ছবি: সংগৃহীত
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের পূর্ণ সচিব হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মো. আহসান হাবিব। এর আগে তিনি এই পদে ভারপ্রাপ্ত সচিব ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
সোমবার (২৬ অক্টোবর ২০২৬) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উচ্চতর নিয়োগ-১ শাখা থেকে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে এসংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
উপসচিব স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ভারপ্রাপ্ত সচিব ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. আহসান হাবিবকে রাষ্ট্রপতির ১০ শতাংশ কোটায় সচিব, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ ও চেয়ারম্যান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) পদে প্রেষণে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া অবসরে যাওয়ার পূর্বে তিনি নিজ ক্যাডারে প্রত্যাবর্তন করবেন। জনস্বার্থে জারীকৃত এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আহসান হাবিবের প্রশাসনিক জীবনের অন্যতম উল্লেখযোগ্য সাফল্য ছিল রাজস্ব খাতের সংকটময় মুহূর্তে তাঁর সাহসী ভূমিকা। ২০২৫ সালে তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার এনবিআর ভেঙে 'রাজস্ব নীতি' ও 'রাজস্ব ব্যবস্থাপনা' নামে দুটি আলাদা বিভাগ গঠনের অধ্যাদেশ জারি করে। সেই সময় একটি স্বার্থান্বেষী চক্র সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিভ্রান্ত করে আন্দোলন গড়ে তোলে। তিনি অত্যন্ত বিচক্ষণতা, ধৈর্য ও প্রশাসনিক দৃঢ়তার মাধ্যমে সেই চক্রান্ত সামাল দেন এবং সংস্থাকে বড় ধরনের বিপদ থেকে রক্ষা করেন।
কর অঞ্চল-১৫-এর কমিশনার হিসেবে দায়িত্বে থাকাকালীন তিনি শিল্পগোষ্ঠী এস আলমের অর্থ পাচার ও কর ফাঁকির অনুসন্ধান আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করেছিলেন। পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল (সিআইসি)-এর মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে দেশের শীর্ষ ১০টি প্রভাবশালী ব্যবসায়ী গোষ্ঠী ও রাজনীতিবিদের অর্থ পাচার ও কর ফাঁকির ফাইল অনুসন্ধান শুরু করেন।
অনলাইন গেমিং প্ল্যাটফর্ম ‘উল্কাগেমস’ থেকে বকেয়া বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আদায়ে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। এছাড়া বিদেশে অবৈধভাবে পাচার করা প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ শনাক্ত করতেও তিনি সক্ষম হন।
আহসান হাবিব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগ থেকে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন, যেখানে তিনি স্নাতকোত্তরে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অর্জন করেন। পরবর্তীতে ১৫তম বিসিএস (কর) ক্যাডারের জাতীয় মেধা তালিকায় দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে সরকারি চাকরিতে যোগ দেন।
তিনি বিসিএস (কর) একাডেমির বিভাগীয় প্রশিক্ষণে প্রথম স্থান এবং বাংলাদেশ লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (বিপিএটিসি) ফাউন্ডেশন কোর্স ও বুয়েটের কম্পিউটার প্রশিক্ষণে সর্বোচ্চ 'এ-প্লাস' অর্জন করেন।
দেশ-বিদেশে প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ এই কর্মকর্তা ভারত, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে কর নিরীক্ষা, ট্রান্সফার প্রাইসিং, কর মূল্যায়ন, তদন্ত ও ডিজিটালাইজেশন বিষয়ে উচ্চতর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন। তিনি নিয়মিত দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), বিসিএস (কর) একাডেমি, আইসিএমএবি এবং বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতিতে রিসোর্স পারসন হিসেবে সেশন পরিচালনা করেন।
বাংলাবার্তা/এসজে
.png)
.png)
.png)



