ছবি: সংগৃহীত
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ (প্রথম পর্যায়) প্রকল্প তৃতীয়বারের মতো সংশোধন করা হয়েছে। এতে নতুন করে ব্যয় বেড়েছে ৮৪৮ কোটি টাকা। এ নিয়ে প্রকল্পের মোট ব্যয় দাঁড়াল ২২ হাজার ২১৩ কোটি টাকায়। নির্মাণকাল বাড়ানো হয়েছে আরও এক বছর। আগামী বছরের জুন পর্যন্ত এ প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয়েছে।
মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে এই সংশোধন অনুমোদন করা হয়। একনেক সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে মোট ১৩টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। তিনটি প্রকল্প ফেরত দেওয়া হয়। ফেরত দেওয়া প্রকল্পগুলোর প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) পুনর্গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অনুমোদন হওয়া প্রকল্পগুলোর মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১৫ হাজার ৮২৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারের জোগান ১০ হাজার ১৮৮ কোটি টাকা। পাঁচ হাজার ২৫৩ কোটি টাকার বিদেশি ঋণ থাকছে। বাকি ৩৮২ কোটি টাকা বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলোর নিজস্ব। অনুমোদন হওয়া প্রকল্পগুলোর পাঁচটি সংশোধিত, বাকিগুলো নতুন প্রকল্প।
সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে নীতিমালা হচ্ছে
পরিকল্পনা কমিশনের এনইসি সম্মেলন কক্ষে এক ব্রিফিংয়ে বৈঠকের বিস্তারিত তুলে ধরেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকী। তিনি বলেন, প্রকল্পের সময় ও ব্যয় সাশ্রয়ের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের দুর্বলতার কারণে শেষ পর্যন্ত প্রকল্পের ব্যয় ও সময় বেশি লাগে। এ ক্ষেত্রে সম্ভাব্যতা যাচাই আরও যথাযথভাবে করার পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের অবহেলার সঙ্গে জড়িতদের জবাবদিহির আওতায় আনার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বৈঠকে। প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে একটি নীতিমালা করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে একনেক বৈঠকে। এর ফলে যথাযথ সম্ভাব্যতা যাচাই হবে। প্রকল্পের সময় ও ব্যয় সাশ্রয় হবে।
বিমানবন্দর প্রকল্পে বাড়তি ব্যয়
তৃতীয় দফা সংশোধনের পর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্পে মূল প্রকল্পের তুলনায় বাড়তি ব্যয় দাঁড়িয়েছে সাত হাজার ৭৪৫ কোটি টাকা। ২০১৬ সালে প্রকল্পটি অনুমোদের সময় ব্যয় ধরা হয় ১৩ হাজার ৬১০ কোটি টাকা। ওই বছরের জুনে কাজ শুরু হয়ে শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২২ সালের জুনে। সময়মতো কাজ শেষ না হওয়ায় সংশোধন করে মেয়াদ আরও তিন বছর বাড়ানো হয়। সময় বাড়ানো হয় ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত। তখন ব্যয় বাড়ানো হয় ৮৪৭ কোটি টাকা। দ্বিতীয় সংশোধনীতে ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় ২১ হাজার ৩৬৫ কোটি ৫২ লাখ টাকা। এবার তৃতীয় সংশোধনীতে ব্যয় ২২ হাজার ২১৩ কোটি টাকা, অর্থাৎ তৃতীয় সংশোধনীতে প্রকল্প ব্যয় বাড়ছে ৮৪৭ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। প্রকল্পে সরকারের অর্থায়ন থাকছে ৫ হাজার ১১৬ কোটি টাকা। বাকি ১৭ হাজার ৯৭ কোটি টাকা ঋণ দিচ্ছে জাপান সরকারের উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা জাইকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)।
অনুমোদন হওয়া অন্য ১২ প্রকল্প
গতকাল একনেক বৈঠকে অনুমোদন হওয়া অন্য প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে স্বাস্থ্যসেবা ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের যক্ষ্মা, এইডস ও ম্যালেরিয়া প্রতিরোধে সমন্বিত স্বাস্থ্য ব্যবস্থা এবং পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপন (প্রথম সংশোধন) প্রকল্প। অর্থ মন্ত্রণালয়ের একটি প্রকল্প অনুমোদন হয়েছে। সেটি হচ্ছে ফিন্যান্সিয়াল সেক্টর সাপোর্ট প্রজেক্ট-২ (এফএসএসপি-২)।
চট্টগ্রাম, খুলনা ও রাজশাহী বিভাগে বিদ্যমান শারীরিক প্রতিবন্ধী প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ এবং মানসিক প্রতিবন্ধী শিশুদের প্রতিষ্ঠান রৌফাবাদ, চট্টগ্রাম-এ হোস্টেল ভবন সম্প্রসারণ ও সক্ষমতা প্রকল্প অনুমোদন করেছে একনেক। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। পানি মন্ত্রণালয়ের মুসাপুর রেগুলেটর নির্মাণসহ ছোট ফেনী এবং বামনী নদী অববাহিকায় সমন্বিত বন্যা ও নদী ব্যবস্থাপনা এবং নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন (অংশ-১) ও মেঘনা নদীর ভাঙন থেকে ভোলা সদর ও দৌলতখান উপজেলাধীন শিবপুর, ধনিয়া ও মেদুয়া এলাকা রক্ষা প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে।
ভূমি মন্ত্রণালয়ের একটি প্রকল্প অনুমোদন হয়েছে। সেটি হচ্ছে ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভূমি জরিপের মাধ্যমে তিনটি সিটি করপোরেশন, একটি পৌরসভা ও দুটি গ্রামীণ উপজেলায় ডিজিটাল ভূমি ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি স্থাপন প্রকল্প। এটি প্রকল্পের দ্বিতীয় সংশোধনী। এ ছাড়া অনুমোদন হওয়া অন্যান্য প্রকল্প হচ্ছে রংপুর বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা ও ইউনিয়ন সড়ক প্রশস্তকরণ ও শক্তিশালীকরণ প্রকল্প, মাদারীপুর, শরীয়তপুর ও রাজবাড়ী জেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প (তৃতীয় সংশোধন), র্যাব (এসআরবি)-এর কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধিকরণ (দ্বিতীয় সংশোধিত), ফেনী জেলার সোনাগাজীতে সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের লক্ষ্যে ভূমি অধিগ্রহণ ও তিনটি পার্বত্য জেলায় বিদ্যুৎ নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ প্রকল্প।
বাংলাবার্তা/এমএইচ
.png)
.png)
.png)



