ছবি: সংগৃহীত
ফিলিস্তিনের যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকা ক্রমেই মানবিক বিপর্যয়ের গভীরে নিমজ্জিত হচ্ছে। টানা বোমাবর্ষণ ও অবরোধের কারণে একদিকে যেমন প্রাণ হারাচ্ছেন নিরীহ মানুষ, তেমনি তীব্র খাদ্য সংকটে অনাহারে মৃত্যুর মিছিলও থামছে না। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ইসরাইলি সেনাদের হামলায় অর্ধশতাধিক ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। একই সময়ে খাবার ও পানির অভাবে প্রাণ হারিয়েছেন আরও ১১ জন।
ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, নতুন এই ১১ জন যুক্ত হওয়ায় অবরোধজনিত খাদ্য সংকটে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৫১ জনে। নিহতদের মধ্যে ১০৮ জন শিশু—যা গাজার ভয়াবহ মানবিক বাস্তবতার চিত্র তুলে ধরে। স্বাস্থ্য খাতের কর্মকর্তারা বলছেন, শিশুদের দেহে এখন মারাত্মক অপুষ্টি ও ডিহাইড্রেশন ধরা পড়ছে।
আল জাজিরা জানিয়েছে, শনিবার রাতে গাজা সিটির আল-আহলি হাসপাতালে বোমা হামলা চালায় ইসরাইল। অন্তত ৭ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন আরও অনেকে। চিকিৎসক ও নার্সরা জানিয়েছেন, আহতদের সেবা দেওয়ার মতো আর পর্যাপ্ত ওষুধ, সরঞ্জাম ও বিদ্যুৎ নেই।
জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তর জানিয়েছে, অন্তত দশ লাখ নারী ও কিশোরী চরম খাদ্যাভাবে রয়েছে। অনেকেই জীবন ঝুঁকি নিয়ে খাবার খুঁজতে বাইরে বের হচ্ছেন। ফরাসি চিকিৎসা সহায়তা সংস্থা মেডিসিন সঁ ফ্রঁতিয়ের (MSF) বলছে, ইসরাইলি সেনারা যে ত্রাণ কেন্দ্রগুলোতে হামলা চালাচ্ছে, সেগুলো এখন কার্যত ‘মৃত্যুর এলাকা’তে পরিণত হয়েছে।
জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, গত ২৭ মে থেকে ১৩ আগস্ট পর্যন্ত ১,৭৬০ ফিলিস্তিনি ত্রাণ সংগ্রহের সময় নিহত হয়েছেন। এদের বেশির ভাগই নারী ও শিশু।
গাজার সিভিল ডিফেন্স জানায়, দৈনিক ১,০০০ ট্রাক ত্রাণের প্রয়োজন, অথচ প্রবেশ করছে মাত্র ১০০ ট্রাক। তাও অধিকাংশ ট্রাক ব্যবসায়ীদের হাতে চলে যাচ্ছে, সাধারণ ক্ষুধার্ত মানুষ পাচ্ছেন না। ফলে খাবারের সংকট আরও প্রকট হচ্ছে।
ইউএনআরডব্লিউএ জানিয়েছে, গাজার স্বাস্থ্য ব্যবস্থা এখন একটি “ভঙ্গুর কঙ্কাল” ছাড়া কিছু নয়। বাড়তে থাকা আহতদের সেবা দেওয়ার মতো জনবল বা চিকিৎসা সামগ্রী কিছুই নেই।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ঘোষণা দিয়েছে, গাজার মানুষদের জন্য তাদের ভিসা প্রদান প্রক্রিয়া স্থগিত থাকবে। তারা দাবি করেছে, কিছু সীমিত মেডিকেল ও মানবিক ভিসার আবেদনের বিষয়ে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নতুন ভিসা দেওয়া হবে না।
এমন সময়ে খবর এসেছে, ফিলিস্তিনিদের গাজা থেকে দক্ষিণ সুদানে পুনর্বাসন করার বিষয়ে তৎপরতা চলছে। যদিও ফিলিস্তিনি নেতৃত্ব ও হামাস এ প্রস্তাবকে সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। দক্ষিণ সুদানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এটিকে ভিত্তিহীন গুজব বলে উড়িয়ে দিয়েছে।
গাজা এখন শুধু এক যুদ্ধক্ষেত্র নয়, বরং এক অমানবিক ট্র্যাজেডির নাম। বোমা হামলার পাশাপাশি অনাহার, চিকিৎসা সংকট ও আন্তর্জাতিক উদাসীনতা মিলে সেখানে প্রতিদিনই বাড়ছে লাশের মিছিল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্ব সম্প্রদায় জরুরি ভিত্তিতে চাপ না দিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে।
বাংলাবার্তা/এমএইচ
.png)
.png)
.png)



