ছবি: সংগৃহীত
জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, একজন চা শ্রমিকের ছেলে যদি যোগ্য হয়, যদি তার মেধা থাকে, তাহলে সে হতে পারে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। একটিবার আমাদের সুযোগ দেন, ক্ষমতায় গেলে মালিক হব না; পাহারা দেব, জিম্মাদার হব।
তিনি আরও বলেন, এমপি-মন্ত্রীদের স্বল্পমূল্যের প্লট কিংবা শুল্কমুক্ত গাড়ি আমরা নেব না। সাধারণ মানুষ যেভাবে জীবনযাপন করে, আমরাও সেভাবে চলব।
তিনি গতকাল শনিবার সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠ, হবিগঞ্জের নিউ ফিল্ড মাঠ ও মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার ফুটবল মাঠে নির্বাচনী জনসভায় বক্তৃতা করেন। পৃথক সমাবেশে জামায়াত ও ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন ডা. শফিকুর রহমান।
জামায়াত আমির বিএনপিকে উদ্দেশ করে বলেন, আমাদের দেশে একদল মানুষ আছে, তারা মা-বোনের ইজ্জত দিতে জানে না। প্রতিবাদ করি বলে আমার পিছু লেগেছে। কিন্তু তারা জানে না, আধুনিক বিশ্বে মিসাইল নিক্ষেপ করলে অ্যান্টি-মিসাইল খেতে হয়। এখন কী বলবে, চোর তো ধরা পড়েছে। চোরের মায়ের বড় গলা।
জামায়াত আমির সিলেটে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বক্তৃতা মঞ্চে উঠে দাঁড়িপাল্লা হাতে নিয়ে সবার সামনে তুলে ধরেন। তিনি বক্তৃতার শুরুতে সিলেটি ভাষায় বলেন, ‘আপনারা ভালা আছইননি। অনেক দিন পর সিলেটি ভাষায় মাতরাম।’
গত ৫৪ বছর সরকারি সম্পদ লুট হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘কেউ ফেরেশতা ছিলেন না। শুধু ১৭ বছরে সাড়ে ৫৮ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে। জামায়াত ক্ষমতায় গেলে সরকারি অফিস-আদালতের ঘুষ খাওয়ার সুযোগ পাবে না। তাদের ঘুষ খেতে দেওয়া হবে না। যদি কেউ ঘুষ খায়, তাকে শাস্তি পেতে হবে।’
মহানগর আমির মুহাম্মদ ফখরুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও জেলা সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীনের পরিচালনায় জামায়াত আমির আরও বলেন, আমরা ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বলেছিলাম, দল হিসেবে জামায়াত কোনো জালিমের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেবে না। আমরা ক্ষমা করে দিয়েছি। আমাদের নেতাকর্মীরা কথা রেখেছেন। দল হিসেবে প্রতিশোধ নিইনি। আমরা মামলা বাণিজ্য করিনি। কিন্তু অনেকে মামলা বাণিজ্য করেছে।
জামায়াত আমির তাঁর বক্তব্যে সিলেটের প্রাকৃতিক সম্পদের সুষম ব্যবহার, চাঁদাবাজির পথ বন্ধ, নদীশাসন, জলমহালসহ উন্নয়ন ও নানা উদ্যোগ তুলে ধরেন। তিনি প্রবাসী শ্রমিক মারা গেলে তাঁর লাশ রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে দেশে আনার প্রতিশ্রুতি দেন। জনসভা শুরুর আগে সিলেট ও সুনামগঞ্জের বিভিন্ন আসনে প্রার্থীর সমর্থক ও নেতাকর্মীরা দাঁড়িপাল্লার সমর্থনে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে সমাবেশে যোগ দেন। সমাবেশ মাঠের উত্তর পাশে নারীদের জন্য আলাদা বসার ব্যবস্থা রাখা হয়।
প্রতিবছর আয়-ব্যয়ের হিসাব দেব
জামায়াত আমির সকালে হবিগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে সমাবেশে বলেন, ১১ দলীয় জোট নির্বাচিত হলে যুবকদের হাতে কাজ দেওয়া হবে। চাঁদাবাজি বন্ধ হবে। ব্যবসায়ীরা রাতের ঘুম হারাবেন না। ফুটপাতের সাধারণ মানুষের চোখের পানি আর কেউ ফেলাতে পারবেন না। এমনকি ঢাকায় শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষকেও চাঁদা দিতে হয়। এ অবস্থা চলবে না। আমাদের দলের যারা নির্বাচিত হবেন, তারা প্রতিবছর নিজেদের ও পরিবারের সদস্যদের আয়-ব্যয়ের হিসাব জনগণের সামনে প্রকাশ করবেন।
মানুষ পরিবর্তন চায়
ডা. শফিকুর রহমান দুপুরে দ্বিতীয় সমাবেশ করেন মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলা ফুটবল মাঠে। এ সময় তিনি বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি হবে বাংলাদেশ বদলে দেওয়ার ভোট। এটা ’২৪-এর যোদ্ধাদের আকাঙ্ক্ষার ভোট। টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত মানুষ পরিবর্তন চায়। গণভোটে হ্যাঁ জয়যুক্ত হলে একটি পরিবর্তিত বাংলাদেশ আমরা পাব।
সূত্র: সমকাল
বাংলাবার্তা/এমএইচ
.png)
.png)
.png)



