ছবি: সংগৃহীত
ইসলামের ভিত্তি ও মুমিনের জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ সম্পদ হলো ইমান। পরকালীন মুক্তি, আল্লাহর সন্তুষ্টি ও জান্নাত লাভের প্রথম ও প্রধান শর্ত ইমান। কিন্তু অনেকেই মনে করেন, ইমান একবার গ্রহণ করলে তা আর নষ্ট হয় না। বাস্তবতা হলো-সালাত বা ওজুর মতো ইমানও নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই কোন কোন কারণে ইমান ভেঙে যায়-এ বিষয়ে সঠিক জ্ঞান রাখা প্রত্যেক মুসলিমের জন্য অত্যন্ত জরুরি।
ইমান কোনো স্থবির বিষয় নয়; এটি বৃদ্ধি পায় এবং হ্রাস পায়। কুরআনের ভাষায়, ‘মুমিন তো তারাই, যাদের অন্তর আল্লাহকে স্মরণ করলে ভীত হয়ে ওঠে এবং যখন তাদের সামনে তাঁর আয়াতগুলো পাঠ করা হয়, তখন তা তাদের ইমান বৃদ্ধি করে।’ (সূরা আল-আনফাল : ২)। যেভাবে নেক আমলে ইমান বৃদ্ধি পায়, ঠিক তেমনি কিছু বিশ্বাস, কথা ও কাজ ইমানকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিতে পারে। নিচে ইমান ভঙ্গের প্রধান কয়েকটি কারণ ধারাবাহিকভাবে তুলে ধরা হলো-
শিরক করা : ইমান ধ্বংসের সবচেয়ে বড় ও ভয়াবহ কারণ হলো শিরক। আল্লাহর ইবাদত, ক্ষমতা বা গুণাবলিতে অন্য কাউকে অংশীদার করা শিরক। কুরআনে একে চরম জুলুম বলা হয়েছে- ‘নিশ্চয়ই শিরক হলো মহাজুলুম।’ (সূরা লোকমান : ১৩)। আল্লাহতায়ালা শিরকের গুনাহ তাওবা ছাড়া ক্ষমা করেন না- ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর সঙ্গে শিরক করার গুনাহ ক্ষমা করেন না।’ (সূরা আন-নিসা : ৪৮, ১১৬)।
শরিয়তের ঊর্ধ্বে নিজেকে ভাবা : যদি কেউ মনে করে, সে ইসলামি শরিয়তের বিধান মানতে বাধ্য নয় অথবা সালাত, পর্দা কিংবা অন্যান্য ফরজ বিধান তার জন্য প্রযোজ্য নয়-তবে তার ইমান নষ্ট হয়ে যাবে। আল্লাহ বলেন, ‘অতঃপর আমি আপনাকে শরিয়তের একটি বিধানের ওপর প্রতিষ্ঠিত করেছি; সুতরাং আপনি তারই অনুসরণ করুন।’ (সূরা আল-জাসিয়াহ : ১৮)।
হালালকে হারাম মনে করা : আল্লাহ যেসব বিষয়কে স্পষ্টভাবে হালাল করেছেন-যেমন বৈধ বিবাহ, হালাল উপার্জন-সেগুলোকে যদি কেউ ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে হারাম মনে করে বা নিষিদ্ধ বলে বিশ্বাস করে, তবে তা ইমান ভঙ্গের কারণ হবে।
হারামকে হালাল মনে করা : ইসলামে যেসব বিষয় সুস্পষ্টভাবে হারাম-যেমন সুদ, জিনা, মাদক, অশ্লীলতা-এ সবকে যদি কেউ বৈধ মনে করে বা শরিয়তবিরোধী আইন করে হালাল ঘোষণা করে, তবে তার ইমান থাকবে না। আল্লাহ বলেন, ‘এগুলো শয়তানের কাজ; সুতরাং তোমরা তা বর্জন করো।’ (সূরা আল-মায়েদাহ : ৯০)।
কুরআনের কোনো বিধান অস্বীকার করা : কুরআনের প্রতিটি বিধান আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ সত্য। যদি কেউ সব বিধান মানলেও একটি বিধান-যেমন সুদের নিষেধাজ্ঞা বা অপরাধের শাস্তিবিধান-অস্বীকার করে বা ঘৃণা করে, তবে সে ইমান থেকে বিচ্যুত হয়ে যাবে।
কুফরি মতবাদকে শ্রেষ্ঠ মনে করা : মানুষের তৈরি কুফরি মতবাদ বা আইনব্যবস্থাকে যদি কেউ আল্লাহর বিধানের চেয়ে উত্তম, আধুনিক বা অধিক গ্রহণযোগ্য মনে করে, তবে তা ইমান ধ্বংসের কারণ হবে।
ইমান ভঙ্গের কারণ সম্পর্কে উদাসীনতা : ইমান কীভাবে নষ্ট হয়-এ বিষয়ে অজ্ঞ থাকা নিজেই একটি বড় বিপদ। যে ব্যক্তি ইমান ভঙ্গের বিষয়গুলো শেখে না, সে অজান্তেই শিরক ও কুফরের পথে পা বাড়াতে পারে।
ইমান হলো একটি প্রদীপের মতো-যা মানুষকে অন্ধকার থেকে আলোর পথে পরিচালিত করে। কিন্তু শিরক, কুফর ও বিভ্রান্ত বিশ্বাসের প্রবল বাতাস এ প্রদীপকে মুহূর্তেই নিভিয়ে দিতে পারে। ইমান নিভে গেলে মানুষ পরকালের চিরস্থায়ী অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়।
কিয়ামতের দিন সম্পদ, পদ বা পরিচয় নয়-একটি বিশুদ্ধ ইমানই হবে মুক্তির একমাত্র অবলম্বন। তাই শুধু মুখে ‘ইমান আছে’ বলা যথেষ্ট নয়; বরং ইমান ধ্বংসকারী সব ধরনের শিরক, কুফর ও বিজাতীয় বিশ্বাস থেকে নিজেকে রক্ষা করাই একজন মুমিনের প্রধান দায়িত্ব।
মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে বিশুদ্ধ ইমানের ওপর অবিচল থাকার এবং ইমানসহ মৃত্যুবরণ করার তাওফিক দান করুন-আমিন।
বাংলাবার্তা/এমএইচ
.png)
.png)
.png)



