ছবি: সংগৃহীত
আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের প্রক্রিয়া। তবে বাছাইয়ের প্রথম ধাপেই বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। রিটার্নিং অফিসারদের তথ্যমতে, সিংহভাগ ক্ষেত্রেই স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়ে যাচ্ছে। এর প্রধান কারণ হিসেবে দেখা দিচ্ছে নির্বাচনী এলাকার ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থনসূচক স্বাক্ষরের গরমিল। এছাড়া ঋণখেলাপি, ক্রেডিট কার্ড সংক্রান্ত জটিলতা এবং হলফনামায় মামলার তথ্য গোপন করার মতো বিষয়গুলোও প্রার্থীদের অযোগ্য ঘোষণার পেছনে বড় ভূমিকা রাখছে।
বাছাই প্রক্রিয়ার বর্তমান চিত্র: তফসিল অনুযায়ী, রিটার্নিং অফিসাররা আগামী রোববারের মধ্যে যাচাই-বাছাইয়ের কাজ সম্পন্ন করবেন। তবে জেলাগুলো থেকে আসা প্রাথমিক খবর অনুযায়ী, স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর জোগাড় করার আইনি বাধ্যবাধকতা এখন গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে ভোটারের স্বাক্ষর ভুয়া প্রমাণিত হচ্ছে কিংবা ভোটাররা তা অস্বীকার করছেন। তবে কিছু ক্ষেত্রে নমনীয়তাও দেখা যাচ্ছে; রিটার্নিং অফিসাররা হলফনামার ছোটখাটো ত্রুটি সংশোধনের জন্য কিছু প্রার্থীকে সময় দিয়ে সিদ্ধান্ত পেন্ডিং রাখছেন।
দলভিত্তিক মনোনয়নের পরিসংখ্যান: নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, ৩০০ আসনে মোট ২ হাজার ৫৬৯ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এর মধ্যে নিবন্ধিত ৫৯টি দলের মধ্যে ৫১টি দল নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। সবচেয়ে বেশি ৩৩১টি মনোনয়ন জমা দিয়েছে বিএনপি। এরপরই রয়েছে জামায়াতে ইসলামী (২৭৬), জাতীয় পার্টি (২২৪) এবং গণঅধিকার পরিষদ (১০৪)। এছাড়া ৪৭৮ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। সবচেয়ে বেশি প্রার্থী রয়েছে ঢাকা-১২ ও গাজীপুর-২ আসনে (১৮ জন করে), আর সবচেয়ে কম প্রার্থী পিরোজপুর-১ আসনে (মাত্র ২ জন)।
জেলা ও আসনভিত্তিক বাতিলের খতিয়ান:
-
যশোর: যশোর-২ আসনে ক্রেডিট কার্ড জটিলতায় জামায়াতের মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ এবং দলীয় মনোনয়নপত্র না থাকায় বিএনপির মোহাম্মদ ইসহকের প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে। যশোর-১ আসনে বিএনপির নুরুজ্জামান লিটনের তথ্য অসামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ায় তা পেন্ডিং রাখা হয়েছে।
-
ভোলা ও মুন্সীগঞ্জ: ভোলা-২ আসনে ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরে সমস্যা থাকায় দুই স্বতন্ত্র প্রার্থী বাদ পড়েছেন। মুন্সীগঞ্জ-১ আসনেও একই কারণে দুজন স্বতন্ত্র প্রার্থী অযোগ্য ঘোষিত হয়েছেন।
-
রংপুর ও কুড়িগ্রাম: রংপুর-১ আসনে দ্বৈত নাগরিকত্ব জটিলতায় জাতীয় পার্টির ব্যারিস্টার মঞ্জুম আলীর মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। কুড়িগ্রাম-২ আসনে মামলার তথ্য গোপন করায় সাবেক এমপি ও জাতীয় পার্টির প্রার্থী পনির উদ্দিন আহমেদের মনোনয়ন অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। এ নিয়ে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে আপিলের ঘোষণা দিয়েছেন।
-
নাটোর ও পটুয়াখালী: নাটোরে বিএনপি-জামায়াতের সব প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ হলেও পাঁচজন প্রার্থীর আবেদন বাতিল হয়েছে। পটুয়াখালী-৩ আসনে গণঅধিকার পরিষদের নুরুল হক নুরসহ পাঁচজন বৈধতা পেলেও দুই স্বতন্ত্র প্রার্থী বাদ পড়েছেন।
-
রাঙামাটি: এখানে একমাত্র স্বতন্ত্র প্রার্থী পহেল চাকমার মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
পরবর্তী ধাপসমূহ: যাদের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে, তারা ভেঙে পড়ছেন না। নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, ৫ থেকে ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত রিটার্নিং অফিসারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ রয়েছে। এই আপিলগুলো নিষ্পত্তি করা হবে ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারির মধ্যে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ২০ জানুয়ারি এবং প্রতীক বরাদ্দ হবে ২১ জানুয়ারি। এরপরই শুরু হবে চূড়ান্ত ভোটের লড়াই।
উল্লেখ্য, আগামী ২২ জানুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু হবে যা ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত চলবে। এখন দেখার বিষয়, আপিল বিভাগে গিয়ে কতজন প্রার্থী তাদের বৈধতা ফিরে পান।
বাংলাবার্তা/এমএইচ
.png)
.png)
.png)



