ছবি: সংগৃহীত
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইতে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়ন মাত্র শূন্য দশমিক ৬৯ শতাংশে থেমে গেছে। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে এই হতাশাজনক চিত্র উঠে এসেছে। সাত বছরের মধ্যে এটি সর্বনিম্ন বাস্তবায়ন হার।
এবারের এডিপিতে মোট বরাদ্দ ধরা হয়েছে ২ লাখ ৩৮ হাজার ৬৯৫ কোটি টাকা। অথচ জুলাই মাসে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগ মিলিয়ে ব্যয় হয়েছে মাত্র ১ হাজার ৬৪৪ কোটি টাকা। অর্থাৎ গোটা বরাদ্দের সামান্য অংশও কাজে লাগাতে পারেনি প্রশাসন।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, অন্তত ১২টি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় ও বিভাগ জুলাইয়ে উন্নয়ন প্রকল্পে এক টাকাও খরচ করতে পারেনি। এর মধ্যে রয়েছে—
-
পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়
-
স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবারকল্যাণ বিভাগ
-
ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়
-
জননিরাপত্তা বিভাগ
-
পার্বত্যবিষয়ক মন্ত্রণালয়
-
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়
-
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়
-
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
-
আইএমইডি
-
বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন
-
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)
-
সংসদবিষয়ক সচিবালয়
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এতগুলো মন্ত্রণালয়ের সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয়তা প্রকল্প বাস্তবায়নের দুর্বল সমন্বয় ও بيرোক্রেটিক জটিলতার প্রতিফলন।
প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে এডিপি বাস্তবায়ন হয়েছিল শূন্য দশমিক ৫৭ শতাংশ, যা তৎকালীন সর্বনিম্ন ছিল। এরপর থেকে ধীরে ধীরে বাস্তবায়ন কিছুটা বাড়লেও গত দুই অর্থবছরে আবারো কমেছে।
-
২০২৪-২৫ অর্থবছরে জুলাইয়ে বাস্তবায়ন ছিল ১.০৫%
-
২০২৩-২৪ অর্থবছরে জুলাইয়ে ছিল ১.২৭%
-
২০২২-২৩ এ ছিল ০.৯৬%
-
২০২১-২২ এ ১.১৪%
-
২০২০-২১ এ ১.৫২%
-
২০১৯-২০ এ ১.৮৩%
এই তুলনাই প্রমাণ করে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শুরুটা উন্নয়ন খাতের জন্য একেবারেই হতাশাজনক।
গত ১৭ আগস্ট একনেক বৈঠক শেষে পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ সাংবাদিকদের বলেন— "জুলাইয়ে এডিপি বাস্তবায়ন এক শতাংশেরও কম, যা গ্রহণযোগ্য নয়। আগের বছরের মতো এবার আর অজুহাত দেয়া যাবে না।"
তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, পরিকল্পনা প্রণয়ন ও অনুমোদন যত দ্রুত হয়, বাস্তবায়নেও তত গতি আনতে হবে, নইলে জাতীয় অর্থনীতি বড় ধরনের চাপের মুখে পড়বে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, বাজেট ঘাটতি, বিদেশি ঋণ নির্ভরতা, ক্রমবর্ধমান প্রকল্প ব্যয় এবং মন্ত্রণালয়গুলোর ‘কাজ শুরু করতে দেরি করার প্রবণতা’ এডিপি বাস্তবায়নে প্রধান অন্তরায়। তারা মনে করছেন, এভাবে শুরু হলে পুরো অর্থবছরের উন্নয়ন পরিকল্পনা ব্যাহত হতে পারে।
বাংলাবার্তা/এমএইচ
.png)
.png)
.png)



