ছবি: সংগৃহীত
ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী বলেছেন, ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর পুলিশ যে সমালোচনা ও বদনামের মুখে পড়েছিল, আসন্ন নির্বাচন সেই কলঙ্ক মোচনের এক বড় সুযোগ এনে দিয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এবারের নির্বাচনকে সর্বজনগ্রহণযোগ্য করতে হলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে, আর পুলিশ সে দায়িত্ব যথাসাধ্য পালন করবে।
শুক্রবার (২২ আগস্ট) রাতে বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ক্র্যাব) ৪২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ‘ক্র্যাব নাইট’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ডিএমপি কমিশনার। রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, পুলিশের চ্যালেঞ্জ, সাংবাদিকদের ভূমিকা এবং আসন্ন নির্বাচন ঘিরে জনআকাঙ্ক্ষার বিষয়গুলো উঠে আসে।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, "আগামী নির্বাচন শুধু বাংলাদেশের মানুষের জন্যই নয়, আন্তর্জাতিক পরিসরেও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, এ নির্বাচন সর্বজনগ্রহণযোগ্য হবে। নির্বাচনকালীন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ আন্তরিকভাবে দায়িত্ব পালন করবে এবং কোনো প্রকার আপস করা হবে না।"
তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ২০১৮ সালের নির্বাচনে পুলিশের ভূমিকাকে ঘিরে দেশজুড়ে সমালোচনা হয়েছিল। অনেক ক্ষেত্রেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বের অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়। সে অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে পুলিশ এবারের নির্বাচনে ভিন্ন ভূমিকা রাখতে চায়।
শেখ মো. সাজ্জাত আলী বলেন, জুলাই মাসে যে আন্দোলন চলেছিল, তাতে পুলিশের অনেক সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন, অসংখ্য আহত হয়েছেন এবং বিভিন্ন থানাসহ অবকাঠামোতে ভাঙচুর চালানো হয়েছে। এর ফলে পুলিশের মনোবল ভীষণভাবে ভেঙে পড়েছিল। তবে তিনি দাবি করেন, যৌথ প্রচেষ্টা ও দৃঢ় মানসিকতায় পুলিশ আবারও ঘুরে দাঁড়িয়েছে। এখন পুলিশ সদস্যরা নতুন উদ্যমে কাজ করছে এবং জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধারে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে।
ডিএমপি কমিশনার মনে করেন, ক্রাইম রিপোর্টাররা পুলিশের মতোই কঠিন কাজ করে থাকেন। অপরাধ জগতের তথ্য সংগ্রহে সাংবাদিকরা যেমন ঝুঁকি নেন, পুলিশও একইভাবে ঝুঁকি নিয়ে অপরাধ দমন করে। তাই সাংবাদিক ও পুলিশের মধ্যে সহযোগিতা থাকা অত্যন্ত জরুরি। তিনি বলেন, "ডিএমপি সবসময় ক্র্যাবের পাশে ছিল এবং থাকবে। আমি ব্যক্তিগতভাবে যতটুকু সম্ভব সাংবাদিকদের পাশে থাকব।"
অনুষ্ঠানে ক্র্যাবের পক্ষ থেকে ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলীকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। একইসঙ্গে জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী আসিফ আকবরকেও বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয়। এছাড়া ক্র্যাবের বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটি ও আগামী বছরের নবনির্বাচিত নেতৃবৃন্দকেও সম্মাননা জানানো হয়। চলতি বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ক্র্যাব সদস্যদের সন্তানদেরও বিশেষভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়, যা অনুষ্ঠানটিকে আরও আনন্দঘন করে তোলে।
অনুষ্ঠানে ক্র্যাবের সাবেক সভাপতি এবং বর্তমান ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিয়নের (ডিআরইউ) সভাপতি আবু সালেহ আকন উপস্থিত সবাইকে শুভেচ্ছা জানান। এ ছাড়া ক্র্যাব সভাপতি মির্জা মেহেদী তমাল, সাধারণ সম্পাদক এমএম বাদশাহ, কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যসহ বিপুল সংখ্যক সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন।
সব মিলিয়ে, ডিএমপি কমিশনারের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে, পুলিশ অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে আসন্ন নির্বাচনে সৎ ও নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। ২০১৮ সালের বদনাম ঘোচাতে এবং জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার করতে পুলিশ এবার সব ধরনের চাপ ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে প্রস্তুত। একইসঙ্গে সাংবাদিকদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি।
বাংলাবার্তা/এমএইচ
.png)
.png)
.png)



