ছবি: সংগৃহীত
আজকাল ব্যস্ত জীবন, অনিয়মিত খাবার এবং দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপের কারণে অনেক মানুষই অস্থিরতা, ঘুমের সমস্যা এবং মনোযোগের অভাবে ভুগছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধুমাত্র ওষুধ নয়, খাদ্যাভ্যাসেও পরিবর্তন আনা জরুরি।
সঠিক খাদ্য নির্বাচনের মাধ্যমে মস্তিষ্ককে শান্ত রাখা, স্ট্রেস কমানো এবং মানসিক স্থিতি বজায় রাখা সম্ভব। এ ধরনের খাদ্যাভ্যাসকে ‘মস্তিষ্ক শান্ত করার ডায়েট’ বা ‘ব্রেন কেমিং ডায়েট’ বলা হয়।
মস্তিষ্ক শান্ত করার ডায়েট কী:
এই ডায়েট মূলত এমন খাবারের ওপর ভিত্তি করে, যা মস্তিষ্কের অতিরিক্ত চাপ কমায় এবং নার্ভ সিস্টেমকে সঠিকভাবে কাজ করতে সাহায্য করে। এটি স্ট্রেস হরমোন নিয়ন্ত্রণে রাখে, মানসিক অস্থিরতা কমায়, মুড ভালো রাখে এবং গভীর ঘুম নিশ্চিত করে। দীর্ঘমেয়াদে মনোযোগ ও স্মৃতিশক্তিও বাড়ায়।
খাবার যা থাকা উচিত:
- কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেট: লাল চাল, আটার রুটি, ওটস ইত্যাদি ধীরে ধীরে শক্তি সরবরাহ করে, হঠাৎ ক্লান্তি বা মুড পরিবর্তন কমায়।
- ভালো ফ্যাট: সামুদ্রিক মাছ, বাদামে থাকা ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড স্মৃতিশক্তি, সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং স্ট্রেস কমাতে সাহায্য করে।
- ম্যাগনেশিয়াম সমৃদ্ধ খাবার: পালং শাক, কলা, কুমড়ার বীজ নার্ভ ও মাসল রিল্যাক্স করে, ঘুমের সমস্যা ও অকারণ দুশ্চিন্তা কমায়।
- বি-ভিটামিন সমৃদ্ধ খাবার: ডাল, ডিম, দই নার্ভ সিস্টেম ঠিক রাখে, মানসিক ক্লান্তি ও মনোযোগের সমস্যা কমায়।
- প্রোবায়োটিক খাবার: দই ও টক খাবার হজম ভালো রাখে এবং মানসিক চাপ কমায়।
- পর্যাপ্ত পানি: দিনে ৮–১০ গ্লাস পানি মানসিক ও শারীরিক সুস্থতার জন্য অপরিহার্য।
খাবার যা কমানো উচিত:
অতিরিক্ত চা-কফি, চিনি, মিষ্টি, ফাস্ট ফুড ও প্রক্রিয়াজাত খাবার নার্ভ সিস্টেমকে উত্তেজিত করে, ঘুম ও মানসিক স্থিতি খারাপ করে।
কাদের জন্য উপকারী:
- দীর্ঘমেয়াদী স্ট্রেস ও দুশ্চিন্তার ক্ষেত্রে
- ঘুমের সমস্যা থাকলে
- হরমোনাল সমস্যা যেমন থাইরয়েড, পিসিওএস, পিএমএস, মেনোপজের সময়
- পরীক্ষার্থী বা মানসিক চাপের সময়
- মাথাব্যথা বা মাইগ্রেন প্রবণ হলে
- হজমের সমস্যা থাকলে
মস্তিষ্ক শান্ত করার ডায়েট ওষুধের বিকল্প নয়, তবে নিয়মিত ও সঠিকভাবে অনুসরণ করলে মানসিক চাপ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব এবং অনেক ক্ষেত্রে ওষুধের ওপর নির্ভরতা কমানো যায়।
বাংলাবার্তা/এমএইচ
.png)
.png)
.png)



