ছবি: সংগৃহীত
দেশের নিরাপত্তা বাহিনী জানাচ্ছে, অক্টোবর মাসে নাশকতার ঝুঁকি এবং অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করার জন্য কিছু কুচক্রী মহল বিশেষভাবে সক্রিয়। সেপ্টেম্বর মাসে এ ধরনের বড় ধরনের ঘটনার চেষ্টা ব্যর্থ হওয়া সত্ত্বেও, অক্টোবরে এসব অপপ্রচেষ্টা আরও জোরালোভাবে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে পরাজিত ফ্যাসিস্ট শক্তি দেশি-বিদেশি দোসরদের সহায়তায় অন্তর্বর্তী সরকারকে উৎখাত করার লক্ষ্য নিয়ে কার্যক্রম শুরু করেছে।
গোপন সূত্র জানায়, দেশের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা ইতোমধ্যেই সরকারের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সতর্কবার্তা ও ধারণাপত্র প্রদান করেছে। এছাড়াও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে হালনাগাদ সঠিক তথ্য প্রদানের মাধ্যমে আগাম প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পুলিশ সিক্রেট অ্যাপসের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিচ্ছে এবং কিছু সন্দেহভাজন কর্মকর্তা ও গোষ্ঠীর ওপর নজর রাখা হচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নিজেদের ভেতরের ঢালাও তথ্য ফাঁসকারী সদস্যদের বিরুদ্ধে বিশেষ কৌশল নিতে হয়েছে। এই সন্দেহভাজন কর্মকর্তাদের কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণের জন্য অলিখিত কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স টিম গঠন করা হয়েছে।
সূত্র অনুযায়ী, দেশের বাইরে অবস্থানরত ফ্যাসিস্টদের একটি কোর গ্রুপ বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে নাশকতার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিভ্রান্ত করার জন্য ঝটিকা মিছিল, হঠাৎ বড় জমায়েত এবং পাল্টা হামলার মতো কার্যক্রম চালাতে চায়। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় দ্রুত জনসমাগম ঘটানো তাদের মূল লক্ষ্য।
পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক জানান, কোনো সন্ত্রাসবিরোধী কাজ হলে কেউ রেহাই পাবে না। পুলিশ ইতোমধ্যেই গ্রেফতার ও অভিযানের মাধ্যমে নাশকতার চক্রের বেশিরভাগকে শনাক্ত করেছে। তবে সমস্যা হচ্ছে কিছু তথ্য নিজেদের মধ্যেই ফাঁস হচ্ছে। এজন্য কর্মকর্তাদের সতর্ক থাকা ও তথ্য সংরক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ।
পুলিশ সূত্র জানাচ্ছে, নাশকতাকারীরা সমাজের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের টার্গেট করে গুপ্ত হামলা চালানো, চিহ্নিত ছিনতাইকারী ও ডাকাতদের সংঘটিত করা, ঝটিকা মিছিলের বাধা দিলে পাল্টা হামলা চালানো এবং ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে হঠাৎ লাখো লোক জড়ো করার মতো পরিকল্পনা করছে। এছাড়াও ধর্মীয় সেনসিটিভিটি কাজে লাগিয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিঘ্নিত করার চেষ্টা রয়েছে।
পুলিশের সাইবার ইউনিটও নাশকতাকারীদের কার্যক্রম মনিটর করছে। তারা বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া এবং ডিজিটাল চ্যানেলের মাধ্যমে মিছিলের পরিকল্পনা পর্যবেক্ষণ করছে। ডিএমপির ক্রাইম ডিভিশন নিয়মিত হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ও জরুরি জুম মিটিংয়ের মাধ্যমে মাঠে থাকা অফিসারদের সতর্ক করছে। বিশেষ কোর গ্রুপ সঠিক গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ এবং অ্যাকশন প্ল্যান প্রণয়নের কাজে নিয়োজিত।
গত ২৪ সেপ্টেম্বর রাজধানীতে গণজমায়েতের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় ২৪৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপের কারণে গ্রিন রোড থেকে ধানমন্ডি ৩২ পর্যন্ত শাপলা চত্বরের মতো বড় জমায়েত ব্যর্থ হয়েছে। এছাড়াও শেখ হাসিনার জন্মদিনের সময়ও নাশকতার পরিকল্পনা সফল করা যায়নি।
নির্বাচনমুখী প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সত্যিকার ঐক্য না থাকলে ফ্যাসিস্টদের ষড়যন্ত্র আরও জোরালো হবে। পুলিশের মধ্যে কিছু প্রভাবশালী কর্মকর্তা নিজেদের রাজনৈতিক পছন্দ অনুযায়ী তথ্য ফাঁস করার কারণে অভিযান ব্যর্থ হয়েছে। এজন্য নিরাপত্তা সংস্থা ও পুলিশের জন্য অক্টোবর মাস চ্যালেঞ্জিং হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার ধারাবাহিক তৎপরতার ফলে আশা করা হচ্ছে, অক্টোবর মাসে সম্ভাব্য নাশকতা সময়মতো প্রতিহত করা সম্ভব হবে। এই কঠিন পরিস্থিতিতে সতর্কতা, সমন্বয় এবং কার্যকর গোয়েন্দা তথ্যই দেশের শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মূল হাতিয়ার।
বাংলাবার্তা/এমএইচ
.png)
.png)
.png)



