ছবি: সংগৃহীত
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান গতকাল রবিবার জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের বাসায় গিয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পাওয়ার দুই দিন পর প্রথমবারের মতো তিনি তাঁদের বাসায় যান।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সন্ধ্যা ৭টা ৯ মিনিটে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় জামায়াত আমিরের বাসায় যান তারেক রহমান। তাঁকে ফুলের তোড়া দিয়ে অভ্যর্থনা জানান ডা. শফিকুর রহমান।
তাঁরা নিজেদের মধ্যে কুশলাদি বিনিময় করেন। সেখানে ৫০ মিনিট অবস্থান শেষে রাত ৭টা ৫৯ মিনিটে বের হন বিএনপি চেয়ারম্যান। এ সময় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, জামায়াতের নায়েবে আমির আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জোবায়ের প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
তারেক রহমান জামায়াত আমিরের বাসায় গেলে আশপাশের অ্যাপার্টমেন্টের বাসিন্দারা তাঁকে দেখতে ছুটে আসেন।
বড়দের পাশাপাশি ছুটে আসে শিশুরাও। তিনি বড়দের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন, অনেকে তাঁর সঙ্গে সেলফি তোলেন। তিনি শিশুদের সঙ্গেও কুশল বিনিময় করেন এবং পরম মমতায় তাদের সঙ্গে হাত মেলান।
সাক্ষাতের বিষয়ে এক ফেসবুক পোস্টে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অগ্রিম অভিনন্দন জানাচ্ছি।
তিনি আজ আমার আবাসিক কার্যালয়ে এসেছিলেন। তাঁর এই আগমন আমাদের জাতীয় রাজনীতির জন্য এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। আমি তাঁর এই আগমনকে স্বাগত জানাই এবং প্রত্যাশা রাখি, সংলাপ ও দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে এটি রাজনৈতিক পরিপক্বতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার এক নতুন অধ্যায় সূচনা করবে।’
জামায়াত আমির বলেন, ‘আমি এমন এক বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখি, যা হবে ফ্যাসিবাদমুক্ত, সার্বভৌম এবং ইনসাফ ও ন্যায়বিচারের ওপর প্রতিষ্ঠিত। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ১১-দলীয় জোটের সঙ্গে মিলে একটি সমৃদ্ধ, স্থিতিশীল ও আধুনিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং সাংবিধানিক শাসনের ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হবে।
আমাদের আলোচনায় তিনি আশ্বস্ত করেছেন, নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা এবং বিরোধী দলের কর্মী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর যেকোনো হামলা রোধে তিনি কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন। আমি এই আশ্বাসকে সাধুবাদ জানাই। আমাদের প্রত্যাশা, কোনো নাগরিকই যেন ভয়ভীতি বা নিরাপত্তাহীনতার শিকার না হয়।’
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘জাতীয় স্বার্থের বিষয়ে আমরা নির্বাচিত সরকারকে পূর্ণ সহযোগিতা প্রদান করব, তবে একটি আদর্শিক বিরোধী দল হিসেবে আমাদের সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে আমরা আপসহীন থাকব। সরকারের জনকল্যাণমূলক কাজে আমাদের সমর্থন থাকবে, কিন্তু যেখানেই জবাবদিহির প্রয়োজন হবে, সেখানে আমরা সোচ্চার থাকব। আমাদের উদ্দেশ্য সংঘাত নয় বরং সংশোধন; বাধা দেওয়া নয় বরং পর্যবেক্ষণ। দেশের মানুষ এমন একটি সংসদ প্রত্যাশা করে, যা ন্যায়বিচার ও নাগরিক অধিকার রক্ষা করবে এবং স্থিতিশীলতার সঙ্গে রাষ্ট্রকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।’
সাক্ষাৎ শেষে জামায়াতের নায়েবে আমির আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের সাংবাদিকদের বলেন, ‘এ ধরনের সংস্কৃতি নিজেদের মধ্যে থাকাটা জরুরি। সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে আলোচনা হয়েছে। একটা সাহায্যপূর্ণ পরিবেশের মাধ্যমে সরকার ও বিরোধী দল মিলে দেশটা গড়ব। নিজেদের মধ্যে কোনো বিরোধ হলে পজিটিভ আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। মানুষের নিরাপত্তার বিষয়ে সরকারকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। ইতিবাচক যেকোনো বিষয়ে আমরা সরকারকে সহযোগিতা করব। জনকল্যাণ বিরোধী কোনো বিষয় আসলে অবশ্যই আমরা জনগণের পাশে থেকে প্রতিবাদ করব।’
তিনি বলেন, ‘কিছু জায়গায় সমস্যা হচ্ছে, ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে, এসব বিষয়ে আমরা সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি। জামায়াতে ইসলামী জাতীয় সরকারে যাবে না। বিরোধী দলে থেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে জামায়াত।’
জামায়াত আমিরের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে রাত সাড়ে ৮টার দিকে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের সার্কিট হাউস রোডের বাসায় যান তারেক রহমান। সেখানে পৌঁছালে নাহিদ তাঁকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। প্রায় ৪৫ মিনিট সেখানে অবস্থানের পর রাত সোয়া ৯টার দিকে বেরিয়ে আসেন তারেক রহমান। এ সময় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান এবং এনসিপির সদস্যসচিব ও নবনির্বাচিত এমপি আখতার হোসেন ও দলের উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম উপস্থিত ছিলেন।
পরে আখতার হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘এমন রাজনৈতিক সৌজন্যতা ও নির্বাচনে জয়ী হয়ে আসায় তারেক রহমানকে স্বাগত জানাই। আমাদের রাজনৈতিক মতভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও কিভাবে এক হয়ে দেশের জন্য কাজ করতে পারি সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বিচার ও সংস্কার নিয়ে কথা হয়েছে। এই সাক্ষাৎ বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটা পরিবর্তনের আভাস দেয়। আমাদের মতভিন্নতা থাকবে, কর্মসূচি আলাদা থাকবে, কিন্তু দেশের প্রশ্নে আমরা একত্র থেকে বাংলাদেশের প্রশ্নে সিদ্ধান্তগুলো এক হয়ে যেন গ্রহণ করতে পারি সে ধরনের পরিবেশ বাংলাদেশে অটুট থাকবে, আমাদের সেই প্রত্যাশা।’
তিনি বলেন, ‘নির্বাচন-পরবর্তী যে সহিংসতাগুলো সেসব বিষয়েও তারেক রহমানকে আমরা জানিয়েছি। দলের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে বিএনপি মহাসচিব আমাদের জানিয়েছেন।’
সাক্ষাৎকালে নাহিদ ইসলাম জুলাই শহীদদের লেখা একটি চিঠি ও শাপলাকলি দিয়ে বানানো একটি শোপিস তারেক রহমানকে উপহার দেন।
বাংলাবার্তা/এমএইচ
.png)
.png)
.png)



