ছবি: সংগৃহীত
এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত নতুন সংসদ সদস্যরা আগামীকাল মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের সভাকক্ষে শপথ গ্রহণ করবেন। আর সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় মন্ত্রিপরিষদ সদস্যদের ঐতিহাসিক শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। এরই মধ্যে অন্তর্বর্তী সরকার এই শপথ গ্রহণের সব প্রস্তুতি সম্পূর্ণ করেছে। নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন এবং মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ পড়াবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
বিজয়ী দল বিএনপির ইচ্ছা প্রকাশকে গুরুত্ব দিয়ে সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় শপথ গ্রহণের আয়োজন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের বিদায়ি আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল গতকাল রবিবার বলেছেন, মঙ্গলবার সকাল ১০টায় সংসদ সদস্যদের শপথ হচ্ছে। খুব সম্ভবত প্রধান নির্বাচন কমিশনার শপথ পড়াবেন। বিএনপি থেকে জানানো হয়েছে, সকাল সাড়ে ১১টা বা দুপুর ১২টার দিকে সেখানে সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচন করা হবে।
বিকেল ৪টায় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় রাষ্ট্রপতি মন্ত্রিসভার শপথ পড়াবেন। শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানোর বিষয়ে করা এক প্রশ্নের জবাবে আইন উপদেষ্টা বলেন, ‘এ সম্পর্কে আমার জানা নেই। এখন পর্যন্ত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সার্কভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।’
বিএনপি নেতারা মনে করছেন, জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় শপথ গ্রহণের ঐতিহাসিক গুরুত্ব রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে যাওয়া বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঘোষণা অনুযায়ী ‘জনগণের সরকার’ প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে এই আয়োজন। বদ্ধ ঘর কিংবা দরবার হলে না গিয়ে ‘উন্মুক্ত’ স্থানে মানুষের কাছাকাছি থেকে শপথ নেওয়ার মাধ্যমে দায়বদ্ধতার নতুন বার্তা দিতে যাচ্ছেন তারেক রহমান।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, ‘পৃথিবীর অনেক দেশেই এখন এই ধরনের আয়োজন হচ্ছে। যেসব দেশে দীর্ঘদিন গণতন্ত্র অবরুদ্ধ ছিল, মানুষের স্বাধীনতা ছিল না, এক ধরনের দুঃশাসন, স্বৈরশাসন দেশের মানুষের ওপর চেপে বসছিল, সেখান থেকে বের হয়ে আসার বার্তা উন্মুক্ত স্থানে সবার সামনে শপথ নেওয়া।’
তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিন কিভাবে নির্বাচন হয়েছে, কিভাবে শপথ নিয়েছে বা কিভাবে মন্ত্রিপরিষদ গঠিত হয়েছে এগুলো মানুষ দেখতে পায়নি, অংশগ্রহণও করেনি।
মানুষের অংশগ্রহণ সুনিশ্চিত করতে এই উদ্যোগ।’
নিরাপত্তার বিষয়টি খেয়াল রাখার আহবান জানিয়ে ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, ‘আমাদের মহাসচিব গত দুই দিন আগেও বলেছেন, আমাদের চেয়ারম্যান তারেক রহমান গত শনিবার যে সংবাদ সম্মেলন হয়েছে সেখানে তিনি দল-মত-নির্বিশেষে সবাইকে আহবান জানিয়েছেন সহযোগিতার জন্য। দায়বদ্ধতা জনগণের কাছে, দেশের কাছে, সংবিধানের কাছে, রাষ্ট্রের কাছে, প্রজাতন্ত্রের কাছে, এ কথা মনে করিয়ে দিতে এভাবে উন্মুক্ত স্থানে শপথ গ্রহণের আয়োজন করা হচ্ছে।’
