ছবি: সংগৃহীত
ওজন কমানো, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো এবং দীর্ঘস্থায়ী রোগ প্রতিরোধের জন্য ‘গ্রিন টি’-এর জুড়ি নেই। তবে পুষ্টিবিদ ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক নিয়ম না মেনে এই চা পান করলে উপকারের চেয়ে অপকারই বেশি হতে পারে। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে এটি শরীরের অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
গ্রিন টি-র জাদুকরী গুণাগুণ
গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত গ্রিন টি পানে ক্যানসার, টাইপ-২ ডায়াবেটিস, হৃদরোগ এবং আলঝেইমারের মতো রোগের ঝুঁকি কমে। এটি মেটাবলিজম বাড়িয়ে চর্বি পোড়াতে সাহায্য করে এবং মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি করে। কিন্তু এই সুফল পেতে হলে পান করার ধরনে পরিবর্তন আনা জরুরি।
গ্রিন টি পানের সময় যে ৮টি ভুল এড়িয়ে চলবেন
১. খাবার পরপরই পান করা: অনেকের ধারণা গ্রিন টি চর্বি পুড়িয়ে ফেলে, তাই খাওয়ার ঠিক পরেই এটি পান করেন। এটি ভুল কাজ। এতে খাবারের প্রোটিন হজমে ব্যাঘাত ঘটে। খাওয়ার অন্তত এক ঘণ্টা পর চা পান করা উচিত।
২. খালি পেটে পান: খালি পেটে গ্রিন টি পান করলে পাকস্থলীতে অ্যাসিডের মাত্রা বেড়ে গিয়ে বদহজম বা অস্বস্তি হতে পারে। এটি সবসময় দুই খাবারের মাঝের সময়ে বা হালকা নাস্তার পর পান করা ভালো।
৩. ফুটন্ত চায়ে মধু মেশানো: মধু স্বাস্থ্যের জন্য ভালো হলেও ফুটন্ত গরম চায়ে এটি মেশালে এর পুষ্টিগুণ নষ্ট হয়ে যায়। চা কিছুটা ঠান্ডা হওয়ার পর মধু মেশানো উচিত।
৪. ওষুধের সঙ্গে পান: গ্রিন টি দিয়ে ওষুধ সেবন করলে ওষুধের শোষণ বাধাগ্রস্ত হতে পারে এবং অ্যাসিডিটি তৈরি করতে পারে। ওষুধ সেবনের জন্য সাধারণ পানিই সবচেয়ে নিরাপদ।
৫. অতিরিক্ত পান করা: দিনে দুই থেকে তিন কাপের বেশি গ্রিন টি পান করা উচিত নয়। এতে থাকা ক্যাফেইন এবং ট্যানিন মাথাব্যথা, মেজাজ খিটখিটে হওয়া বা আয়রন শোষণে বাধা দিতে পারে।
৬. একসঙ্গে দুটি টি-ব্যাগ ব্যবহার: বেশি টি-ব্যাগ মানেই বেশি উপকার নয়। বরং এটি ক্যাফেইনের মাত্রা বাড়িয়ে দিয়ে পেটের সমস্যা তৈরি করতে পারে। এক কাপের জন্য একটি টি-ব্যাগই যথেষ্ট।
৭. কৃত্রিম ফ্লেভারযুক্ত চা: বাজারে প্রচলিত অনেক ফ্লেভারড গ্রিন টি-তে কৃত্রিম উপাদান থাকে যা প্রাকৃতিক গুণাগুণ কমিয়ে দেয়। সবসময় প্রাকৃতিক বা অর্গানিক গ্রিন টি বেছে নেওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।
৮. তাড়াহুড়ো করে পান করা: গ্রিন টি-র আসল স্বাদ ও উপকার পেতে এটি ধীরে ধীরে চুমুক দিয়ে পান করা উচিত। এতে শরীর এর অ্যান্টি-অক্সিডেন্টগুলো ভালোভাবে গ্রহণ করতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
গ্রিন টি নিঃসন্দেহে বিশ্বের অন্যতম স্বাস্থ্যকর পানীয়। তবে সময়, পরিমাণ এবং প্রস্তুতির ক্ষেত্রে সামান্য সচেতনতা আপনার এই স্বাস্থ্যকর অভ্যাসটিকে আরও কার্যকর করে তুলবে।
বাংলাবার্তা/এমএইচ
.png)
.png)
.png)



