ছবি: সংগৃহীত
টানা প্রবল বজ্রবৃষ্টি, শিলাবৃষ্টি এবং আকস্মিক বিধ্বংসী বন্যার চরম ঝুঁকিতে পড়েছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরব। উদ্ভুত প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা ও জানমালের সুরক্ষায় আগামী শনিবার পর্যন্ত দেশজুড়ে সর্বোচ্চ পর্যায়ের আবহাওয়া সতর্কতা জারি করেছে সৌদি জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্র (এনসিএম)। আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, তীব্র বৃষ্টিপাতের পাশাপাশি ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটারেরও বেশি বেগে কালবৈশাখীর মতো তাণ্ডবী হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এমনকি দেশের একাধিক অঞ্চলে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় (টর্নেডো) সৃষ্টি এবং উপকূলীয় সাগরে ভয়াল জলস্তম্ভ (ওয়াটারস্পাউট) তৈরির প্রবল শঙ্কা রয়েছে।
সৌদি জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্রের বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিন পুরো দেশের প্রায় সব প্রান্তেই হালকা থেকে শুরু করে মুষলধারে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে। প্রবল ঝোড়ো বাতাসের কারণে মরুভূমির বালু উড়ে চতুর্দিক ধূলিমেঘে ঢেকে যেতে পারে। এতে করে মহাসড়ক ও স্থানীয় রাস্তাগুলোতে দৃষ্টিসীমা শূন্যের কোঠায় নেমে আসার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে, যা যান চলাচলের ক্ষেত্রে মারাত্মক বিপদ ডেকে আনতে পারে।
দুর্যোগপূর্ণ এই আবহাওয়ায় সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে পবিত্র মক্কা নগরী, জাজান, আসির ও আল বাহা অঞ্চল। এসব এলাকায় শনিবার পর্যন্ত মাঝারি থেকে অতি ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। মক্কা নগরী ছাড়াও সংলগ্ন তায়েফ, আল জুমুম, বাহরাহ এবং আদহামের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতেও বৃষ্টির তীব্র দাপট দেখা যেতে পারে।
অন্যদিকে রাজধানী রিয়াদ, পবিত্র মদিনা শহর, তাবুক, শিলা ও নাজরানের বিভিন্ন অংশে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এর বাইরে লোহিত সাগরের উপকূলীয় বাণিজ্যিক কেন্দ্র জেদ্দা ও রাবিগেও অন্তত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দফায় দফায় হালকা বর্ষণ হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানিয়েছেন যে, প্রচণ্ড ঝোড়ো বাতাসের প্রভাবে উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে সমুদ্রের ঢেউ স্বাভাবিকের চেয়ে অস্বাভাবিক উঁচু ও বিপজ্জনক রূপ ধারণ করতে পারে। আবহাওয়া দপ্তরের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এই চরম দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতি শুধু চলতি সপ্তাহেই সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে; বরং আবহাওয়ার এই বৈরী রূপ আগামী সপ্তাহের শেষ পর্যন্ত গরাতে পারে।
বিদ্যমান সংকটময় পরিস্থিতিতে সৌদি জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্র (এনসিএম) দেশের সর্বসাধারণ ও যানবাহন চালকদের অতি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না বের হওয়ার কড়া নির্দেশ দিয়েছে। বিশেষ করে আকস্মিক বন্যাপ্রবণ নিচু এলাকা এবং ওয়াদি (মরুভূমির শুষ্ক নদী খাত) থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা এড়াতে নাগরিক ও প্রবাসীদের সরকারি তথ্য বুলেটিন এবং এনসিএম-এর অফিশিয়াল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের হালনাগাদ তথ্যের দিকে নজর রাখতে বলা হয়েছে।
সূত্র: গালফ নিউজ
বাংলাবার্তা/এমএইচ
.png)
.png)
.png)



