ছবি: সংগৃহীত
জার্মানির খুচরা বাজারে পণ্য চুরির ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, দোকান থেকে পণ্য হারানোর পরিমাণ আবারও রেকর্ড ছাড়িয়েছে।
ব্যবসায়ীরা এক বছরে কয়েক বিলিয়ন ইউরোর ক্ষতির মুখে পড়েছেন, যেখানে শুধু ক্রেতাই নয়, কর্মচারী ও সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গেও চুরির সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) জার্মানির খুচরা খাত নিয়ে কাজ করা গবেষণা সংস্থা ইএইচআই একটি নতুন সমীক্ষা প্রকাশ করে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫ সালে দেশজুড়ে দোকানগুলো থেকে মোট ৪ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন ইউরো মূল্যের পণ্য চুরি হয়েছে। যা আগের বছরের তুলনায় ৩ দশমিক ১ শতাংশ বেশি।
প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে জার্মান সংবাদমাধ্যম টাগেসচাও।
গবেষণায় দেখা যায়, এসব চুরির বড় অংশই করছে সাধারণ ক্রেতারা। তবে সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, অনেক ক্ষেত্রে সংঘবদ্ধ চক্র দোকানে ক্রেতার ছদ্মবেশে প্রবেশ করে চুরি করছে। মোট চুরির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এ ধরনের সংগঠিত চক্রের মাধ্যমে ঘটেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
তারা মূলত মদ, প্রসাধনী, ব্র্যান্ডের সুগন্ধি এবং শেভিং ব্লেড চুরি করে বাইরে নিয়ে বিক্রি করছে।
শুধু ক্রেতাই নয়, খুচরা খাতের কর্মচারীদের মাধ্যমেও বড় ধরনের ক্ষতি হচ্ছে। সমীক্ষা অনুযায়ী, কর্মীদের চুরির কারণে গত বছর প্রায় ৯১ কোটি ইউরো ক্ষতি হয়েছে। পাশাপাশি ডেলিভারি বা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের কারণে আরো প্রায় ৩৭ কোটি ইউরোর ক্ষতি হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, অনেক ক্ষেত্রে সরাসরি চুরির বাইরে প্রশাসনিক ও ব্যবস্থাপনার ভুলের কারণেও বড় ক্ষতি হচ্ছে।
সময়মতো মূল্যছাড়ের স্টিকার না সরানো, হিসাবের ভুল এবং পণ্য সরবরাহে গরমিলের কারণে ২০২৫ সালে প্রায় ৭৮ কোটি ইউরো ক্ষতি হয়েছে।
নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে স্বয়ংক্রিয় চেকআউট ব্যবস্থা বা সেলফ-চেকআউট কাউন্টার। গবেষণা বলছে, এসব সিস্টেমে কিছু ক্রেতা ইচ্ছাকৃতভাবে পণ্য স্ক্যান না করে বা কম দামের পণ্য দেখিয়ে প্রতারণা করছে।
ইএইচআই-এর হিসাব অনুযায়ী, জার্মানির ২১ হাজারের বেশি দোকানে এই ধরনের চুরির কারণে সরকার প্রতি বছর প্রায় ৫৯ কোটি ইউরো ভ্যাট রাজস্ব হারাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়া এবং মূল্যস্ফীতির চাপ এই প্রবণতা বাড়িয়ে দিচ্ছে। সমীক্ষার লেখক ফ্রাঙ্ক হর্স্ট বলেন, অর্থনৈতিক চাপের কারণে অনেক ক্রেতা ও কর্মচারী আর্থিক সংকটে পড়ছেন, যার প্রভাব চুরির ঘটনার ওপর পড়ছে।
অন্যদিকে জার্মান খুচরা ব্যবসায়ী সমিতি (এইচডিই) জানিয়েছে, বাস্তবে দোকানে হওয়া চুরির বড় অংশই ধরা পড়ে না। তাদের মতে, প্রায় ৯৮ শতাংশ ঘটনা রিপোর্টের বাইরে থেকে যায়। অনেক সময় আইনি জটিলতা ও ঝামেলার কারণে ব্যবসায়ীরাও আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ করেন না।
ফলে প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ আরো বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বাংলাবার্তা/এমএইচ
.png)
.png)
.png)



