ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশের আগামী জাতীয় নির্বাচন নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলকে অবহিত করবেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বর্তমানে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্র সফরে রয়েছেন তিনি। নিউইয়র্কে অবস্থানকালে মঙ্গলবার (২৪ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় এক ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
প্রেসসচিব সাংবাদিকদের জানান, প্রধান উপদেষ্টা বিশ্বনেতাদের স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, বাংলাদেশের পরবর্তী জাতীয় নির্বাচন আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধেই অনুষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, “আমাদের মূল বার্তা হলো—১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে মৌলিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ, গ্রহণযোগ্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন করা হবে।”
শফিকুল আলম আরও বলেন, প্রধান উপদেষ্টা আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনে আনুষ্ঠানিক ভাষণ দেবেন। সেখানে তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের ১৪ মাসে গৃহীত নানা পদক্ষেপ তুলে ধরবেন।
-
প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক সংস্কার কার্যক্রম,
-
অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া,
-
এবং গণতান্ত্রিক রূপান্তরের রোডম্যাপ—এই তিনটি মূল বিষয় থাকবে তার বক্তব্যে।
এ ছাড়া রোহিঙ্গা সংকট, বিচার ব্যবস্থার সংস্কার, নির্বাচন প্রস্তুতি এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিষয়ও তিনি বিস্তারিত তুলে ধরবেন।
প্রধান উপদেষ্টার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান ইতোমধ্যেই বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচনকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং পূর্ণ সমর্থনের আশ্বাস দিয়েছেন। প্রেসসচিব বলেন, “সাম্প্রতিক ডাকসু ও জাকসু নির্বাচনের মতোই জনগণ জাতীয় নির্বাচনেও অবাধে ভোট দিতে পারবেন। আন্তর্জাতিক মহলও সেই আস্থা দেখিয়েছে।”
এক প্রশ্নের জবাবে শফিকুল আলম জানান, অন্তর্বর্তী সরকার এবং দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে কোনো দূরত্ব নেই। সরকার নিয়মিত রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বৈঠক করছে এবং তাদের মতামতকে গুরুত্ব দিচ্ছে। এতে নির্বাচনকে ঘিরে একটি সমঝোতার পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
ব্রিফিংয়ে আওয়ামী লীগের অতীত কর্মকাণ্ড প্রসঙ্গেও মন্তব্য করেন প্রেসসচিব। তিনি বলেন, “২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে আমরা দেখেছি তারা কী করেছে। তাদের ১৫ বছরের শাসনামলে গুম, খুন, হাজার হাজার মিথ্যা মামলা হয়েছে। এখন দেখুন আওয়ামী লীগের অবস্থা কোথায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে—তাদের আর কোনো বন্ধু নেই।”
তিনি আরও যোগ করেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও আওয়ামী লীগের প্রতি আস্থা ও সমর্থন নেই বললেই চলে। অথচ বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার গঠন হওয়ার পর থেকেই গণতন্ত্র, মানবাধিকার এবং সুশাসন পুনরুদ্ধারে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ইতিবাচকভাবে দেখছে।
প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, এবার নির্বাচন হবে “জনগণের ভোটের উৎসব।” সব দল অংশগ্রহণ করবে, ভোটকেন্দ্রে থাকবে উৎসবমুখর পরিবেশ, এবং জনগণ ভয়-ভীতিমুক্তভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে।
প্রধান উপদেষ্টা ইউনূসের আসন্ন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ভাষণকে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ সেখানে তিনি শুধু নির্বাচন নয়, দেশের সংস্কার, উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠা নিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরবেন। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি পুনর্গঠনে এই সফর বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
বাংলাবার্তা/এমএইচ
.png)
.png)
.png)



