ছবি: সংগৃহীত
বিএনপি সরকার গঠনের পর প্রথম ১৮০ দিনে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বেশ কিছু উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশের জিডিপি ১ ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্যে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, কৃষিঋণ, অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান বাড়ানো এবং রফতানি খাতের শিল্পকে সহায়তা দেয়ায় জোর দিয়েছে সরকার। তবে বৈশ্বিক নানা সংকটে এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ক্ষমতার প্রথম ১৮০ দিন। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দেশের অর্থনীতি পুনর্গঠনে নানা উদ্যোগ নিয়েছে বিএনপি সরকার। বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও জনকল্যাণমূলক খাতে এরই মধ্যে নেয়া হয়েছে দুই শতাধিক দৃশ্যমান উদ্যোগ। ২০৩৪ সালের মধ্যে অর্থনীতি ১ ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য সামনে রেখেই সাজানো হয়েছে এসব কর্মপরিকল্পনা।
তবে বৈশ্বিক অস্থিরতা সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রফতানি আদেশ কমে যাওয়ায় চাপ বেড়েছে তৈরি পোশাক খাতেও। বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, সরকার ক্ষমতায় আসার সময় জানত না যে মার্কিন-ইরান যুদ্ধ শুরু হবে। ওই যুদ্ধ পুরো বিশ্ব অর্থনীতিতে অস্থিরতা তৈরি করেছে। এর সঙ্গে ট্রাম্পের ট্যারিফও সারা বিশ্বে চাপ তৈরি করেছে। ফলে রফতানি আদেশ কমেছে এবং ব্যবসায়ীরা অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে পড়েছেন।
এদিকে বিদেশি প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক, বিভিন্ন চুক্তি স্বাক্ষর এবং রফতানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলের কার্যক্রমে গতি বাড়ানো হয়েছে। অর্থনৈতিক কূটনীতিতেও জোর দিয়েছে সরকার। চীন, মালয়েশিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও শ্রমবাজার সম্প্রসারণে এসেছে বিভিন্ন অগ্রগতি।
চীনের সঙ্গে ১৭টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সইয়ের পাশাপাশি ৯ বিলিয়ন ডলারের বেশি প্রাথমিক বিনিয়োগ প্রস্তাব পাওয়া গেছে। পলিসি সংস্কারের মাধ্যমে বেড়েছে নেট বৈদেশিক সরাসরি বিনিয়োগ বা এফডিআই। তবে বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের পাশাপাশি অর্থনীতির গতি ধরে রাখতে পাইপলাইনে থাকা বৈদেশিক ঋণ ও নতুন বিদেশি সহায়তার অর্থ দ্রুত ছাড় করানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন অর্থনীতিবিদরা।
সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বাজেটে রাজস্ব ও শুল্ক যৌক্তিকীকরণসহ বিনিয়োগ সহায়ক বিভিন্ন সুযোগ রাখা হয়েছে। বন্ডেড ওয়্যারহাউস ও ব্যাংকিং খাতের মাধ্যমেও বিভিন্ন সুবিধা দেয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে বেশ কিছু প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে। তবে সেগুলোর সুফল পেতে সময় লাগবে। এখন পর্যন্ত শ্রমবাজারে তেমন চাঞ্চল্য দেখা যাচ্ছে না।
প্রান্তিক পর্যায়ে কৃষি খাতের অবকাঠামো সংস্কারেও গুরুত্ব দিয়েছে সরকার। খাল ও নদী পুনঃখননের আওতায় আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল ও নদী খননের পরিকল্পনা রয়েছে। উৎপাদন বাড়াতে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করেছে সরকার।
যুবকদের কর্মসংস্থান ও দক্ষতা বাড়াতে প্রশিক্ষণের পাশাপাশি বৈদেশিক কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতেও কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। অভ্যন্তরীণভাবে বন্ধ থাকা ১৪টি পাটকলের মধ্যে ৯টি বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় উৎপাদনে ফিরেছে। এর মাধ্যমে কর্মসংস্থান বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
বিডি জবস ডটকমের সিইও এ কে এম ফাহিম মাশরুর বলেন, শিক্ষা খাতে সরকার বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। কারিগরি শিক্ষায় বেশি গুরুত্ব দেয়া এবং তৃতীয় ভাষার বিষয়ে সরকারের উদ্যোগ প্রশংসনীয়। তবে এসব উদ্যোগের ফল পেতে সময় লাগবে। ১৮০ দিন, এমনকি এক-দুই বছরের মধ্যেও সব উদ্যোগের ফল পাওয়া সম্ভব নয়।
বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রথম ১৮০ দিনের সংক্ষিপ্ত কর্মপরিকল্পনা সামষ্টিক অর্থনীতিতে কিছুটা স্বস্তি এনেছে। তবে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে হলে এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখার পাশাপাশি জনজীবনে স্বস্তি ফেরাতে বাজার মনিটরিং আরও জোরদার করতে হবে।
বাংলাবার্তা/এমএইচ
.png)
.png)
.png)



