ছবি: সংগৃহীত
ঢাকা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আবারও নাটকীয়ভাবে ধরা পড়েছে ইয়াবা পাচারের নতুন কৌশল। এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এএপি) এক বিশেষ অভিযানে বিমানযাত্রী বেশে কক্সবাজার থেকে ঢাকায় আসা দুই নারীকে আটক করেছে। আটক দুই জনের মধ্যে রয়েছেন রোজিনা (৪০) এবং তার মেয়ে ফাহমিদা ইয়াসমিন (২০)। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে মোট ৭৫৮০ (সাত হাজার পাঁচশত আশি) পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, যার বাজারমূল্য কোটি টাকারও বেশি বলে ধারণা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
ঘটনাটি ঘটেছে ২৩ সেপ্টেম্বর, মঙ্গলবার। বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট BS-146 যোগে দুপুর ১টা ৩৫ মিনিটে কক্সবাজার থেকে ঢাকায় পৌঁছান দুই নারী যাত্রী। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের সদস্যরা তাদের নজরদারিতে রাখেন। সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করার পর বিমানবন্দরের অভ্যন্তরীণ টার্মিনাল থেকে তাদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এএপি কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করে যে, বিশেষ কায়দায় ট্রলি ব্যাগ এবং দেহে ইয়াবা লুকিয়ে আনা হয়েছে। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তল্লাশি চালিয়ে দুইটি ট্রলি ব্যাগের হাতলের স্টিলের ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয় ৫৮০০ (পাঁচ হাজার আটশত) পিস ইয়াবা। এছাড়া নারী পুলিশ সদস্যরা পৃথকভাবে দেহ তল্লাশি চালিয়ে রোজিনার (৪০) পরিহিত ছেলোয়ারের ভেতরে বিশেষ কৌশলে লুকানো ১৭৮০ (এক হাজার সাতশত আশি) পিস ইয়াবা উদ্ধার করেন।
প্রথমে ধারণা করা হলেও আটককৃতরা মা-ছেলে নয়, বরং মা-মেয়ে। এএপি জানায়, দীর্ঘদিন ধরে তারা মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত এবং একসঙ্গে কাজ করছিল। কক্সবাজার থেকে ইয়াবা এনে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করাই ছিল তাদের মূল কাজ।
আটক রোজিনা ও ফাহমিদা ইয়াসমিনের বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ এর ৩৬(১) এর ১০(গ)/৪১ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, তারা বড় একটি ইয়াবা চক্রের সক্রিয় সদস্য এবং তাদের মাধ্যমে একটি আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক পরিচালিত হচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন-১৩ এর অপারেশনাল কমান্ডার পুলিশ সুপার মোজাম্মেল হক সাংবাদিকদের বলেন— “সম্প্রতি বিমানযাত্রী সেজে ইয়াবা পরিবহনের প্রবণতা বেড়ে গেছে। চক্রগুলো বিমানবন্দরকে ব্যবহার করার চেষ্টা করছে। তবে আমরা সতর্ক রয়েছি। প্রতিটি যাত্রী, বিশেষ করে সন্দেহভাজনদের কড়া নজরদারিতে রাখা হচ্ছে। বিমানবন্দর ব্যবহার করে মাদকসহ কোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড যাতে না ঘটে, সে ব্যাপারে আমরা বরাবরের মতোই সর্বোচ্চ তৎপর আছি।”
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, কক্সবাজার থেকে ঢাকায় ইয়াবা পাচার একটি পুরনো প্রবণতা। আগে মূলত বাস ও ট্রাক ব্যবহার করে ইয়াবা আসত। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে বিমান রুটকেও বেছে নিচ্ছে চক্রগুলো। দ্রুত পরিবহন, কম সময়ের যাত্রা ও যাত্রী বেশে ছদ্মবেশের সুযোগ থাকায় এ পদ্ধতি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। যদিও ঝুঁকিও রয়েছে বেশি, কারণ বিমানবন্দরে নজরদারি অনেক কঠোর।
তদন্ত কর্মকর্তাদের ভাষ্য, আটক মা-মেয়ে দীর্ঘদিন ধরেই ইয়াবা ব্যবসায় জড়িত। তাদের বিরুদ্ধে পূর্বে অভিযোগ থাকলেও সুনির্দিষ্ট প্রমাণ না থাকায় ধরা সম্ভব হয়নি। এবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের হাতে-নাতে ধরা সম্ভব হয়েছে।
বাংলাদেশে ইয়াবা মাদকের বিস্তার ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে কক্সবাজার সীমান্ত দিয়ে মিয়ানমার থেকে প্রবেশ করে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে তা ছড়িয়ে পড়ছে। প্রতিনিয়তই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিভিন্ন সময় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার করছে, তবুও নতুন নতুন কৌশলে চক্রগুলো সক্রিয় থাকছে।
এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের হাতে ধরা পড়া মা-মেয়ে ইয়াবা চক্রের সক্রিয় অংশীদার। ট্রলি ব্যাগের হাতলের ভেতর ও ছেলোয়ারের মধ্যে লুকিয়ে ইয়াবা আনার কৌশল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নতুন করে ভাবাচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, এবং জিজ্ঞাসাবাদে আরও বড় চক্রের সন্ধান মেলার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিমানবন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এ ধরনের মাদক পাচার দেশের জন্য বড় হুমকি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, যাত্রীদের নিরাপত্তা ও দেশের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত রাখতে বিমানবন্দর ঘিরে নজরদারি আরও বাড়ানো হবে।
বাংলাবার্তা/এসজে
.png)
.png)
.png)



