয়া তারই স্পষ্ট প্রমাণ। পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।
বাংলাবার্তা/এমএইচ
.png)
.png)
.png)



