ছবি: সংগৃহীত
আগামী ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশে রাজনৈতিক হাওয়া ইতোমধ্যেই তীব্র হয়ে উঠেছে। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিএনপি বিশেষভাবে প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রমে ব্যস্ত সময় পার করছে। দলটি এখন প্রার্থী বাছাই, দলীয় ইশতেহার প্রণয়ন এবং নির্বাচনি কৌশল চূড়ান্ত করার কাজ করছে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহ নাগাদ সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকার প্রাথমিক খসড়া চূড়ান্ত করা হবে। এরপর ধাপে ধাপে সাক্ষাৎকার ও মূল্যায়নের মাধ্যমে দলীয় মনোনয়ন বোর্ড চূড়ান্ত প্রার্থী নির্ধারণ করবে।
নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে বিএনপি প্রার্থী বাছাইয়ে গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই গতি এনেছে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া শুরু হয়েছে। পাশাপাশি দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামে অংশগ্রহণকারী মিত্রদলগুলোর সঙ্গে আসন ভাগাভাগি নিয়েও কাজ চলছে। দলের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবরের মধ্যেই আসনভিত্তিক প্রাথমিক তালিকা চূড়ান্ত করবেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
মনোনয়নের ক্ষেত্রে প্রার্থীদের নির্বাচনযোগ্যতা যাচাইয়ের মূল দিকগুলো হলো: দলের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক ত্যাগ, জনসম্পৃক্ততা, আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা এবং মাঠ পর্যায়ে সহযোদ্ধা হিসেবে মিত্রদলগুলোর অবদান। বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব স্থানীয়ভাবে প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন। গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আসনভিত্তিক প্রার্থীদের সঙ্গে ২৪ ও ২৫ সেপ্টেম্বর টানা দুই দিন সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থায়ী কমিটির সদস্যরা প্রার্থীদেরকে মনোনয়ন চূড়ান্ত হলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিতে বলেছেন।
সাক্ষাৎকারের ক্ষেত্রে সিরাজগঞ্জ, জয়পুরহাট, রাজশাহী, পাবনা, জামালপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও গাইবান্ধা অঞ্চলের প্রার্থীদেরকে পৃথকভাবে দেখা হয়েছে। ২৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা থেকে রাত সোয়া ৯টা পর্যন্ত ময়মনসিংহ জেলার সম্ভাব্য প্রার্থীদের সঙ্গে পৃথক সাক্ষাৎকার ও মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়েছে। শীর্ষনেতারা জানিয়েছেন, প্রার্থীদের চূড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়ার আগে এই ধরনের রাজনৈতিক প্রক্রিয়া অপরিহার্য।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, “অনেক এলাকায় আমাদের প্রার্থীর সংখ্যা বেশি। তাই যাঁকে মনোনয়ন দেওয়া হবে, সেই সিদ্ধান্ত সকলকে মানতে হবে। নির্বাচনের আগে আসনভিত্তিক বিভিন্ন রাজনৈতিক সমঝোতা এবং শরিকদের জন্য আসন ছাড়ার বিষয়গুলোও প্রক্রিয়াধীন।”
নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি গণমুখী আধুনিক ইশতেহার প্রণয়নের কাজেও তৎপর। সংবিধান সংশোধন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য এবং ন্যায়পাল নিয়োগের প্রস্তাবও এতে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।
ইশতেহারে থাকবে সাধারণ নাগরিকদের জন্য স্বাস্থ্য কার্ড, নারীদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড, কৃষকদের জন্য ফার্মার্স কার্ড, শিক্ষিতদের জন্য বেকার ভাতার ব্যবস্থা এবং এক বছরে ৬০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের পরিকল্পনা। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান, তরুণ সমাজের আকাঙ্ক্ষা ও দেশের সর্বস্তরের মানুষের চাওয়াপাওয়াকে প্রাধান্য দিয়ে বিএনপি একটি যুগোপযোগী নির্বাচনি ইশতেহার তৈরিতে কাজ করছে।
দলীয় হাইকমান্ড নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে ড্রাফট প্রণয়নে জড়িত নেতাদের সঙ্গে। ড্রাফট চূড়ান্ত হওয়ার পর প্রয়োজন অনুযায়ী হাইকমান্ড এটিতে সংযোজন-বিয়োজন করবে। নির্বাচন তফসিল ঘোষণার পর ভোটের অন্তত দুই সপ্তাহ আগে বিএনপি আনুষ্ঠানিকভাবে ইশতেহার প্রচার করবে এবং তৃণমূল পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের মাধ্যমে তা জনগণের হাতে পৌঁছে দেবে। পাশাপাশি ক্ষমতায় গেলে কীভাবে ইশতেহার বাস্তবায়ন করা হবে, সে বিষয়ে জনমত গঠনের কাজও করা হবে।
স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান বলেন, “ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপি যুগোপযোগী নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করবে। এতে আমাদের রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফা প্রস্তাবকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তাই আমাদের নির্বাচনি ইশতেহার সর্বমহলে প্রশংসিত হবে।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. মাহফুজুর রহমান জানিয়েছেন, “বিএনপির এই প্রস্তুতি প্রক্রিয়া নির্বাচনের জন্য একটি সুসংগঠিত কৌশল হিসেবে দেখা যেতে পারে। প্রার্থী বাছাই থেকে ইশতেহার প্রণয়ন পর্যন্ত ধাপে ধাপে পদক্ষেপ নেওয়া তাদের কর্মীদের মধ্যে ঐক্যবদ্ধ মনোভাব গড়ে তুলবে এবং ভোটারদের কাছে প্রভাব সৃষ্টি করবে।”
অন্যদিকে নির্বাচনী বিশ্লেষক সৈয়দ হুমায়ুন কবির মন্তব্য করেছেন, “বিএনপির এ ধরনের আধুনিক ইশতেহার এবং প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়া দলকে আরও সংগঠিত ও ভোটে সক্ষম করে তুলবে। তবে মিত্রদলগুলোর সঙ্গে সমঝোতা এবং নির্বাচনি মাঠে ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা গুরুত্বপূর্ণ।”
বাংলাবার্তা/এমএইচ
.png)
.png)
.png)



