ছবি: সংগৃহীত
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ই–রিটার্ন ব্যবস্থার মাধ্যমে আয়কর রিটার্ন দাখিলের হার দ্রুত বাড়ছে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৫–২০২৬ করবর্ষের জন্য ইতোমধ্যে ৪১ লাখ ৫০ হাজারেরও বেশি ব্যক্তি করদাতা অনলাইনে তাদের আয়কর রিটার্ন দাখিল করেছেন। রবিবার এনবিআরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, কর ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, স্বচ্ছ এবং সহজতর করতে সরকার ধাপে ধাপে ডিজিটাল পদ্ধতির ওপর জোর দিচ্ছে। এর অংশ হিসেবে কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া প্রায় সব ব্যক্তিশ্রেণির করদাতার জন্য অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এর ফলে করদাতারা এখন ঘরে বসেই সহজে ই–রিটার্ন সিস্টেমের মাধ্যমে তাদের রিটার্ন জমা দিতে পারছেন।
এনবিআরের তথ্যমতে, আয়কর রিটার্ন দাখিলের সুবিধা নিতে ইতোমধ্যে ৫০ লাখেরও বেশি ব্যক্তি করদাতা ই–রিটার্ন সিস্টেমে নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন। এই নিবন্ধিত করদাতাদের মধ্যে এখন পর্যন্ত ৪১ লাখ ৫০ হাজারের বেশি করদাতা অনলাইনে ২০২৫–২০২৬ করবর্ষের আয়কর রিটার্ন জমা দিয়েছেন। করদাতাদের মধ্যে অনলাইন পদ্ধতির ব্যবহার ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।
এ বছর ব্যক্তি করদাতাদের আয়কর রিটার্ন দাখিলের নির্ধারিত সময়সীমা আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেও যদি কোনো করদাতা রিটার্ন জমা দিতে না পারেন, তাহলে তিনি লিখিতভাবে আবেদন করে অতিরিক্ত সময়ের সুযোগ পেতে পারেন। সংশ্লিষ্ট কর অঞ্চলের কর কমিশনার প্রয়োজন অনুযায়ী সর্বোচ্চ ৯০ দিন পর্যন্ত অতিরিক্ত সময় অনুমোদন করতে পারেন।
করদাতাদের জন্য সময় বৃদ্ধির আবেদন প্রক্রিয়াটিও এখন অনলাইনে করা যাচ্ছে। এনবিআর জানিয়েছে, রিটার্ন দাখিলের সময় বাড়ানোর আবেদন এবং তা অনুমোদনের পুরো প্রক্রিয়াটি সহজ, দ্রুত ও স্বচ্ছ করতে ই–রিটার্ন সিস্টেমে একটি আলাদা অপশন চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে করদাতারা খুব সহজেই অনলাইনে সময় বৃদ্ধির আবেদন করতে পারছেন।
ই–রিটার্ন সিস্টেমে লগইন করে ‘Time Extension’ মেন্যু ব্যবহার করে করদাতারা সময় বাড়ানোর আবেদন জমা দিতে পারেন। আবেদন করার পর সংশ্লিষ্ট কর অঞ্চলের কর কমিশনার অনলাইনেই সেই আবেদন যাচাই-বাছাই করে অনুমোদন দিয়ে থাকেন। এতে করে করদাতাদের আর সরাসরি কর অফিসে যাওয়ার প্রয়োজন হচ্ছে না এবং পুরো প্রক্রিয়াটি দ্রুত সম্পন্ন হচ্ছে।
এনবিআর জানিয়েছে, গত কয়েক দিনে পাঁচ হাজারেরও বেশি করদাতা অনলাইনে সময় বৃদ্ধির আবেদন করেছেন। এসব আবেদনের বেশির ভাগই স্বল্প সময়ের মধ্যেই অনলাইনে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে যেসব করদাতা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন জমা দিতে পারছেন না, তারা সহজেই বাড়তি সময়ের সুবিধা পাচ্ছেন।
যেসব করদাতার সময় বৃদ্ধির আবেদন অনুমোদন করা হয়েছে, তারা বর্ধিত সময়ের মধ্যে কোনো জরিমানা বা অতিরিক্ত কর ছাড়াই অনলাইনে রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন। তবে এই সুবিধা পেতে হলে করদাতাদের অবশ্যই নির্ধারিত সময়সীমা অর্থাৎ ৩১ মার্চের আগেই সময় বৃদ্ধির আবেদন করতে হবে।
এনবিআর আরও জানিয়েছে, যেসব করদাতা এখনো রিটার্ন দাখিল করেননি কিন্তু বর্ধিত সময়ের সুবিধা নিতে চান, তাদের অবশ্যই নির্ধারিত সময়ের আগে আবেদন করতে হবে। অন্যথায় নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলে রিটার্ন দাখিলের ক্ষেত্রে জরিমানা বা অতিরিক্ত কর প্রযোজ্য হতে পারে।
ই–রিটার্ন সিস্টেমে নিবন্ধন না থাকলে সময় বৃদ্ধির আবেদন করার আগে করদাতাকে অবশ্যই সিস্টেমে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে নিজের নামে নিবন্ধিত একটি বায়োমেট্রিক সিম ব্যবহার করে ই–রিটার্ন সিস্টেমে সহজেই নিবন্ধন করা যায়। নিবন্ধন সম্পন্ন হলেই করদাতা অনলাইনে রিটার্ন দাখিল বা সময় বৃদ্ধির আবেদনসহ বিভিন্ন সেবা গ্রহণ করতে পারবেন।
তবে যেসব ব্যক্তি করদাতার জন্য অনলাইনে রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক নয়, তারা চাইলে অনলাইনের পাশাপাশি সরাসরি সংশ্লিষ্ট কর সার্কেলে লিখিতভাবেও সময় বৃদ্ধির আবেদন করতে পারবেন। অর্থাৎ তাদের জন্য উভয় পদ্ধতিই উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।
এনবিআর মনে করছে, অনলাইনভিত্তিক এই ব্যবস্থা চালুর ফলে করদাতাদের ভোগান্তি অনেকটাই কমেছে। একই সঙ্গে কর প্রশাসনের কাজেও গতি এসেছে এবং পুরো প্রক্রিয়াটি আরও স্বচ্ছ হয়েছে। এতে করদাতাদের অংশগ্রহণ বাড়ছে এবং কর ব্যবস্থাপনায় ডিজিটাল রূপান্তর আরও এগিয়ে যাচ্ছে।
জরিমানা বা অতিরিক্ত কর পরিশোধের ঝামেলা এড়াতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সব ব্যক্তি করদাতাকে ই–রিটার্ন সিস্টেম ব্যবহার করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছে। সংস্থাটি বলছে, করদাতারা যেন শেষ তারিখের আগেই অর্থাৎ আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে অনলাইনে তাদের আয়কর রিটার্ন জমা দেন। এতে করে করদাতারা নির্বিঘ্নে তাদের কর সংক্রান্ত দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।
বাংলাবার্তা/এসজে
.png)
.png)
.png)



