ছবি: সংগৃহীত
জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন (ইসি) রাজনৈতিক বিবেচনায় স্থাপিত ভোটকেন্দ্র বাদ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। সোমবার অনুষ্ঠিত কমিশনের মাসিক সমন্বয় সভায় মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের এই নির্দেশনা দেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।
সভায় জানানো হয়, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটার সংখ্যা বাড়লেও ভোটকেন্দ্র বাড়বে না। প্রতি কেন্দ্রে ভোটকক্ষের ধারণক্ষমতা বাড়িয়ে নতুন ভোটার যুক্ত করতে হবে। অর্থাৎ প্রতিটি ভোটকক্ষে ১০০ জন অতিরিক্ত ভোটার যুক্ত হবে। এর ফলে সারা দেশে ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ৪৫ হাজারের বেশি হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তা ৪২ হাজারের মতোই থাকবে। একইভাবে ভোটকক্ষও খুব বেশি বাড়বে না।
ইসির কর্মকর্তারা জানান, গত নির্বাচনগুলোতে (২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪) রাজনৈতিক বিবেচনায় যেসব কেন্দ্রে ভোট হয়েছে, এবার সেগুলো বাদ দেওয়া হবে। রাজনৈতিক দলগুলোর প্রভাবাধীন প্রতিষ্ঠান, বিশেষ করে ক্ষমতাসীনদের নিয়ন্ত্রিত স্কুল, কলেজ বা ক্লাবগুলোকে কেন্দ্র হিসেবে নির্ধারণ করা হবে না। নীতিমালা অনুযায়ী এগুলো বাদ দেওয়ার জন্য মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সভায় অংশ নেওয়া জেলা ও আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তারা জানান, পূর্ববর্তী সময়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), থানা ওসি, জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও পুলিশ সুপার (এসপি) প্রভাব খাটিয়ে নিজেদের অনুকূল জায়গায় ভোটকেন্দ্র নির্ধারণ করতেন। ফলে অনেক ভোটকেন্দ্র স্থাপন হয়েছিল রাজনৈতিক স্বার্থে। কমিশনের নতুন নির্দেশনায় এবার সে সুযোগ থাকবে না।
ইসির একাধিক কর্মকর্তা মনে করেন, রাজনৈতিক বিবেচনায় তৈরি করা এসব কেন্দ্র নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করত। এবার সেই ঝুঁকি কমবে। তারা জানান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো, বিদ্যুৎ, টয়লেট, নিরাপত্তা প্রাচীর এবং পরিবহন সুবিধা বিবেচনায় রেখে ভোটকেন্দ্র নির্ধারণ করা হবে। এরই মধ্যে উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তারা প্রাথমিক তালিকা তৈরি শুরু করেছেন।
ইসি সচিবালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, নতুন নীতিমালা অনুযায়ী ভোটকেন্দ্র ও কক্ষ নির্ধারণ হবে। প্রতিটি ভোটকক্ষে পুরুষ ভোটারের সংখ্যা হবে সর্বোচ্চ ৬০০ এবং নারী ভোটারের সংখ্যা হবে ৫০০। পূর্ববর্তী নীতিমালায় যথাক্রমে ৫০০ ও ৪০০ জন নির্ধারিত ছিল।
এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যয় কমানো এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বিষয়ও বড় কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। একটি ভোটকেন্দ্রে গড়ে ৩৫ জন কর্মী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করতে হয়। কেন্দ্রের সংখ্যা না বাড়ালে জনবল কম লাগবে এবং ব্যয়ও অন্তত ১০০ কোটি টাকা কমে যাবে।
তবে কর্মকর্তারা মনে করছেন, এতে ভোটারদের ভোগান্তি বাড়তে পারে। কারণ সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণে যদি প্রতি কক্ষে ৬০০ ভোটার আসে, তবে প্রতি মিনিটে একজন ভোট সম্পন্ন করতে হবে। এটি বাস্তবায়ন কঠিন হতে পারে।
তবুও কমিশনের অবস্থান স্পষ্ট—রাজনৈতিক ভোটকেন্দ্র বাদ দিয়েই নতুন নীতিমালা কার্যকর করা হবে। ডিসেম্বরের মধ্যে তফসিল ঘোষণা এবং আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। তাই ভোটকেন্দ্র চূড়ান্ত করার কাজ শিগগিরই শুরু হবে।
বাংলাবার্তা/এমএইচ
.png)
.png)
.png)



