ফাইল ছবি
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক দল বা প্রার্থীর পক্ষে প্রচারে অংশগ্রহণের ওপর সরকারের উপদেষ্টাদের জন্য বিধিনিষেধ আরোপের বিষয়ে চিন্তা-ভাবনা শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ ব্যাপারে একটি খসড়া সংশোধনী প্রস্তুত করা হয়েছে, যা আচরণ বিধিমালায় অন্তর্ভুক্ত হবে।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন সচিবালয় একটি খসড়া তৈরি করেছে, যেখানে ‘সরকারি সুবিধাভোগী অতিগুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’র সংজ্ঞায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদেরসহ সমপর্যায়ের ব্যক্তিদের। এর মাধ্যমে তারা যেন কোনো প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারে অংশগ্রহণ করতে না পারেন, তা নিশ্চিত করতে হবে।
ইসি সূত্র আরও জানায়, ২০ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির সভায় এই বিষয়ে একটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। এরপর ২০ মার্চ এ সংক্রান্ত নির্দেশনা প্রেরণ করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার গতকাল এক সাক্ষাৎকারে বলেন, "আমরা এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাইনি, তবে উপদেষ্টাদের নির্বাচনি কার্যক্রমে অংশগ্রহণের বিষয়ে বিধি সংযোজনের চিন্তা-ভাবনা চলছে।"
আচরণ বিধিমালার খসড়ায় আরও কিছু সংশোধনী আনা হয়েছে, যাতে নির্বাচনী আচরণ বিধি লঙ্ঘন করলে প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করার ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনকে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নির্বাচনী প্রচারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে, তবে মিছিলের সুযোগ ফিরিয়ে আনা হলেও জনসভা ও বিলবোর্ড ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
এছাড়া, নির্বাচনী প্রচারে ব্যবহৃত পোস্টারে প্লাস্টিক ব্যানার এবং পলিথিনের ব্যবহার নিষিদ্ধ করারও প্রস্তাব করা হয়েছে। মাইক ব্যবহারের ক্ষেত্রে শব্দের স্তর ৬০ ডেসিবেল রাখতে হবে বলে খসড়ায় উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ২২ জন উপদেষ্টার পাশাপাশি উপদেষ্টা মর্যাদায় আরও তিনজন এবং প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় চারজন বিশেষ সহকারী রয়েছেন, যারা নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বেন।
আচরণ বিধিমালায় নতুন বিধান যুক্ত হলে, এইসব সরকারি কর্মকর্তারা সরকারি অথবা আধাসরকারি তহবিল থেকে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে অনুদান বা বরাদ্দ দিতে পারবেন না, এবং নির্বাচনী কর্মকাণ্ডে সরকারি কর্মসূচির অংশ হিসেবে যুক্ত হতে পারবেন না।
খসড়া সংশোধনীর মধ্যে আরও উল্লেখযোগ্য কিছু বিধান হলো জাতীয় সংসদ ভেঙে যাওয়ার সময় থেকে নির্বাচনের পরের ৪৫ দিন পর্যন্ত সময়ের ভাগীকরণ। নির্বাচন-পূর্ব, নির্বাচনকালীন এবং নির্বাচন-পরবর্তী সময় হিসেবে তিনটি ভাগে এই সময় বিভক্ত করা হয়েছে, এবং আচরণ বিধিমালা কার্যকর থাকবে শুধু নির্বাচনের মধ্যবর্তী সময়ের মধ্যে।
এই সংশোধনী খসড়াটি চূড়ান্ত করার জন্য আরও বৈঠক প্রয়োজন হবে বলে ইসি সূত্র জানায়।
বাংলাবার্তা/এমএইচ
.png)
.png)
.png)



