ছবি: সংগৃহীত
আগামী বছর ২১ জানুয়ারি থেকে পাঁচ ধাপে দেশে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন শুরুর পরিকল্পনা সামনে রেখে নির্বাচন উপযোগী ইউনিয়নের তালিকায় কোনো ভুলত্রুটি বা আইনি জটিলতা রয়েছে কি না, তা পুনরায় যাচাইয়ের উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
নির্বাচন কমিশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ২১ জানুয়ারি প্রথম ধাপের ভোটগ্রহণের মাধ্যমে সারাদেশের স্থানীয় সরকারের প্রাথমিক এই ধাপে ভোট শুরু হতে যাচ্ছে। তবে নির্বাচন তফসিল ঘোষণার আগেই কোনো যোগ্য ইউনিয়নের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে কি না, কিংবা সীমানা সংক্রান্ত কোনো মামলা বা আইনি জটিলতা নিষ্পত্তি হয়েছে কি না—তা শতভাগ নিশ্চিত করতে চাইছে কমিশন। একই সঙ্গে কোনো ইউনিয়নের নামের বানান, তারিখ, ভোটার তালিকা পুনর্বিন্যাস বা ভৌগোলিক সীমানার প্রশাসনিক তথ্যে কোনো ধরনের অসঙ্গতি থাকলে তাও সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ইসির নির্দেশনায় স্পষ্ট করা হয়েছে যে, সকল জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকে তাদের সংশ্লিষ্ট জেলা ও উপজেলার তথ্য স্থানীয় সরকার বিভাগের মাঠপর্যায়ের বার্ষিক তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে হবে। যদি তালিকায় কোনো ধরনের সংযোজন, বিয়োজন কিংবা তথ্যগত সংশোধন প্রয়োজন হয়, তবে তা আগামী ৮ নভেম্বরের মধ্যে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের ‘নির্বাচন ব্যবস্থাপনা ও সমন্বয়-৩’ শাখায় জরুরিভিত্তিতে পাঠাতে হবে। মাঠপর্যায়ে প্রেরিত তালিকায় তথ্যাদি সম্পূর্ণ সঠিক পাওয়া গেলেও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের তা লিখিতভাবে ইসিকে নিশ্চিত করতে হবে।
ইসি সচিবালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেনের স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে দেশের সকল জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকে এই বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, মাঠপর্যায়ের জেলা ও স্থানীয় সরকার বিভাগের পাঠানো তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই খসড়া তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছিল। তবে চূড়ান্ত ভোটগ্রহণের পূর্বে আইনি বিরোধ বা প্রশাসনিক জটিলতামুক্ত নিখুঁত তালিকা থাকা আবশ্যক। তাই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জেলা কর্মকর্তাদের সব জটিলতা খতিয়ে দেখে লিখিত রিপোর্ট প্রেরণের তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে দেশে মোট ৪ হাজার ৫৮০টি ইউনিয়ন পরিষদ রয়েছে। এর মধ্যে স্থানীয় সরকারের মেয়াদ পূর্ণ হওয়া এবং প্রশাসনিক বাধ্যবাধকতা বিবেচনায় চলতি বছর ও আগামী বছরের শুরুতে প্রায় ৩ হাজার ৯৮১টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন উপযোগী হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। অবশিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদগুলোর মেয়াদ শেষ না হওয়ায় সেগুলোতে ২০২৭ ও ২০২৮ সালের দিকে সুবিধাজনক সময়ে পর্যায়ক্রমে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। কমিশন মাঠপর্যায়ের এই পুনর্যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেই প্রথম ধাপের ইউপি নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক তফসিল ঘোষণার দিকে এগোবে।
বাংলাবার্তা/এমএইচ
.png)
.png)
.png)



