ছবি: সংগৃহীত
বর্তমানে মানুষ দ্বিনকে নিজের পার্থিব উদ্দেশ্য এবং সুযোগ-সুবিধার অধীন বানিয়ে ফেলেছে। ফলে তারা স্বল্প মূল্যে বা সামান্য স্বার্থের কারণে দ্বিন বিকিয়ে দিচ্ছে। এই প্রসঙ্গে একটি ঘটনা মনে পড়ছে, ইজতিহাদের দাবিদার এক আলেম এক ব্যক্তির জন্য তার শাশুড়িকে বিয়ে করা হালাল করে দিয়েছিল। এক ব্যক্তি তার শাশুড়ির প্রতি আসক্ত হয়ে পড়েছিল।
অবশেষে হতভাগা স্ত্রীকে পরিত্যাগ করে শাশুড়িকে বিয়ে করার মনস্থির করল। আলেমদের কাছে ফতোয়া চাইলে সবাই একবাক্যে তা হারাম বলে হুকুম দিলেন; কিন্তু এক অর্থলোভী মৌলভি এক হাজার টাকার বিনিময়ে ফতোয়া দিল যে শাশুড়িকে বিয়ে করা জায়েজ। কিন্তু অকাট্য দলিল দ্বারা যেহেতু শাশুড়ি হারাম প্রমাণিত এবং কোরআনে স্পষ্ট বাক্যে তাদেরকে বিয়ে করা হারাম বলা হয়েছে, তাই সে একটি অপব্যাখ্যা দাঁড় করাল। তা হলো আজকাল নারীরা সাধারণত মূর্খ হয়ে থাকে।
এই কারণে অনেক সময় তারা কুফরি বাক্য উচ্চারণ করে বসে। সুতরাং শাশুড়ির প্রতি আসক্ত ব্যক্তির স্ত্রীও নিজের অজান্তে কুফরি বাক্য উচ্চারণ করে থাকবে, যার ফলে স্ত্রীর ঈমান নষ্ট হয়ে গেছে। অন্যদিকে বিয়ের সময় নতুন করে কালেমা পড়িয়ে ঈমান নবায়ন করা হয়নি। সুতরাং এই ব্যক্তির সঙ্গে তার স্ত্রীর বিয়েই শুদ্ধ হয়নি।
তাই স্ত্রীর মা-ও তার শাশুড়ি হয়নি।
আলেম নামধারী এই গুমরাহ ব্যক্তি একটি গোলমেলে প্রমাণ দ্বারা শাশুড়িকে হালাল করে দিল শুধু এক হাজার টাকার লোভে। সর্বনাশা দুনিয়ার লোভ এই ব্যক্তিকে শরিয়তের বিধান বিকৃত করার দুঃসাহস পর্যন্ত এনে দিল। লোভ বড় বিপদ, লোভের বশবর্তী হয়ে মানুষ করতে পারে না এমন কোনো কাজ নেই।
আরেকটি সূক্ষ্ম বিষয় মনে পড়ল।
অমিতব্যয়ী লোকই অধিক লোভী হয়ে থাকে। কৃপণ লোক শুধু অর্থ সঞ্চয়ের প্রতি লোভী হয়, কিন্তু সে অন্যের জিনিস আত্মসাৎ করা থেকে বিরত থাকে। সে কারো সম্পদ স্পর্শ করে না। অন্যদিকে অপব্যয়ী ব্যক্তি অন্যের দ্রব্যকে হালাল মনে করে থাকে। অতএব, আমি বলি, আকজাল অপব্যয়কারী ব্যক্তির তুলনায় কৃপণ ব্যক্তি ভালো। অপব্যয়কারী ব্যক্তি পরের হক নষ্ট করে থাকে আর কৃপণ লোক শুধু আল্লাহর হকই নষ্ট করে। কৃপণ ব্যক্তির ক্ষতি তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ, তার দ্বারা অন্যের ক্ষতি হয় না।
সমাজের কোনো কোনো ব্যক্তির স্বভাব এমন যে কারো কাছ থেকে ধার নিলে পরিশোধ করার নাম থাকে না। মুজাফফরনগরের এক ব্যক্তি কোনো একজন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ১০ টাকা ঋণ নিয়েছিল। কিন্তু তা পরিশোধ করছিল না। একেবারেই হজম করে ফেলল। ব্যবসায়ী প্রথম প্রথম তাগাদা দিলে টালবাহানা করত। এক বছর পর সে বলল, তোমার কাছ থেকে আমি কিসের ঋণ নিয়েছি। তোমার কাছে কোনো প্রমাণ থাকলে দেখাও। নতুবা আমি কোনো টাকা দেব না। এখন ব্যবসায়ী বেচারা কোথা থেকে লিখিত প্রমাণ আনবে? সে তো শুধু বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে ঋণ দিয়েছিল। এর ফল এই হলো যে ব্যবসায়ী ভবিষ্যতে কাউকে ঋণ না দেওয়ার প্রতিজ্ঞা করে বসল। এতে সমাজের সাধারণ অভাবী মানুষ উপকার থেকে বঞ্চিত হলো।
বাংলাবার্তা/এমএইচ
.png)
.png)
.png)



