ছবি: সংগৃহীত
ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি বাংলাদেশসহ এশিয়ার পাঁচটি দেশে নির্ধারিত সরকারি সফর আপাতত বাতিল করেছেন। এই সিদ্ধান্তের কথা বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) বাংলাদেশ সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়। তথ্য অনুযায়ী, সফরের সূচি অনুযায়ী এশিয়ার পাঁচটি দেশে সফরের প্রথম স্টপ ছিল বাংলাদেশ, যেখানে মেলোনি প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের আমন্ত্রণে ৩০ আগস্ট ঢাকায় আসার কথা ছিল। পরদিন প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকও নির্ধারিত ছিল।
ঢাকায় মেলোনির সফর মূলত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক শক্তিশালী করা, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং দুই দেশের মধ্যে শিক্ষা, সংস্কৃতি ও বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও সম্প্রসারিত করার লক্ষ্যে পরিকল্পিত হয়েছিল। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠকে আলোচনা হওয়ার কথা ছিল বিভিন্ন সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রকল্পের অগ্রগতি, ইতালির বিনিয়োগ ও সাহায্য, এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় বাংলাদেশের ভূমিকা নিয়ে।
বাংলাদেশ সফরের পরে মেলোনি সিঙ্গাপুর, ভিয়েতনাম, দক্ষিণ কোরিয়া এবং জাপান সফর করার কথা ছিল। কিন্তু এসব সফরও একই সঙ্গে বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। ইতালির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ইউক্রেন যুদ্ধ সংক্রান্ত পরিস্থিতি ও ন্যাটো মহাসঙ্ঘের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার সঙ্গে চলমান আলোচনা এবং ইতালির নেতৃত্বপূর্ণ ভূমিকার কারণে এশিয়ার সফর স্থগিত করা হলো।
ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইতালি ন্যাটো সদস্য দেশগুলোর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক ভূমিকা পালন করছে। যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনায় ইতালির অংশগ্রহণ ও নেতৃত্বের কারণে প্রধানমন্ত্রী মেলোনি তার পূর্বনির্ধারিত বিদেশি সফর স্থগিত করেছেন। এটি আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে ইতালির সক্রিয় ও ব্যস্ত অবস্থারই প্রতিফলন।
বাংলাদেশসহ এশিয়ার অন্যান্য দেশের সঙ্গে ইতালির ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখার জন্য মেলোনির সফর গুরুত্বপূর্ণ বিবেচিত হয়েছিল। সরকারি সূত্রে জানা গেছে, সফর বাতিল হলেও দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ, বাণিজ্যিক আলোচনা এবং শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিনিময় অব্যাহত থাকবে। বাংলাদেশ সরকার ইতালির কাছে পরবর্তীতে সফরের নতুন তারিখ নির্ধারণের অনুরোধ জানিয়েছে।
এশিয়ার সফর বাতিলের পরও ইতালির প্রধানমন্ত্রী মেলোনি ইউক্রেন বিষয়ক আলোচনায় সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকবেন। কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, ভবিষ্যতে পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলে মেলোনি আবারও এশিয়ার বিভিন্ন দেশে সফর করবেন, যেখানে বাংলাদেশ সফর বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে পুনঃনির্ধারণ করা হতে পারে।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ইতালির এই পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক দায়িত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন। দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং সাংস্কৃতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো আগামীতেও অক্ষুণ্ণ রাখা হবে।
বাংলাবার্তা/এমএইচ
.png)
.png)
.png)



