ছবি: সংগৃহীত
অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, তিনি ব্যক্তিগত কোনো উচ্চাকাঙ্ক্ষা বা রাজনৈতিক ক্ষমতা লাভের ইচ্ছা থেকে সরকারপ্রধানের দায়িত্ব নেননি; বরং জনগণের আকাঙ্ক্ষা ও পরিবর্তনের দাবি মেনেই আজ তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
মালয়েশিয়ার জাতীয় সংবাদমাধ্যম বারনামা-কে দেওয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ইউনূস স্পষ্ট ভাষায় বলেন— “এটা আমার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়। এটা সেইসব মানুষের দাবি, যারা দীর্ঘদিন ধরে পরিবর্তন চেয়েছেন। আমি কেবল তাদের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটাচ্ছি এবং তাদের মতো করে এগিয়ে যেতে সহায়তা করছি।”
তিনি সাক্ষাৎকারে দেশের ভোটারদের দীর্ঘ অপেক্ষার বিষয়টি তুলে ধরেন। তার ভাষায়— “কেউ ১০ বছর ধরে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাননি, কেউ অপেক্ষা করছেন ১৫ বছর ধরে। কল্পনা করুন, আপনার বয়স ১৮ হলো, ভোট দিতে আপনি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। অথচ বাস্তবে আপনার সেই সুযোগ কখনোই আসেনি। এবার প্রথমবারের মতো তারা সত্যিকারের ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন।”
ক্ষুদ্রঋণের জনক ও গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে বিশ্বব্যাপী পরিচিত অধ্যাপক ইউনূস ২০০৬ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। রাজনৈতিক নেতৃত্ব নেওয়া তার জীবনের কোনো পরিকল্পনার অংশ ছিল না। তিনি বলেন— “পরিস্থিতি আমাকে বাধ্য করেছে। সামনে খুব বেশি বিকল্প ছিল না। তাই জনগণের দাবির জায়গা থেকে আমাকে এই ভূমিকায় আসতে হয়েছে।”
নিজেকে তিনি নেতা নয়, বরং গণতন্ত্রের একজন অভিভাবক হিসেবে উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন— “আমার দায়িত্ব হলো একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন করা। এটাই আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।”
অধ্যাপক ইউনূস স্বীকার করেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার পরিচালনার পথে নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। “অনেকে এটাকে ব্যাহত করতে চায়। বিশেষ করে বাংলাদেশ থেকে বিতাড়িত কিছু রাজনৈতিক উপাদান সক্রিয়ভাবে পুরো প্রক্রিয়াকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে,” বলেন তিনি।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
বাংলাবার্তা/এমএইচ
.png)
.png)
.png)



