ছবি: সংগৃহীত
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সারাদেশে সরকারি ছুটি থাকলেও দেশের অর্থনৈতিক চাকা সচল রাখতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। পূজার সরকারি ছুটির দিনগুলোতে দেশের বন্দর ও কাস্টমস হাউসগুলোতে ব্যবসা-বাণিজ্য যাতে থমকে না যায়, সে লক্ষ্যে সীমিত পরিসরে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম চালু রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আগামী ২০ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত টানা ছুটির দিনেও দেশের প্রধান কাস্টমস হাউস ও স্টেশনগুলোতে পণ্য খালাস ও শুল্কায়নসহ জরুরি কার্যক্রম সচল রাখতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) এনবিআরের কাস্টমস নীতি বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি জরুরি নির্দেশনামূলক চিঠি জারি করা হয়। এনবিআরের দ্বিতীয় সচিব (কাস্টমস নীতি) রেজাউল করিমের স্বাক্ষরে আদেশটি দেশের সকল সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়।
আদেশে উল্লেখ করা হয়, দেশের অর্থনীতি, শিল্পকারখানার কাঁচামাল সরবরাহ ও বৈদেশিক বাণিজ্য নিরবচ্ছিন্ন রাখার স্বার্থেই এই আগাম ব্যবস্থা। দুর্গাপূজার সরকারি ছুটিকালীন অর্থাৎ ২০ অক্টোবর থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত সময়ে বন্দর ও শুল্ক স্টেশনগুলোতে সীমিত পরিসরে হলেও যাতে পণ্য খালাস ও আমদানি-রপ্তানি স্বাভাবিক থাকে, সে ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের এই আদেশ দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাস্টমস পয়েন্ট চট্টগ্রাম, ঢাকা, বেনাপোল, মোংলা, ভোমরাসহ বিভিন্ন কাস্টমস হাউস ও স্টেশনের কাস্টমস কমিশনারদের প্রয়োজনীয় চিঠি পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেটসহ দেশের অঞ্চলভিত্তিক কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটগুলোকেও বিষয়টি অবহিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
রপ্তানি ও আমদানি বাণিজ্যে যাতে লেনদেন সংক্রান্ত কোনো জটিলতা তৈরি না হয়, সে জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকেও চিঠি দিয়েছে এনবিআর। ছুটির সময়ে কাস্টমস চালানের অর্থ লেনদেন ও ব্যবসায়িক সুবিধা নিশ্চিত করতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর নির্দিষ্ট শাখা খোলা রাখা বা প্রয়োজনীয় সেবা চালু রাখার বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ করা হয়েছে।
পাশাপাশি দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠন এফবিসিসিআই (FBCCI), ফরেন চেম্বার অব কমার্স, ঢাকা মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (MCCI), চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি এবং তৈরি পোশাক খাতের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন বিজিএমইএ-কেও (BGMEA) এনবিআরের এই সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এনবিআরের কর্মকর্তারা বলছেন, দীর্ঘ ছুটির কারণে বন্দরে যেন পণ্যজট তৈরি না হয় এবং তৈরি পোশাক সহ জরুরি আমদানিকৃত কাঁচামাল যেন সময়মতো কারখানায় পৌঁছাতে পারে, সেই লক্ষ্যেই এই ছাড় দেওয়া হয়েছে। তবে ছুটির দিনগুলোতে কোন কোন নির্দিষ্ট সেবা কত সময় পর্যন্ত সচল থাকবে কিংবা ডিউটি অফিসারদের শিফট কেমন হবে, সে বিষয়ে কাস্টমস হাউসগুলো নিজ নিজ ব্যবস্থাপনায় আদেশ জারি করবে বলে জানা গেছে।
বাংলাবার্তা/এসজে
.png)
.png)
.png)