দৃষ্টি নতুন মন্ত্রিসভায় : গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে তারেক রহমানের নেতৃত্বে নিরঙ্কুশ জয় পাওয়া বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভা কেমন হচ্ছে, এ নিয়ে মানুষের আগ্রহের শেষ নেই। নতুন এই মন্ত্রিসভার আকার কেমন হতে যাচ্ছে, সেখানে কারা স্থান পেতে যাচ্ছেন, সেটি নিয়ে মানুষের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল। বিএনপি দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এবার নবীন-প্রবীণের মিশেলে নতুন মন্ত্রিসভা গঠন করা হতে পারে।
বর্তমানে বাংলাদেশের সরকার কাঠামোয় ৪৩টি মন্ত্রণালয় রয়েছে। এই সংখ্যা কমিয়ে এবার ৩০-এ নামিয়ে আনার চিন্তা করছে বিএনপি। কারণ মন্ত্রিসভার আকার যত ছোট হবে, সরকারের ‘স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি’ নিশ্চিত করা তত সম্ভব হবে বলে মনে করেন দলটির দায়িত্বশীলরা।
সম্ভাব্য মন্ত্রিসভায় আলোচনায় আছেন যাঁরা : বিএনপির সিনিয়র নেতাদের মধ্যে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আব্দুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সালাহউদ্দিন আহমদ, মেজর হাফিজ উদ্দিন আহম্মদ, মির্জা আব্বাস, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এবং দলের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টুসহ আরো বেশ কয়েকজনের নাম আলোচনায় রয়েছে।
এ ছাড়া বিএনপি নেতা এহসানুল হক মিলন, রাশিদুজ্জামান মিল্লাত, দেওয়ান সালাহ উদ্দিন, হাবিবুর রশিদ হাবিব, সেলিম ভূঁইয়া, সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল আসাদুজ্জামান আসাদ, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, কিশোরগঞ্জ-৪ আসনে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ফজলুর রহমান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ আসনে নির্বাচিত সংসদ সদস্য মুশফিকুর রহমান, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, আবুল খায়ের ভূঁইয়া, শামা ওবায়েদ, ফারজানা শারমিন পুতুল, ডা. রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, আসাদুল হাবিব দুলু, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, রকিবুল ইসলাম বকুল আলোচনায় আছেন। এ ছাড়া সিরাজগঞ্জ-৬ আসন থেকে নির্বাচিত বিএনপি প্রার্থী প্রফেসর ড. এম এ মুহিত, খাগড়াছড়ি থেকে নির্বাচিত বিএনপি প্রার্থী আবদুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া, রাঙামাটি ও বান্দরবান আসন থেকে নির্বাচিত দুজনের মধ্যে একজন আলোচনায় আছেন।
টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী হিসেবে আলোচনায় আছেন বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, বেগম সেলিমা রহমান, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ইসমাঈল জবিউল্লাহ, বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল, হুমায়ূন কবীর, জিয়া হায়দারসহ কয়েকজন।
এদিকে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবীর রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী-খান সোহেলও আলোচনায় আছেন। মন্ত্রিসভায় বিএনপি জোট শরিকদের মধ্যে আলোচনায় আছেন আন্দালিব রহমান পার্থ, জোনায়েদ সাকি, নুরুল হক নুর, ববি হাজ্জাজসহ কয়েকজন। প্রধানমন্ত্রীসংশ্লিষ্ট বড় কোনো দায়িত্বে যাচ্ছেন তারেক রহমানের কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। এ ছাড়া বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহাদী আমিনও প্রধানমন্ত্রীসংশ্লিষ্ট কোনো দায়িত্ব পেতে পারেন বলে আলোচনায় রয়েছে।
মন্ত্রিসভায় কারা স্থান পাচ্ছেন এমন প্রশ্নের জবাবে ডা. জাহিদ বলেন, ‘কয়েক ঘণ্টা পরে আপনারা সবাই সেটা জানতে পারবেন। এটা উন্মুক্ত বিষয়। কাজেই এটার জন্য একটু ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করা ভালো।’
বাংলাবার্তা/এমএইচ
.png)
.png)
.png)



