ছবি: সংগৃহীত
ইমেইল লেখা অনেকের কাছেই সময়সাপেক্ষ ও ঝামেলার কাজ। সেই অভিজ্ঞতাকে আরও সহজ ও দ্রুত করতে জিমেইলে যুক্ত হয়েছে গুগলের নতুন এআই-ভিত্তিক ফিচার ‘হেল্প মি রাইট’। জেনারেটিভ এআই প্রযুক্তিতে তৈরি এই টুলের মাধ্যমে খুব সাধারণ একটি নির্দেশনা দিলেই মুহূর্তে পুরো ইমেইলের খসড়া তৈরি করা সম্ভব।
শুধু নতুন ইমেইল লেখাই নয়, আগে থেকে লেখা কোনো খসড়াকে আরও গুছানো, সংক্ষিপ্ত বা পেশাদার করতেও সহায়তা করে এই ফিচার। ব্যবসায়িক প্রস্তাব, ক্লায়েন্টের সঙ্গে মিটিংয়ের অনুরোধ, দ্রুত ফলো-আপ কিংবা একেবারে সাধারণ একটি নোট— সব ধরনের ইমেইলের ভাষা তৈরিতে এটি কার্যকর ভূমিকা রাখে।
গুগলের ভাষ্য অনুযায়ী, ‘হেল্প মি রাইট’ ব্যবহারকারীর নিজস্ব লেখার ধরন বদলে দেয় না। বরং এটি একটি শক্ত ভিত্তি তৈরি করে দেয়, যাতে ব্যবহারকারী মূল বক্তব্যের ওপর বেশি মনোযোগ দিতে পারেন এবং কীভাবে লিখবেন— তা নিয়ে কম ভাবতে হয়।
জিমেইলের ‘হেল্প মি রাইট’ কী?
‘হেল্প মি রাইট’ একটি এআই-চালিত ফিচার, যা গুগল প্রথম উন্মোচন করে গুগল আই/ও ২০২৩ ইভেন্টে। বর্তমানে এটি জিমেইলের ওয়েব সংস্করণ, অ্যান্ড্রয়েড এবং আইওএস প্ল্যাটফর্মে ব্যবহার করা যাচ্ছে।
এই ফিচারটি গুগলের জেমিনি প্রযুক্তির মাধ্যমে কাজ করে। ব্যবহারকারীর দেওয়া নির্দেশনা বা প্রম্পট অনুযায়ী এটি ইমেইলের পূর্ণাঙ্গ খসড়া তৈরি করতে পারে। পাশাপাশি বিদ্যমান ইমেইলের ভাষা, দৈর্ঘ্য ও স্পষ্টতা উন্নত করতেও সক্ষম।
‘হেল্প মি রাইট’ ফিচার যেভাবে ব্যবহার করবেন
১. ফিচারটি চালু করা
- ‘হেল্প মি রাইট’ বর্তমানে গুগল ওয়ার্কস্পেস ল্যাব টেস্টার এবং নির্দিষ্ট ওয়ার্কস্পেস বা জেমিনি প্ল্যানের ব্যবহারকারীদের জন্য উপলভ্য।
- জিমেইল অ্যাপ বা ওয়েব সংস্করণ সর্বশেষ আপডেট করা আছে কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে।
- আপনি যদি এই ফিচারের জন্য যোগ্য হন, তাহলে ইমেইল লেখার সময় কম্পোজ উইন্ডোতে ‘হেল্প মি রাইট’ বাটন দেখতে পাবেন।
২. নতুন ইমেইল লেখার ক্ষেত্রে
- জিমেইলে ‘কম্পোজ’ বাটনে ক্লিক করুন।
- এরপর ‘হেল্প মি রাইট’ অপশন নির্বাচন করুন।
- একটি ছোট নির্দেশনা লিখুন, যেমন—
“একজন ক্লায়েন্টের সঙ্গে মিটিংয়ের অনুরোধ জানিয়ে একটি পেশাদার ইমেইল লেখো।”
- সঙ্গে সঙ্গে জিমেইল এআই ব্যবহার করে একটি সম্পূর্ণ ইমেইলের খসড়া তৈরি করে দেবে।
৩. আগে থেকে লেখা ইমেইল উন্নত করতে
- আপনার লেখা খসড়া ইমেইলটি কম্পোজ বক্সে লিখুন বা পেস্ট করুন।
- এরপর ‘হেল্প মি রাইট’ এবং তারপর ‘রিফাইন’ অপশন নির্বাচন করুন।
এ সময় যেসব অপশন ব্যবহার করা যাবে—
- ফরমালাইজ: ভাষাকে আরও পেশাদার করতে
- শর্টেন: ইমেইল সংক্ষিপ্ত করতে
- এলাবরেট: আরও বিস্তারিত যোগ করতে
- রিফ্রেইজ: ভাষা বা টোন পরিবর্তন করতে
৪. চূড়ান্ত সম্পাদনা
- পছন্দ না হলে একাধিকবার নতুন খসড়া তৈরি করা যাবে।
- দ্রুত টগল অপশনের মাধ্যমে ইমেইলের টোন (ক্যাজুয়াল, প্রফেশনাল বা ফ্রেন্ডলি) এবং দৈর্ঘ্য পরিবর্তন করা সম্ভব।
- এআই দিয়ে খসড়া তৈরি হলেও, চূড়ান্ত সম্পাদনার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবহারকারীর হাতেই থাকবে— প্রয়োজনে নিজ হাতে লেখা সংশোধন করা যাবে।
সব মিলিয়ে, জিমেইলের ‘হেল্প মি রাইট’ ফিচার ইমেইল লেখাকে আরও স্মার্ট, দ্রুত ও ব্যবহারবান্ধব করে তুলেছে। অফিসিয়াল যোগাযোগ থেকে শুরু করে দৈনন্দিন ব্যক্তিগত বার্তা— সব ক্ষেত্রেই এটি সময় সাশ্রয় এবং সঠিক ভাষা খুঁজে পেতে একটি কার্যকর সহায়ক টুল হিসেবে কাজ করছে।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া
বাংলাবার্তা/এমএইচ
.png)
.png)
.png)



