ছবি: সংগৃহীত
দেশজুড়ে আবহাওয়ার পরিস্থিতি অস্থিতিশীল হয়ে উঠছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, দেশের সব বিভাগেই বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। বিশেষ করে উপকূলীয় ও দক্ষিণাঞ্চলীয় জেলাগুলোতে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ কারণে নদীবন্দরগুলোকে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে দেশের সব অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরকে ০১ নম্বর সতর্ক সংকেত প্রদর্শনের নির্দেশ দিয়েছে আবহাওয়া অফিস।
শনিবার (২৩ আগস্ট) সকালে অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ একেএম নাজমুল হক স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজার অঞ্চলের উপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ–পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫-৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। ফলে এসব অঞ্চলের নদীবন্দরগুলোকে ০১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আরেকটি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শনিবার রাত থেকে রোববার (২৪ আগস্ট) সকাল পর্যন্ত দেশের সব বিভাগে অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। এ সময় কোথাও কোথাও ভারি বর্ষণ এবং পরবর্তী কয়েক দিনে অতি ভারি বর্ষণের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
বিশেষ করে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলে সামুদ্রিক প্রভাবের কারণে বৃষ্টিপাতের তীব্রতা বেশি হতে পারে। এছাড়া উত্তরাঞ্চলেও স্থানীয়ভাবে প্রবল বর্ষণের পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস।
আবহাওয়াবিদদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তা বাড়ায় এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। মৌসুমি বায়ু বর্তমানে বাংলাদেশে পুরোপুরি সক্রিয় অবস্থায় রয়েছে। ফলে দক্ষিণাঞ্চল থেকে আর্দ্রতা প্রবাহিত হয়ে দেশের ভেতর ঢুকে ব্যাপক মেঘমালা তৈরি করছে। এতে বজ্রবৃষ্টি ও দমকা হাওয়ার প্রবণতা বেড়ে গেছে।
উপকূলীয় অঞ্চল ছাড়াও দেশের ভেতরের বেশ কিছু জেলায় বজ্রঝড় হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, নদীবন্দর ছাড়াও নৌ-যানগুলোকে সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করতে হবে। ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইলে ছোট ট্রলার ও মাঝারি আকারের নৌযানগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে। এ কারণে জেলেদের সমুদ্রে মাছ ধরতে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বজ্রবৃষ্টি এবং প্রবল বর্ষণ কৃষিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। একদিকে দীর্ঘ সময়ের তীব্র গরমের পর এ বৃষ্টিপাত কৃষিজমিতে প্রয়োজনীয় আর্দ্রতা ফিরিয়ে দেবে। বিশেষ করে আমন ধান ও শাকসবজির মাঠে এ বৃষ্টি উপকারী হবে। তবে অতি ভারি বর্ষণ হলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতে পারে, যা ক্ষতির কারণও হতে পারে।
শহরাঞ্চলে ভারি বৃষ্টিতে সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ঢাকাসহ বড় শহরগুলোতে ড্রেনেজ ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে জলাবদ্ধতার সমস্যা দেখা দিতে পারে। অন্যদিকে, গ্রামাঞ্চলে বজ্রপাতের ঝুঁকি থাকায় মানুষকে খোলা মাঠ ও উঁচু জায়গায় অবস্থান থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, এই ধরনের আবহাওয়া পরিস্থিতি কয়েক দিন ধরে চলতে পারে। তাই জনসাধারণকে সাবধানতার সঙ্গে চলাফেরা করার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশেষ করে নদীবন্দর ও উপকূলীয় অঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। বজ্রপাতের সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার, গাছের নিচে অবস্থান এবং পানিতে নামা থেকে বিরত থাকতে হবে।
সার্বিকভাবে, বাংলাদেশ এখন একটি মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তার সময় পার করছে। বৃষ্টি দেশের তাপমাত্রা কিছুটা কমিয়ে আনলেও ঝড়ো হাওয়া ও বজ্রপাত বড় ধরনের দুর্ঘটনা ডেকে আনতে পারে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে বৃষ্টিপাতের ধারা আরও বাড়তে পারে এবং দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অতি ভারি বর্ষণের কারণে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি এবং বন্যার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
বাংলাবার্তা/এমএইচ
.png)
.png)
.png)



